• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চন্দনাইশের দোহাজারীতে কুরবানির মাংসের জমজমাট হাট

  চন্দনাইশ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

১৩ আগস্ট ২০১৯, ১১:৫১
মাংসের হাট
কুরবানির মাংস বিক্রির ভ্রাম্যমাণ হাট ( ছবি : দৈনিক অধিকার)

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে বসেছে কুরবানির মাংস বিক্রির ভ্রাম্যমাণ হাট।

ঈদের বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দোহাজারী পৌরসভা সদরের সিটি সেন্টারের সামনে থেকে সালাম প্লাজা পর্যন্ত মহাসড়কের পুর্বপাশের দীর্ঘ জায়গা জুড়ে ক্রেতা-বিক্রেতায় ঠাসা। চলছে জমজমাট বেচা-কেনা। নিন্মআয়ের মানুষেরাই সাধারণত ভ্রাম্যমাণ এই হাটের প্রধান ক্রেতা।

বিক্রেতাদের কেউই পেশাদার মাংস ব্যবসায়ী নন। গরীব-অসহায় নারী, পুরুষ ও শিশু সারাদিন ঘুরে কুরবানিদাতাদের কাছ থেকে জোগাড় করা মাংস বিক্রির জন্য মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন স্থানে বসেছেন। মৌসুমি কসাই ও নিন্ম আয়ের মানুষেরা তাদের স্বচ্ছল আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পাওয়া মাংস টাকার প্রয়োজনে বিক্রি করছেন এখানে।

মাংসের ক্রেতা হিসেবে ছিলেন খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষ। এছাড়া রিকশা ও সিএনজি চালক এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের পাশাপাশি খাবার হোটেল ব্যবসায়ীদেরও ভ্রাম্যমাণ এ হাট থেকে মাংস কিনতে দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন থেকে মাংস ভর্তি ব্যাগ ও পুটলি নিয়ে নামার সঙ্গে সঙ্গে একদিনের মাংস বিক্রেতাকে ঘিরে সৃষ্টি হচ্ছে জটলা। কেজি হিসেবে নয়, পুটলি হিসেবে বেচা-কেনা হচ্ছে কোরবানির মাংস। মাংস বিক্রেতাদের কেউ ঠকছেন আবার কেউ জিতছেন।

মৌসুমি কসাই ও নিন্ম আয়ের মানুষেরা তাদের স্বচ্ছল আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পাওয়া মাংস বিক্রি করছেন এখানে (ছবি: দৈনিক অধিকার) 

যারা মাংস বিক্রি করছিলেন তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, সারা দিন বিভিন্ন যায়গায় ঘুরে কুরবানিদাতাদের কাছ থেকে তারা যে মাংস পেয়েছেন তা এখানে বিক্রি করছেন। কয়েকজন মৌসুমি কসাই জানান, বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কেটেকুটে সাইজ করে দিয়ে আসার সময় তারা যে মাংস পেয়েছেন সে মাংসের সবগুলো বাড়িতে নেয়া যাবেনা। বাড়তি মাংস সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় নষ্ট না করে এখানে বিক্রি করে কিছু বাড়তি আয় করছেন তারা। 

কয়েকজন ক্রেতা জানালেন, আমরা গরীব মানুষ! পরিচিত আত্মীয়-স্বজন না থাকায় মাংস পাইনি। লোকলজ্জায় ছেলেমেয়েদের কোথাও পাঠাইনি মাংস সংগ্রহ করতে। ঈদ উপলক্ষে ছেলেমেয়েদের মাংস খাওয়ার আবদার পূরণের জন্য সস্তায় মাংস কিনতে এসেছি এখানে।

কয়েকজন চাকরিজীবী জানালেন, আমরা ভাড়া বাসায় থাকি, ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হয়নি। কুরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। মাংস বিক্রেতা কসাইদের সব দোকান বন্ধ থাকায় বাজার থেকেও মাংস কেনা সম্ভব নয়। ঈদ উপলক্ষে মাংস তো খেতে হবে। পরিবার-পরিজন নিয়ে খাওয়ার জন্যই এখান থেকে মাংস কিনছি। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন, রাত দশটা অবধি ভ্রাম্যমাণ এ হাটে কুরবানির মাংস বেচা-কেনা চলবে।

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড