• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

আকস্মিক ধসে পড়ল গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদ ভবনের ছাদ

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি

০৭ আগস্ট ২০১৯, ২০:১৪
ছাদ ধস
আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদ ভবনের ছাদ ( ছবি : দৈনিক অধিকার)

আকস্মিকভাবে ধসে পড়েছে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদ ভবনের ছাদ। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলা পরিষদের অফিস কক্ষ কাম বাস ভবনের ছাদের মূল অংশ ভেঙে পড়ে। এতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা গাড়ির গ্যারেজে বসে অফিস করছেন।  

প্রত্যক্ষদর্শী উপজেলা পরিষদের কনফিডেন্সিয়াল এ্যসিসটেন্ট সুবল বিশ্বাস জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ করে ছাদের মূল অংশ ধসে পড়ে অফিস কক্ষের টেবিল চেয়ারগুলো ভেঙে যায়। জীবন বাঁচাতে সবাই আতঙ্কিত হয়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে পড়েন। ওই সময় উপজেলা চেয়ারম্যানও অফিসে ছিলেন। 

ছাদ ধসের ঘটনাটি রাতে ঘটায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে বেশ কিছু আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সমাগম  থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ভবনের বেশ কিছু জায়গায় ফাঁটল দেখা দিয়েছে। 

বুধবার (৭ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মো. আবুল খায়ের, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম  অফিস করছেন গাড়ির গ্যারেজে বসে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, একটি ভবনের মেয়াদকাল প্রায় ৯০ বছর। কিন্তু মাত্র ২৮ বছরের মাথায় বিধস্ত হয়ে ছাদের মূল অংশ ভেঙে পড়ে প্রায় দশ ফুট জায়গায় রড সম্পূর্ণ বের হয়ে আছে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, ব্যাবহারে অনুপযোগী একটি ভবনে অফিস করছিলাম, তাও হঠাৎ বিধস্ত হলো। বর্তমান প্রশাসনিক ভবনে কোনো কক্ষ অতিরিক্ত না থাকায় এখন অফিস করছি গাড়ির গ্যারেজে বসে। আমাদের দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনের জন্য কমপক্ষে একটি টয়লেটসহ পাঁচটি কক্ষের প্রয়োজন। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান দৈনিক অধিকারকে বলেন, বর্তমানে পরিষদ কমপ্লেক্সের কাজ চলেছে। চেয়ারম্যানের কক্ষের ছাদের মূল অংশ বিধস্ত হওয়ার খবর শুনে উপজেলা প্রকৌশলীকে দ্রুত প্রাক্কলন করে মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

উপজেলা পরিষদ অফিস সূত্র জানায়, ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের বাসবভবন নির্মাণ করে ঠিকাদার সরদার মনিরুজ্জামান। ওই সময় সাড়ে সাত লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মিত হয়। পরবর্তীতে সরকার উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করলে ভবনটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে। গত ২০০৯ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ চালু করলে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাসভবন কাম অফিস করা হয়। 

ওডি/এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড