• বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

ফেনীতে জমজমাট পশুর হাট, চাহিদা দেশী গরুর

  এস এম ইউসুফ আলী, ফেনী

০৯ আগস্ট ২০১৯, ২০:৪৬
পশুর হাট
ফেনী সবচেয়ে বড় পশুর হাটে ত্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় (ছবি : দৈনিক অধিকার)

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফেনীর বিভিন্ন পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। ভিড় বেড়েছে ক্রেতাদের। ক্রেতাদের মধ্যে বিদেশী গরুর চেয়ে এবার দেশী গরুর চাহিদাই পরিলক্ষিত হয়েছে। গরুর পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে মহিষ, ভেড়া ও ছাগলও। 

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সরেজমিনে জেলার দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউপির ক্রোশমুন্সি বাজারে গিয়ে দেশী-বিদেশী প্রচুর গরুসহ উপচে পড়া ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। বিক্রিও হচ্ছে অনেক। তবে দাম একটু বেশি হওয়ায় কুরবানির জন্য পছন্দের পশু বাছাইয়ের পরও খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে অনেককেই। এর আগে বুধবার (৭ আগস্ট) বিকালে সরেজমিনে জেলার সর্ববৃহৎ পাঁচগাছিয়া বাজারের পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা বেশি হলেও বিক্রি কম হচ্ছে হাটগুলোতে। তবে শেষ সময়ে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন হাট ইজারাদারেরা। 

সোনাগাজী মো. ছাবের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের হাট ইজারাদার বেলাল হোসেন বলেন, পৌর শহরের এই হাটে এবার বিদেশ থেকে আমদানি করা গরুর উপস্থিতি অনেক কম। হাটে নেপালী, অস্ট্রেলিয়ান, মিয়ানমার ও ভারতীয় জাতের গরুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও দেশী গরুই বেশি পছন্দ ক্রেতাদের। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। বাজারগুলোতে গরুর পাশাপাশি মহিষ, ভেড়াসহ ছাগলও বিক্রির জন্য ওঠানো হয়েছে। 

উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়নের ঈদগাহ এলাকার খামারি সাইফুল ইসলাম জানান, খামার থেকে ৩৬টি গরু বাজারে বিক্রি করার জন্য এনেছেন তিনি। প্রতিটি গরুর মূল্য এক থেকে দুই লাখ টাকা দাম হাঁকিয়েছেন। ইতোমধ্যে দুইটি গরু এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা করে বিক্রিও করেছেন তিনি। 

মো. সেলিম হোসেন নামে অপর এক খামারি বলেন, তিনি পৌর বাজারে তিনটি দেশীয় জাতের ষাঁড় নিয়ে এসেছেন। এদের মধ্যে একটি গরু এক লাখ চল্লিশ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। 

অন্যদিকে উপজেলার মতিগঞ্জ বাজার এলাকার খামারি রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, তার খামারে ‘বঙ্গ ফিজিয়ান’ নামে বেশ কয়েকটি গরু আছে। প্রতিটি গরুর ওজন প্রায় ২৬ থেকে ২৭মণ। গরুগুলোর দাম হাকিয়েছেন ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা। সোনাগাজীতে এত বড় গরু কেনার ক্রেতা না পেয়ে তিনি গরুগুলো চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে নিয়ে যাচ্ছেন। 

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. আনিসুর রহমান জানান, জেলার ৫০টি পশুর হাটে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব পাঁচ সদস্যের টিম হাটগুলোতে গিয়ে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ খামারি ও ব্যাপারিদের দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন।

এছাড়া ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী জানান, পশুর হাটসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে ছিনতাই চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবার জেলায় চার হাজার ২২২ জন খামারি মোট ৮৮ হাজার ১৯৬টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৩০৮টি ষাঁড়, ৩৯ হাজার ২৭২টি বলদ, নয় হাজার ৪৬টি গাভী, চার হাজার ৯০টি মহিষ, ১০ হাজার ২০৭টি ছাগলসহ দুই হাজার ২০৩টি ভেড়া রয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ফেনী সদরে ২১ হাজার ৪০৮টি, ছাগলনাইয়ায় ১১ হাজার ৯২০টি, দাগনভূঞায় ২৪ হাজার ৭৫২টি, সোনাগাজীতে সাড়ে ১৬ হাজার, পরশুরামে আট হাজার ৪৩১টি ও ফুলগাজীতে পাঁচ হাজার ১৮৫টি পশু খামারে মোটাতাজা করা হয়েছে। যা দিয়ে এলাকার কুরবানির পশুর শতকরা ৯০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

ওডি/আইএইচএন

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড