• বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

নয়ন যে এভাবে ‘টাইট’ দেবে ভাবেনি মিন্নি

  বরগুনা প্রতিনিধি

১৭ জুলাই ২০১৯, ২১:০৬
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হচ্ছে (ছবি : সংগৃহীত)

রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে নিহতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ঘনিষ্ঠজনদের থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। ঘনিষ্ঠজন ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মিন্নি তার স্বামী রিফাতকে ‘শিক্ষা’ দিতে চেয়েছিলেন। কারণ নয়ন বন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ান রিফাত। তাই রিফাতকে একটু ‘টাইট’ (শাস্তি) দিতে নয়ন বন্ডকে দায়িত্ব দেন মিন্নি। মিন্নি নিজেই ছক এঁকে দিয়েছিলেন, কিন্তু নয়ন যে এভাবে ‘টাইট’ দেবে তা ভাবেননি মিন্নি।

সূত্র জানায়, ঘটনার দিন স্বামী রিফাত শরীফের সঙ্গে কলেজে যান মিন্নি। পূর্ব পরিকল্পনা মতো কলেজ গেটে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। কিন্তু রিফাতকে ‘টাইট’ দেওয়ার পরিকল্পনা যে হত্যা পর্যন্ত গড়াবে সেটি মিন্নির ধারণাতেও ছিল না। এজন্যই ঘটনার দিন রিফাতকে নয়ন বন্ডের গ্যাংরা টেনে হেচড়ে নেওয়ার সময় মিন্নি নির্লিপ্তভাবে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ভেবেছিলেন নয়নরা তাকে সামান্য ‘টাইট’ দিয়ে ছেড়ে দেবে। কিন্তু মারধরের এক পর্যায়ে হঠাৎ নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী যখন চাপাতি দিয়ে অতর্কিতভাবে রিফাতকে কোপাতে থাকে, তখনই মিন্নি ঝাপটে ধরে রিফাতকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু সে চেষ্টা বিফলে যায়।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, ঘটনার আগের দিন রাতে নয়নের সঙ্গে মিন্নির প্রায় ১৫ মিনিট কথা হয়। সেই সূত্র ধরেই মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) মিন্নিকে নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। পরে প্রায় ১৪ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। পরে দ্বিতীয় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হত্যায় মিন্নির সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

২৭ জুন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনের নামে এবং চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

পুলিশ সুপারের বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার জানানো হয়, এ পর্যন্ত এ মামলায় এজাহারনামায় সাতজন ও সন্দিগ্ধ সাতজনসহ ১৪ জনকে (মিন্নিসহ ১৫ জন) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১০ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে, ৩ জন রিমান্ডে আছে।

ওডি/এমআর

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড