• মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

  সিলেট প্রতিনিধি

১৩ জুলাই ২০১৯, ০৮:০২
বন্যা
বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সিলেটে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নামা ঢলের কারণে সকল নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে। অনবরত বৃষ্টির কারণে শুক্রবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন নিচু এলাকার ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। জেলা ও উপজেলা শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে অর্ধ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এ ছাড়া প্লাবিত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সুরমা নদীর পানি সিলেটের কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার, সিলেট পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি আমলসিদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের জকিগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১০০ মিলিমিটার। এদিকে সিলেটের কানাইঘাটে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সিলেটের আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় সিলেটে ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত হয়েছে ১২ মিলিমিটার। আগামী তিন থেকে চার দিন প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হবে।

দিনভর কখনো গুড়িগুড়ি আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, ধলাই, সারীগোয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার সকালে কিছুটা রোদের দেখা মিললেও সকাল ১০টার পর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। এতে গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক স্থানে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া নগরবাসী বের হচ্ছে না। দিনের বেলাও গাড়িগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে।

কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও বিজেন ব্যানার্জী জানান, বন্যাকবলিত কিছু এলাকা পরিদর্শন করেছি। উপজেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় উপজেলার সব দপ্তর পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। তাছাড়া একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হচ্ছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও পানিবন্দি মানুষের সহযোগিতায় সরকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রয়েছে। ধলাইয়ের উৎস মুখে পানি বাড়াতে বেশি থাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ট্রলার চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

গোয়াইনঘাটের ইউএনও বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি বাড়ার খবর পেয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। উপজেলার প্রত্যক ইউপির চেয়ারম্যানদেরকে বন্যা পরিস্থিতির রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী ত্রাণসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ অবস্থা আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

ওডি/এসজেএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড