• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

কুমিরের দেশে একদিন

  শাহ্‌ মুহাম্মদ রুবেল, কক্সবাজার

২৪ আগস্ট ২০১৯, ১৩:০৩
কুমির
কক্সবাজারে খামারে বাণিজ্যিকভাবে কুমির চাষ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

কক্সবাজারের নাইক্ষ্যংছড়িতে ২০০৮ সালে ৫০টি অস্ট্রেলিয়ান ও মালেয়েশিয়ান প্রজাতির কুমির নিয়ে যাত্রা শুরু। আর এটি এখন এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কুমির খামার। তবে বাণিজ্যিকভাবে তারা কুমিরের চাষ শুরু করে ২০১০ সালে। সেখানে কুমিরের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। এরমধ্যে প্রায় ৪০০টি কুমির রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের প্রায় ২৫ একর সবুজ পাহাড়ি জমিতে গড়ে উঠেছে ‘আকিজ ওয়াইল্ড লাইফ ফার্ম লিমিটেড’ নামের কুমিরের খামারটি। এটি আকিজ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের একটি প্রতিষ্ঠান। 

                                      কক্সবাজারে খামারে বাণিজ্যিকভাবে কুমির চাষ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

জানা যায়, ২০০৮ সালে প্রথম দফায় প্রতিটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে ৫০টি কুমির আমদানি করে উন্মুক্ত জলাশয় এবং ১৫টি খাঁচায় আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দুই পাহাড়ের মাঝখানের ঝিরিতে অসংখ্য জলাশয় সৃষ্টি করে মাঝারি ও বড় আকারের পুরুষ ও স্ত্রী কুমির ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

একেকটি কুমির প্রাপ্তবয়স্ক হতে সময় লাগে প্রায় ১২ বছর। প্রাপ্তবয়স্ক একেকটি মাদি কুমির ৫০ থেকে ৬০টি করে ডিম দেয়। এরা ডিম দেয় সাধারণত বর্ষাকালে। ডিম থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রেখে ৮০ থেকে ৯০ দিনে ইনকিউবেটরে কুমিরের বাচ্চা ফোটানো হয়। 

বিদেশের বাজারে কুমিরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মালয়েশিয়ার হোটেল রেস্টুরেন্টে কুমিরের মাংশ চড়া দামে বিক্রি হয়। শুধু তাই নয় এর চামড়ার দাম আরও বেশি। এছাড়া দেশের বাজারে, বিশেষ করে চিড়িয়াখানাগুলোতে কুমিরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

এখানে কুমির চাষের পাশাপাশি প্রজাপতি চাষ, বার্ড পার্কসহ কয়েকটি কটেজ, ড্রাগন ফল, গরুর খামার, আম বাগান, রাবার বাগান, এবং মিউজিয়াম হাউজ নির্মাণ করে প্রকল্পটিকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। খামারটি গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে খামার কতৃপক্ষ।’ উঁচু পাহাড়ের ওপর ছোট্ট ঘের, এখানেই বসবাস প্রায় এক হাজারের মতো কুমিরের। ভয়ঙ্কর এসব প্রাণির দৌড়ঝাঁপ আর চোখ জুড়ানো নানা কসরত দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী আসেন এ খামারে। 

                          কক্সবাজারে খামারে বাণিজ্যিকভাবে কুমির চাষ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

জীবন আহসান এবং সেলিম রেজা দৈনিক অধিকারকে বলেন, কক্সবাজার ভ্রমণে এসে কুমির খামারটির কথা জানতে পারি। তাই কৌতূহল থেকে কুমির খামারে বেড়াতে এসে কুমির দেখলাম, দারুণ অনুভূতি। 

যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় দর্শনার্থীদের অনেক কষ্ট করে খামারে পৌঁছাতে হয়। তবে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে খামারটি পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হবে। তবে সড়ক যোগাযোগসহ স্থানীয় কিছু সমস্যা কুমির রফতানিতে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।  

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশের রপ্তানির তালিকায় সম্ভাবনার আরেকটি খাত হচ্ছে কুমির চাষ। আকিজ ওয়াইল্ড লাইফ ফার্ম লিমিটেড বান্দরবানে বাণিজ্যিকভাবে কুমিরের চাষ করছে। খামারের উন্নয়নে প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করছে। সড়ক যোগাযোগসহ স্থানীয় ছোট-খাটো সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

                                          কক্সবাজারে খামারে বাণিজ্যিকভাবে কুমির চাষ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

জানা যায়, ২০১০ সালের জুন মাসে ব্যবসায়িক কাজে আমেরিকা যান শেখ আজিজ। সেখানে ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর কুমিরের খামার ও প্রজনন কেন্দ্র দেখে উৎসাহিত হন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে কুমির পালনের চিন্তা আসে তার। কুমির চাষ ও প্রজননের উপযুক্ত অঞ্চল ও এলাকা বাছাইয়ের জন্য তিনি তখন বিদেশি এক কৃষিবিদকে আমন্ত্রণ জানান। বিদেশি কৃষিবিদ এসে দেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের ২৭১, তুমরু মৌজার পাহাড়ি টিলা ও ঝিরি এলাকাকে নির্বাচন করেন। প্রথম ১৮ মাস ১৬ জন মালয়েশিয়ান ও আমেরিকান কৃষিবিদ ও টেকনিশিয়ান এ প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করেন। পাশাপাশি দেশি কৃষিবিদ ও টেকনিশিয়ানদেরও কুমিরকে বশ মানানো ও পরিচালনা করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ১৮ মাস পর বিদেশি কৃষিবিদ ও টেকনিশিয়ানরা নির্ধারিত দায়িত্ব ও চুক্তি শেষ করে চলে যান। এরপর কুমির চাষ ও লালন-পালনের হাল ধরেন প্রশিক্ষিত দেশি টেকনিশিয়ানরা।

ওডি/এসজেএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড