• শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চুয়াডাঙ্গায় ৪০ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ

  দামুড়হুদা প্রতিনিধি

২৯ জুলাই ২০১৯, ০৪:৪৭
মাল্টা চাষি
নিজের বাগানে মাল্টা চাষি সাখাওয়াত হোসেন বাবুল। (ছবি : সংগৃহীত)

জীবনের বাক বদলের খেলায় কখনো কখনো হোঁচট খেলেও তাকে লড়তে হয়েছে শক্ত হাতে। বাধা এসেছে তবে থেমে যাননি ৪০ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষি সাখাওয়াত হোসেন বাবুল। নিজের ইচ্ছাশক্তি, দৃঢ়তা দিয়ে কয়েক বছরের ব্যবধানে সফলতার দারপ্রান্তে তিনি। মাল্টা পাহাড়ি ফল হিসেবে পরিচিতি হলেও সমতল ভূমিতেও রয়েছে এ ফলের ব্যাপক সম্ভবনা। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অসম্ভবকে সম্ভব করে এক দাগে ৪০ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদার উপজেলার ভগিরথপুর গ্রামের শিক্ষক আব্দুর রহিমের বড় ছেলে সাখাওয়াত হোসেন বাবুল। তিনি দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্য বড়। ২০১৩ সালের প্রথম দিকে খুলনা কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউট থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে ২০টি বারি মাল্টা-১ জাতের গাছ কেনেন। গাছগুলো প্রথমে ১৪ কাঠা জমিতে রোপণ করে নিজ গ্রামের মাঠে। গাছ লাগানোর এক বছর পর তিনি গাছগুলো কলম করে চারা গাছ তৈরি করেন। এরপর গ্রামের ৬ জন কৃষকের কাছ থেকে ১৬ বছরের জন্য বিঘা প্রতি বছরে ৮ হাজার টাকায় লিজ নেন। পরবর্তীতে কয়েক বছর পর আরও ২৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে জমিতে প্রায় ছয় হাজার কলম মাল্টার চারা গাছ রোপণ করেন। বর্তমানে একই দাগে ৪০ বিঘা মাল্টা আছে তার। গাছ লাগানোর দুই বছর পর ফুল আসতে শুরু করে। বর্তমানে গাছের ডালে ডালে মাল্টা ফলে ভরা। কয়েক মাসের ভেতর এ মৌসুমে বিক্রয় করবেন কয়েক লাখ টাকার মাল্টা।

বাগান মালিক জানান, মাল্টা বাগান করতে ৬ বছরে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। উঁচু জমিতে মাল্টা গাছ রোপণ করতে হয়। বাগানে রাসায়নিক সারের চেয়ে জৈব সার বেশি ব্যবহার করা হয়। ৫-৬ হাত দূরত্বে গাছের চারা রোপণ করতে হয়। একটি মাল্টা গাছ থেকে বছরে ৩২০-৩৮০টি ফল পাওয়া যায়। মাল্টা ফল খেতে সুস্বাধু। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি।

মাল্টা বাগান মালিক সাখাওয়াত হোসেন বাবুল জানান, মালটা বাগান করি তখন গ্রামের মুরুব্বিরা বলতেন বাবুল গাছ পাগল। কারণ ধান, পাট ও গম চাষ করাই কঠিন সেখানে মাল্টা চাষ পাগলামি। এখন আমার সফলতা দেখে সবাই আশ্চর্য! কাছে ডেকে শুনতে চায় পাগলের গল্প। তাছাড়াও যে কোনো গাছ লাগানো তার নেশাই পরিণত হয়েছে ।

দামুড়হুদার নতিপোতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক জানান, বাবুলের সফলতা দেখে গ্রামের অন্য বেকার শিক্ষিত যুবকরা মাল্টা বাগান তৈরি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। যুবকরা মাল্টা চাষ করলে গ্রামে বেকারত্ব হ্রাস পাবে বলে মনে তিনি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড