• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

২১ আগস্ট গৌরীপুর শালিহর গণহত্যা দিবস

  ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

২১ আগস্ট ২০১৯, ১৪:০৭
ময়মনসিংহ
শালিহর গণহত্যায় শহীদের বেদি

১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শালিহর গ্রামে হিংস্র পাক হানাদাররা নিরীহ ১৩ জন এলাকাবাসীকে নির্মমভাবে হত্যা করে তাদের জিঘাংসা চরিতার্থ করে। পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজতে গিয়ে ওই দিন শালিহর গ্রামের নিরীহ ১৩ জনকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, পাক হানাদাররা ধরে নিয়ে যায় ছাবেদ আলী নামে স্থানীয় একজনকে পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাড়িতে লুটপাট করে শেষে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয়। 

রক্তঝরা দিনে এসব বীর শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর ২১ আগস্ট গৌরীপুর শালিহর গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে শহীদ বেদিতে পুষ্প বৃষ্টিতে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁদের আত্মত্যাগকে চির জাগরূক করে রাখা হয়।

স্মৃতি হাতরে গৌরীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম জানান, ‘১৯৭১’র ২১ আগস্ট পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা ট্রেনযোগে গৌরীপুরে আসে। পরে এরা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজতে গিয়ে পশ্চিম শালিহর গ্রামে হানা দিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবুল হাসিমের বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে লুটপাট করে শেষে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসিমের বাবা ছাবেদ আলীকে কিন্তু আজও তিনি ফিরে আসেননি!

তিনি আরও জানান, পাক বাহিনী শুধু অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে ক্ষান্ত হয়নি। শালিহর গ্রামের ১৩ জন নিরীহ মানুষকে ধরে এনে শালিহর কদমতলা নামক স্থানে ব্রাশফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে সেখানেই তাদের কবর দেয়া হয়। 

হানাদার পাক-বাহিনীর ব্রাশফায়ারে গণ শহীদরা হলেন- গৌরীপুর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের শালিহর গ্রামের মোহিনী কর, জ্ঞানেন্দ্র মোহন কর, যোগেশ চন্দ্র পন্ডিত, নবর আলী, কিরদা সুন্দরী, শচীন্দ্র চন্দ্র দাস, তাড়িনী মোহন দাস, কৈলাশ চন্দ্র দাস, শত্রেুাগ্ন দাস, রামেন্দ্র চন্দ্র দাস, কর মোহন সরকার, দেবেন্দ্র চন্দ্র দাস ও কামিনী মোহন দাস।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আরও বলেন, ২০০৮ সালে সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মরহুম ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকিরের হস্তক্ষেপে উল্লেখিত বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। 

তার পর থেকে প্রতিবছর ২১ আগস্ট উপজেলা প্রশাসন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজন গণ শহীদদের প্রতি পরম শ্রদ্ধায় স্মৃতিসৌধে পুষ্প নিবেদন করে তাদের আত্মত্যাগকে চির জাগরূক করে রাখে।

ওডি/আরবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড