• বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হাটভর্তি দেশি গরু, চড়া দাম

  ভোলা প্রতিনিধি

০৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪৯
কোরবানির পশুরহাট
জমে উঠতে শুরু করেছে ভোলার কুরবানির পশুরহাট (ছবি- দৈনিক অধিকার)

ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠতে শুরু করেছে ভোলার কুরবানির পশুরহাট। ইতোমধ্যে বিক্রেতারা দূর-দূরান্ত থেকে কুরবানির পশু নিয়ে হাটগুলোতে আসতে শুরু করেছেন। তবে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচা-কেনা। ক্রেতারা হাটে এসে পশু দেখছেন এবং দরদাম করছেন। তবে হাটগুলোতে ভারতীয় গরুর সমাগম না থাকায় চড়া দাম হাকাচ্ছেন বিক্রেতারা। যা নাগালের বাইরে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। তবে বিক্রেতা বলছেন, গো খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি থাকায় গরুর দাম একটু বেশি। 
 
ঈদের দুই থেকে তিন দিন আগে বেচা-কেনা বাড়বে বলে মনে করছে হাট কর্তৃপক্ষ। বাজারে ভারতীয় গরু আমদানি না হলে, ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন খামারিরা। তবে পশুর হাটে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রানিসম্পদ বিভাগ। 

এ দিকে হাটগুলোতে নিরাপত্তায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। বিগত বছর কুরবানির ঈদে পশুর দাম কিছুটা সাধ্যের মধ্যে থাকলেও এ বছর দেশীয় গরুর দাম অনেকটা আকাশচুম্বী। হাটগুলোতে দেশি গরুর ব্যাপক সমারোহ থাকায় ইচ্ছেমত দাম হাকিয়ে নিচ্ছেন বিক্রেতারা। 

ভোলার বড় হাটগুলোর মধ্যে চরনাবাদ, গজারিয়া, ইলিশা, পরানগঞ্জ, বাংলাবাজার, ঘুইংগারহাট, লালমোহন, চরফ্যাশন ও বোরহানউদ্দিন অন্যতম। এসব হাটে বিভিন্ন এলাকার গরু সরবরাহ হয়ে থাকে। 

হাটে গরু কিনতে আসা বেশ কয়েকজন ক্রেতা জানান, এ বছর বাজারে ভারতীয় গরু না থাকায় দেশি গরুর দাম অনেক বেশি চাচ্ছে ক্রেতারা। ভোলার মতো দ্বীপ জেলা হিসাবে তা বেমানান। গত বার যে গরু ৮০ হাজার টাকায় কিনেছি সেই গরু এবার ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা চাচ্ছে। তবে এখন সবাই গরু দেখছে আশা করি ঈদের আগে দাম কিছুটা কমবে। 

বিক্রেতারা আরও জানায়, এবার বাজারে দেশি গরুর সমারহ প্রচুর। দাম যদি নাগালের মধ্যে থাকে তাহলে ভারতীয় গরুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। সবাই দেশি গরু দিয়ে কুরবানি দিতে পারবে। তার জন্য বাজারে মনিটরিং জোরদার করা দরকার বলে জানান। দবে আমরা আশাকরি দিন যত গড়াবে গরুর দাম তত কমে আসবে।
 
মাইনউদ্দিন নামে এক বিক্রেতা জানান, গো-খাদ্যের চড়া দামের কারণে গেলবারের চেয়ে এবার কিছুটা বেশি দাম। দুইটি গরু কিনছি আড়াই লক্ষ টাকা দিয়ে খরচ করছি আরও ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু ক্রেতারা দাম বলছে আড়াই লাখ। এতে তো আমাদের লোকসান হবে। 

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, জেলার অনুমোদিত ৭৩টি হাটে সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আমরা খুব শীগ্রই প্রতিটি হাটে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করছি। এছাড়াও ২২টি হাটে পুলিশ কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে। চাদাঁবাজি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিক পুলিশের মনিটরিং রয়েছে।
 
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাবে, জেলার সাত উপজেলায় সর্বমোট ৯৩টি পশুর হাট রয়েছে। যার মধ্যে ৫৬টি স্থায়ী এবং ৩৬টি অস্থায়ী। জেলায় মোট পশুর চাহিদা এক লাখ ৫ হাজার থাকলেও মজুদ রয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৪২৭টি। মোট হাটের মধ্যে সদরে ১৫টি, দৌলতখানে ৬টি, বোরহানউদ্দিনে ১২টি, তজুমদ্দিনে ৫টি, লালমোহনে ২৬টি, চরফ্যাশনে ২২টি ও মনপুরা উপজেলায় ৭টি হাট রয়েছে। 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল জানান, এ বছর ১৬টি মেডিকেল গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। তবে এখন পর্যন্ত রোগাক্রান্ত বা মোটাতাজাকরণ গরু পাওয়া যায়নি। শেষ মুহূর্তে পশুর হাট জমে উঠেছে। কেনা-বেচা চলছে ১১ আগস্ট পর্যন্ত। 

এর মধ্যে গরু রয়েছে ৭৮ হাজার ৮৩৮, ছাগল ২৮ হাজার ৩৮৬, মহিষ ১ হাজার ৫৫৬ ও ভেড়া ১ হাজার ৬৩৭টি। যা গত বছরের চাহিদার তুলনায় ৫ হাজার বেশি। কুরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে ভোলা জেলার ৫ শতাধিক হাটে। 

ওডি/এসএ 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড