• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

চন্দনাইশে স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে ঠেকালেন ভারপ্রাপ্ত ইউএনও

  চন্দনাইশ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

১৮ আগস্ট ২০১৯, ২০:৫৬
জন্ম নিবন্ধন সনদ
কনের পরিবারের পক্ষ থেকে সংগৃহীত ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিবেদিতা চাকমার হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে উপজেলার বরকল এস জেড উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া সায়মা আক্তার।

রবিবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর কক্ষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বর ও কনের অভিভাবককে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার শর্তে উভয় পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে বর ও কনেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, উপজেলার বরকল ইউনিয়নের পশ্চিম কানাইমাদারী গ্রামে ওমান প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে সায়মা আক্তারের সঙ্গে পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের ইউনুস মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন এলাকার আবদুর রহমানের ছেলে আরিফুর রহমান ওরফে সবুজের (২৪) বিয়ে ঠিক করেন সায়মার মা শামীম আক্তার। রবিবার তাদের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। 

অপ্রাপ্তবয়স্ক কনের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতির চলছে এমন গোপন সংবাদে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিবেদিতা চাকমার নির্দেশে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হাসান আল মামুন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ও চন্দনাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফসহ পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেয়। এ সময় কনে ও অভিভাবকদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

পরে রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর কক্ষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বর ও কনের অভিভাবককে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার শর্তে উভয় পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে বর ও কনেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
 
বাল্যবিয়ে বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে চন্দনাইশের ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিবেদিতা চাকমা জানান, বাল্যবিয়ের চেষ্টাকারী কনের মা শামীম আক্তারকে দশ হাজার টাকা ও বর পক্ষকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ওই স্কুলছাত্রীর মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে না দেওয়ার শর্তে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সায়মা আক্তার ২০১৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সেখানে তার জন্ম তারিখ উল্লেখ ছিল ১ জানুয়ারী ২০০৫। অপরদিকে কনের অভিভাবক পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়ন থেকে সায়মার জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারী ২০০২ উল্লেখ করে সায়মা আক্তারের জন্ম সনদ সংগ্রহ করেন। সনদে ইস্যুর তারিখ লেখা ছিল ৪ জানুয়ারি ১২। স্থানীয়রা ধারণা করছেন বাল্যবিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ওই সনদটি সংগ্রহ করা হয়েছিল।

ওডি/আইএইচএন

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড