• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

প্রশাসনকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে সুগন্ধা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

  হাসান আরেফিন, ঝালকাঠি

১৮ আগস্ট ২০১৯, ১৬:২১
ঝালকাঠি
বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রায় প্রতিদিনই নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী কয়েকটি মহল। স্থানীয় প্রভাবশালী ওই বালু খেকো মহলের সক্রিয়তায় নদীর পলি মাটি উত্তোলন বন্ধ ও নদী শাসন এবং ভাঙন রোধে জেলা প্রশাসনের সব প্রচেষ্টা ভেস্তে যাচ্ছে। জড়িতদের একাধিকবার আর্থিক জরিমানা হলেও নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন থামছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুগন্ধা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙন তীব্র রূপ ধারণ করছে। দিয়াকুল, দেউরী, মাটিভাঙা ও কালিজিরা পয়েন্টে থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

ক্রমাগত ভাঙনে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোর মানচিত্র ছোট হয়ে আসছে। বালু খেকো চক্র নদীতে ড্রেজার লাগিয়ে লম্বা পাইপ দিয়ে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার দুরে তাদের গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে বালু। এতে নদীর অতি গুরুত্বপূর্ণ পলি মাটি কমে যাচ্ছে। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়ে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের ইজারা ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী কয়েকটি মহল। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের গুটি কয়েক কর্মচারীকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে সুগন্ধা নদীতে চলছে বালু খেকো সিন্ডিকেটের অবাধ বিচরণ। বর্তমানে এদের সাথে যুক্ত হয়েছে জেলার কিছু কথিত সাংবাদিক। চক্রটি রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করে দলীয় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। তাদের ছত্রছায়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ফাঁকি দিয়ে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে বালু উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ।

এ দিকে চলমান বর্ষা মৌসুমে নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা।

বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড়ে ভাঙন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দেউরী এলাকার বাসিন্দা রহমান গাজী জানান, নদীতে ড্রেজার লাগিয়ে বালু উত্তোলন করায় বর্ষাকালে নদী ভাঙনের মাত্রা বেড়ে গেছে। এতে আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, সুগন্ধা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ক্রমাগত ভাঙছে নদীর দুপাশ। অবৈধ বালু উত্তোলনে নদীর গতিপথ ঠিক থাকে না। তাই ইজারা বিহীন বালু খেকোদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দাবি করেন এ জনপ্রতিনিধি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বশির গাজী জানান, সুগন্ধা নদীতে ইজারাবিহীন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও যদি বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওডি/এমবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড