• শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইয়াসমিন ট্রাজেডির আজ ২৪ বছর

  সুবল রায়, দিনাজপুর

২৩ আগস্ট ২০১৯, ২২:৫৫
ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস
ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস (ছবি : দৈনিক অধিকার)

আজ শনিবার ২৪ আগস্ট ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস। আজ থেকে ২৪ বছর পূর্বে ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরে কিছু বিপথগামী পুলিশের হাতে তরুণী ইয়াসমিন পৈশাচিকভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়। এর প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন দিনাজপুরবাসী। 

এতে চড়াও হয়ে পুলিশ প্রতিবাদী জনতার ওপর গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। আহত হয় প্রায় শতাধিক প্রতিবাদী জনতা। এই পৈশাচিক ঘটনায় বাংলাদেশসহ প্রতিবাদের ঝড় উঠে বিশ্বব্যাপী। এরপর থেকেই ২৪ আগস্ট দেশব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস পালিত হয়ে আসছে। 

১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ভোরে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী নৈশ কোচের সুপারভাইজার দিনাজপুরের যাত্রী ইয়াসমিনকে দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে একটি চায়ের দোকানের সামনে নামিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পরই সেখানে রাতে টহল পুলিশের একটি দল পৌঁছে ইয়াসমিনকে দিনাজপুর শহরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জোরপূর্বক পিক আপ ভ্যানে তুলে নেয়। 

এরপর পুলিশ দশমাইল সংলগ্ন সাধনা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইয়াসমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুরের সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে। 

এ সময় পুলিশ বিনা উস্কানিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করে। এতে আহত হয় প্রায় শতাধিক মানুষ। এতে উত্তেজিত জনতা তিনটি পুলিশ ফাঁড়ি, চারটি পুলিশ পিক আপ জ্বালিয়ে দিয়ে কোতোয়ালি থানায় আক্রমণ করে। শহরের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারফিউ জারি করা হয় এবং শহরে নামানো হয় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি)। 

তৎকালীন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার দোষী পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত ও গ্রেফতার এবং তৎকালীন পুলিশ সুপার মোতালেব হোসেন, জেলা প্রশাসক আব্দুল জব্বারসহ কোতোয়ালি থানায় কর্মরত সকল পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। 

পরবর্তীতে এই ঘটনায় ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট রংপুরে বিশেষ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পুলিশের এএসআই ময়নুল হোসেন, কনস্টেবল আব্দুস সাত্তার ও অমৃতলালকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। 

ওই দিনের ঘটনায় আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে অন্যতম মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি বলেন, নারীর সম্ভ্রম ও মর্যাদা রক্ষায় সেদিন দিনাজপুরবাসী রাস্তায় নেমেছিল প্রতিবাদ জানাতে। 

ইয়াসমিনের মা শরীফা বেগমের আক্ষেপ বর্তমান সরকার প্রধান তখন বিরোধী দলের নেত্রী থাকা অবস্থায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন চাকরি দিবেন কিন্তু আজও তা রক্ষা হয়নি। 

পুলিশের গুলিতে নিহত সামুর বিধবা স্ত্রীর অভিযোগ সেদিনের ঘটনায় রাজনৈতিক দল ও এনজিও গুলো সুযোগ সুবিধা নিলেও ১৯ বছরেও কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি। মাহমুদা বেগম তার দুই মেয়ে নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। 

পুলিশের গুলিতে আহত মনোজ এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেননি। দিনটিকে সামনে রেখে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী নির্যাতন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নারী সংগঠনের নেত্রীরা।

ইয়াসমিন ট্রাজেডি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৪ আগস্ট দেশব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বিভিন্ন সংগঠন। দিনাজপুরে দিবসটি পালনে মহিলা পরিষদ, সিপিবি, ছাত্র ইউনিয়ন, জাগপা, পল্লীশ্রীসহ বিভিন্ন এনজিও শোক র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড