• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

নরসিংদীতে মেঘনার করাল গ্রাসে অর্ধশত বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন

  নরসিংদী প্রতিনিধি

২০ জুলাই ২০১৯, ০২:১৬
নদী ভাঙন
নদী ভাঙনের শিকার বসতবাড়ি (ছবি : দৈনিক অধিকার)

নরসিংদীর রায়পুরায় কয়েকদিনে মেঘনার ক্রমাগত ভাঙনে শুধুমাত্র চরমধুয়া ইউনিয়নের দুই গ্রাম চরমধুয়া ও দড়িহাটি গ্রামের প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইতোপূর্বে গত বছর এই ইউনিয়নে নদী ভাঙনের শিকার হয় ২শ ঘরবাড়ি। সেই সঙ্গে ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে এই দুই গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। প্রতিনিয়ত চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে তাদের দিন কাটছে।

উপজেলার চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে নদী ভাঙন কবলিত ইউনিয়ন গুলো হলো- শ্রীনগর, চাঁনপুর, মির্জাচর ও চরমধুয়া। এই গ্রামগুলোতে গ্রাম রক্ষা বাঁধ না থাকায় বছরের পর বছর ধরে শুষ্ক ও বর্ষা মৌসুমের শুরুতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, হাট বাজার, আবাদি জমি, কবর স্থান, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ইউনিয়নের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন যাবত গ্রাম রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলে ও এক দশকেও ভাঙন প্রবণ এলাকায় বাঁধ নির্মাণে সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই। 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ত্রাণ না পাওয়ায় অভিযোগ করে বলেন, তাদেরকে ত্রাণ দেওয়াসহ পুনর্বাসনের সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ভাঙন কবলিত ইউনিয়ন গুলোর প্রতিটি পরিবারের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নতুন করে মেঘনার ভাঙনে এই চার ইউনিয়নের অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা ও সম্পদ হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন যাপন করছেন। কেউ কেউ আবার তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের নিকট আত্মীয়দের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। ভাঙন আতঙ্কে আগে থেকেই অনেকে টিনের ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। সর্বস্ব হারিয়ে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই ও জীবিকার সন্ধানে শহরের দিকে অনেকেই পাড়ি জমাচ্ছে। 

এ ব্যাপারে কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, প্রতিদিন আমাদের ঘরবাড়ি ফসলি জমি মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পরিবারগুলো ইউনিয়ন রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। মেঘনার ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার চরাঞ্চলের মির্জাপুর ইউনিয়নের তিনটি প্রাইমারি স্কুল, দুইটি বাজার, দুটি লঞ্চ ঘাট, নয়টি মসজিদ, একটি মন্দির ও তিনটি কবরস্থান । 

গত এক দশকে চাঁনপুর ইমামদিরকান্দি ও শ্রীনগরের পলাশ তলী গ্রাম দুইটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পলাশতলি গ্রামে কিছু সংখ্যক লোকের বসতি থাকলেও ইমামদিরকান্দি গ্রাম কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। এ গ্রামের প্রাইমারী স্কুলটি পরবর্তীতে পাশের মোহিনীপুর গ্রামের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

এ ব্যাপারে চরমধুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম শিকদার জানান, নদী ভাঙন এলাকায় বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী নিয়ে মানববন্ধন করেছি কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এই সময় তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, গত বুধবার নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন নরসিংদী জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন আহমেদ, রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক। 

পরিদর্শনকালে প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। নির্মাণের অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা যাবে। 

ওডি/এএসএল
 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড