• বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

বন্যা উপেক্ষা করে গাইবান্ধায় কুরবানির হাটে ক্রেতাদের ঢল 

  রফিকুল ইসলাম রফিক, গাইবান্ধা

০৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:২৪
পশুর হাট
বন্যা উপেক্ষা করেই জেলায় সাতটি উপজেলায় জমে উঠতে শুরু করেছে কুরবানির পশুর হাট (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। কিন্তু গাইবান্ধা জেলায় ঈদের আনন্দ যেন ভেসে গেছে এবারের বন্যায়। সবাই ঈদকে ঘিরে স্বপ্ন দেখলেও গাইবান্ধা জেলার মানুষের কাছে সেই আনন্দ হয়েছে এখন দুঃস্বপ্ন। তবুও জেলার সাতটি উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কুরবানির পশুর হাট। ঈদের ছোয়া লেগেছে এসব পশুর হাটগুলোতে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) জেলার বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে প্রচুর গরু উঠলেও চরা দাম থাকায় বিক্রি কম হচ্ছে। এছাড়া বন্যার কারণে বেশি দামে গরু কিনতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা। অন্যান্য বছরের তুলনায় মাঝারি আকারের গরুর দাম এবার বেশি। তবে প্রতি বছরের মতোই বড় আকারের গরুর দাম না থাকায় হতাশ সাধারণ বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

জেলার সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১৮টি স্থায়ী ও ১৩টি অস্থায়ী মিলে মোট ৩১টি কুরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। ইতিমধ্যেই এসব কুরবানির পশুর হাটে ব্যাপকভাবে উঠতে শুরু করেছে গরু-মহিষসহ ভেড়া ও ছাগল। 

গাইবান্ধা জেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট সাঘাটার ভরতখালী, সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর হাট, পলাশবাড়ীর কালিতলা ও মাঠের হাট, গোবিন্দগঞ্জের ফাঁসিতলা, নাকাইহাটসহ বিভিন্ন হাটে এবার দেশী গরু-ছাগলের আনাগোনা বেশি। তবে প্রতি বছরের মতো দেখা যাচ্ছে না ভারতীয় গরু। ফলে গরুর দাম অন্যান্য বারের তুলনায় এবার বেশ চড়া। 

পশুর হাটগুলোতে দেশী গরুর চাহিদা বেশি (ছবি : দৈনিক অধিকার)

পলাশবাড়ী উপজেলার মাঠের হাটে গরু কিনতে আসা মনোহরপুর ইউনিয়নের আইয়ুব জানান, এবার কুরবানির গরুর দাম তুলনামূলক একটু বেশি। ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো মানের কুরবানির গরু কেনা সম্ভব নয়। এ সময় দিন যত যাবে দাম ততোই বাড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

এদিকে গরু বিক্রি করতে আসা তিতু প্রধান বলেন, আমার এই গরুটি লালন-পালন করতে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। হাটে ক্রেতারা এখন পর্যন্ত দাম হাঁকিয়েছেন ৯৫ থেকে এক লাখ টাকা। এ সময় লাভ তো নেই, আসল টাকাই উঠে আসবে না কিনা এ নিয়ে শঙ্কা করতে দেখা যায় তাকে। 

তবে গরু বিক্রেতারা এবার গরুর দাম ছাড়ছেন না। ফলে ক্রেতারা মাঝারি আকারের গরুর কেনার চেষ্টা করছেন। এ সময় ক্রেতাদের দাম হাঁকানো দেখে মনে কষ্ট নিয়ে গরু বিক্রি করতে আসা কাসেম মিয়া জানান, ‘এত কষ্ট করে গরু পালন করে বাজারে এসে যদি দাম না পাওয়া যায়, তাহলে গরু পালন করে কি হবে? ক্রেতারা মনে করছেন এবারের বন্যার কারণে হয়তো গরুর দাম কম হবে। তারা এটা বোঝেন না যে, বন্যার কারণে বেশি দামে খাদ্য কিনে গরুকে খাওয়াতে হয়েছে।’

দাড়িয়াপুর পশুর হাটের ইজারাদার আয়েন উদ্দিন জানান, এ হাটে ক্রেতা এবং বিক্রেতারা যাতে টাকা-পয়সা নিয়ে নির্বিঘ্নে গরু কেনা-বেচা করতে পারে সেজন্য পুলিশি টহল ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া হাটে জাল টাকা সনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ আমাদের স্বেচ্ছাশ্রমে চারপাশে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য লোকজন মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি দুরের ব্যবসায়ীদের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, জেলার ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে এবারের বন্যা। হাজার কৃষক পথে বসার মতো। কেউবা বাঁধ ভাঙায় বাড়ি হারিয়ে সর্বস্বান্ত। বন্যার ধকল কেটে উঠতে না উঠতেই ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে কুরবানি ঈদ। তাই সময় যাওয়ার পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে জমে উঠতে শুরু করেছে হাটগুলো।

ওডি/আইএইচএন

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড