• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

কোটালীপাড়ায় স্কুল শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করলেন চেয়ারম্যান

  সারাদেশ ডেস্ক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৪৩
স্কুল শিক্ষক
হাসপাতালে আহত স্কুলছাত্র উত্তম কুমার বাড়ৈ ( ছবি : সংগৃহীত)

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈর বিরুদ্ধে অমূল্য রতন হালদার নামে এক স্কুল শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের ধারাবাশাইল বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার আহত স্কুল শিক্ষককে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গোটা ইউনিয়ন জুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে।

আহত অমূল্য রতন হালদার উপজেলার গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক এবং কান্দি ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামের মহেন্দ্রলাল হালদারের ছেলে। তিনি বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন।

সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার মাচারতারা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সবুজ ঘরামী নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে শ্রেণি কক্ষে পড়া না পারার কারণে গণিত শিক্ষক আশীষ চন্দ্র বড়াল মারধর করেন। এ ঘটনা নিয়ে সবুজ ঘরামীর পরিবারের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র হালদার সবুজ ঘরামীর পরিবারকে চেপে যেতে বলেন। ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈর স্ত্রী জেলা পরিষদ সদস্য রীনা রাণী মণ্ডল। ঘটনাটি সবুজ ঘরামীর বাবা সুশীল ঘরামী রীনা রাণী মণ্ডলকেও জানান।

এ বিষয় নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় ধারাবাশাইল বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ ও নারায়ণ চন্দ্র হালদারের ভাই গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অমূল্য রতন হালদারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ ও তার ভাই মনি বাড়ৈ শিক্ষক অমূল্য রতন হালদারকে মারধর করেন।

অমূল্য রতন হালদার বলেন, চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ তার ভাই মনিকে সঙ্গে নিয়ে আমাকে মারপিট করে আমার কপালে তার পায়ের স্যান্ডেল লাগিয়ে বলে তুই আমার স্যান্ডেলেরও যোগ্য না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকে ও তোর ভাইকে দেখে নেব।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈর কাছে জানতে চাইলে হলে তিনি বলেন, আমি শিক্ষক অমূল্য হালদারকে মারধর করিনি। অমূল্য হালদার মাচারতারা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিষয়টি নিয়ে আমার মা-বাপ তুলে গালিগালাজ করেছেন। তখন আমার ভাই মনির সঙ্গে তার একটু হাতাহাতি হয়। অমূল্য রতন হালদার শিক্ষক হলেও এলাকার লোকজন তার বিরুদ্ধে কয়েক মাস আগে থানায় জিডি করেছে।

এছাড়া অমূল্য রতন হালদারের ভাই মাচারতারা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র হালদার বিদ্যালয়টিতে দুর্নীতি আখড়ায় পরিণত করেছে। বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমার স্ত্রী রীনা রাণী মণ্ডল প্রতিবাদ করায় তারা দুই ভাই আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মিথ্যা রটাচ্ছে।

মাচারতারা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র হালদার বলেন, চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈর সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি তার ক্ষমতাবলে এলাকায় রামরাজত্ব কায়েম করেছেন।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ লুৎফর রহমান ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন, শিক্ষকের গায়ে হাত দেওয়াটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। তবে উভয়পক্ষ থেকেই অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড