• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অযত্নে অবহেলায় জরাজীর্ণ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত তারিনী ভূইয়ার বাড়ি

  নরসিংদী প্রতিনিধি

০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:০০
তারিনী ভূইয়ার বাড়ি
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত তারিনী ভূইয়ার বাড়ি (ছবি : দৈনিক অধিকার)

নরসিংদীর মাধবদীর তারিনী ভূঁইয়ার বাড়ি খ্যাত মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি আজ অযত্নে অবহেলায় ধ্বংসস্তুপের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। মাধবদীতে এলাকার পুরনো ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে রাখতে মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত আলগী তারিনী ভূইয়া বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচর্যা, জমির পরিমাণ নির্ধারণ ও প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে বাড়িটিকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। 

বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য সূত্রে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় পাঁচশত বছরে আগে বর্তমান নরসিংদী সদর উপজেলার নুরালাপুর ইউনিয়নের আলগী গ্রামকে কেন্দ্র করে ব্রহ্মপুত্র নদের চর ও এর আশেপাশে বসতি গড়ে উঠে। এ এলাকায় মহেশ্বরদী পরগনার অধীনে ছিল-যা দীর্ঘদিন ঈশা খাঁ ও মোগল শাসকরা রাজত্ব করেছেন। ওই সময় আলগী গ্রামে বসতি গড়ে তোলেন তারিনী  ভূইয়া পূর্ব-পুরুষ যার একজনের  নাম বানেশ্বর। 

তারিনী বাবুর তিন ভাই ছিলেন- আশ্বিনী কুমার ভূইয়া ও সতীশ ভূইয়া। ১৯৫০ সালের আগে প্রচুর ধনদৌলত ও জমি-জমার মালিক ছিলেন তারা। তাই নামের শেষে তালুকদার ও ভূইয়া নাম সংযুক্ত থাকত। সতীশ ভূইয়ার প্রকৃত নাম ছিল সতী প্রসন্ন ভৌমিক, তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ে এমএবিএল পাশ। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি ও শানা-মাকুর পাইকারি ব্যবসা করতেন। এছাড়া ঢাকা ও ভারতে তার ব্যবসা ছিল। তারিনী ভ‚ইয়ার দুই ভাই ব্যবসায় উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্তে থাকতেন। তাদের অর্থ সম্পদে ঘেরা অট্টালিকায় মাত্র দুই তিনজন পাহাদার ছিল।

হঠাৎ একদিন রাতে একই উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের ডাকাত সর্দার হোমা দাস তার তিন সহকর্মী ডাকাতকে নিয়ে তারিনী ভূইয়া বাবুর বাড়ি ঘেরাও করে। পরে  ডাকাত দল তারিনী বাবুকে হত্যা ও অর্থ কড়ি লুট করে নিয়ে যায়। সে সময় তারিনী ভূইয়ার মৃত্যুতে তিনদিন ধরে শোক পালিত হয়। এছাড়া ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে বেশ কয়েক বার দাঙ্গা হামলা হয় তারিনী ভূইয়ার বংশধরদের ওপর। সুযোগ বুঝে তারিনী ভূইয়ার বংশধররা কিছু জমি জমা হস্তান্তর করেন, আর বেশির ভাগ জায়গা-জমি ফেলে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে নামে বে-নামে দখল হচ্ছে ভূইয়া বাড়ির জমি।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধকালীন পরিত্যাক্ত বাড়িতে ছিল মুক্তি বাহিনীর আস্তানা। যুদ্ধ চলাকালীন ১৬ অক্টোবর পাক হানাদার বাহিনী আলগী গ্রামে তারিনী বাবুর ভূইয়াবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সেখানে অবস্থানরত ছয় মুক্তিযোদ্ধাকে একটি কাঁঠাল গাছে বেঁধে গুলি করে ও বেয়নেটের আঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

সাংবাদিকসহ ‘এগারজন’ সংগঠনের মাধবদী শাখার নেতাদের তারিনী ভূঁইয়ার বাড়ি পরিদর্শন (ছবি: দৈনিক অধিকার)  

শুক্রবার (৬ সেস্টেম্বর) দৈনিক অধিকারের নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান ও মাধবদী থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহীনসহ  ‘এগারজন’ সংগঠনের মাধবদী শাখার সভাপতি আহমাদুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন সাদ্দাম, সহ-সভাপতি কাউছার আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য ইয়ানুর, ফাহাদ বাদশা, এস এ সিফাত, আরফি, জয়, শুক্কুর আলীসহ একটি দল তারিনী ভূইয়া বাড়ি পরিদর্শন করেন। 

এসময় মাধবদী থানা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহিন জানান, অবেহেলিত তারিনী বাবুর ভূইয়া বাড়ির ঐতিহ্য রক্ষা ও এখানের মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতি আকড়ে ধরে রাখা অতি জরুরি। সেই সঙ্গে একটি মুক্তিযুদ্ধ কর্নার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়া দর্শনার্থীরা তারিনী ভূইয়ার বাড়ির প্রাচীর নির্মাণ করে দৃষ্টিনন্দন ও একটি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, একটি তথ্য কেন্দ্র স্থাপন করার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এ বাড়িটি রক্ষা করার জন্য সরকারের কাছে আহ্ববা জানান।

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড