• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রাজশাহীতে বিএনপি নেতা গ্রেফতার

  রাজশাহী প্রতিনিধি

০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:৩১
বিএনপি নেতা
বিএনপি নেতা অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম (ছবি: দৈনিক অধিকার)

ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগে রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি কাটাখালি আদর্শ কলেজের শিক্ষক। তার বাড়ি কাটাখালি পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামে। 

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে কাটাখালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তবে স্থানীয় বিএনপির দাবি, কাটাখালি পৌরসভার মেয়রের ষড়যন্ত্রে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত পৌরসভা নির্বাচনে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম কাটাখালি পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ছিলেন। এছাড়াও অধ্যাপক সিরাজুল শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। সম্প্রতি একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নির্বাচিত হন।

কাটাখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কাটাখালি আদর্শ কলেজের এক ছাত্রী থানায় গিয়ে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় রাতেই তাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কাটাখালি থানা সূত্রে জানা গেছে, বৃস্পতিবার রাত ১টার দিকে কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী নিজের গাড়িতে করে আদর্শ কলেজের একটি ছাত্রীকে নিয়ে থানায় যান। এরপর ওই ছাত্রী সিরাজুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ গিয়ে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

কাটাখালি পৌরসভার মেয়রের ষড়যন্ত্রে ভিত্তিহীন অভিযোগে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আরেক সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আহবায়ক কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা মামুন।

তিনি বলেন, কাটাখালি পৌরসভার গত নির্বাচনে সামান্য ভোটে মেয়র আব্বাস আলীর কাছে পরাজিত হন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। আগামী নির্বাচনেও তিনি মেয়র প্রার্থী হবেন। এছাড়াও সম্প্রতি শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচন নিয়ে মেয়র আব্বাসের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়। এর জের ধরে সিরাজুল ইসলামকে সাজানো মামলা দিয়ে গ্রেফতার করানো হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা মামুন। তিনি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে মেয়র আব্বাস আলী ও অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ নির্বাচনে আটটি পদেই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল ইসলামের প্যানেল বিজয়ী হয়।

সূত্র আরও জানায়, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে ওই স্কুলের সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু মেয়র আব্বাস তার পক্ষের একজনকে সভাপতি করার জন্য সিরাজুল ইসলামে প্রস্তাব দেন। মেয়রের সে প্রস্তাবে সিরাজুল ইসলাম রাজি হননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়। যার কারণে পরিচালনা কমিটির ভোটের একমাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সভাপতি পদে নির্বাচন হয়নি।

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড