• মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

প্রভাবশালীদের দখলে টেকনাফের খায়ুকখালী খাল, নির্বিকার প্রশাসন

  শাহ মুহাম্মদ রুবেল, কক্সবাজার

১২ জুলাই ২০১৯, ১০:৩১
খাল দখল
খায়ুকখালী খালের উভয় পাশ দখল করে আছে প্রভাবশালীরা ( ছবি : দৈনিক অধিকার)

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভাধীন ঐতিহ্যবাহী খায়ুকখালী খালটি এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। ফলে খালটির উভয় পাশের জায়গা দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে প্রভাবশালীরা। দখলদাররা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় খালটি দখলমুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। 

নাফ নদীর মোহনা থেকে শুরু হয়ে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পল্লান পাড়া, লেংগুরবিল ও জাহাঁলিয়া পাড়া পাহাড়ি এলাকা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রবাহমান খালটি। এক সময় বাণিজ্যিক মালবাহী নৌকা সাম্পান এই খাল দিয়ে আসত এবং পণ্য খালাসও করা হতো। অনেক মানুষের জীবন-জীবিকার মাধ্যম ছিল এই খাল। 

এছাড়া বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি চলাচলের একমাত্র মাধ্যমও হচ্ছে এই খায়ুকখালী খাল। কিন্তু কতিপয় প্রভাবশালী দখলদার ও অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রভাব বিস্তার করে এ খালের উভয় পাশ দখল করে আছে। প্রবাহমান খালের পরিত্যক্ত জায়গা দখল করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে গুদাম ঘর এবং বিভিন্ন স্থাপনা। 

সরজমিনে দেখা গেছে, খালের উভর পাশে অবৈধ স্থাপনার সারি। এমনকি খালের তীরটিও এখন রক্ষা পাচ্ছে না। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারিভাবে খালের উভয় কূলে সীমানা খুঁটি না থাকার সুযোগকে পুঁজি করে খাল খেকোরা দখলের প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে খালটি সংস্কার কিংবা ড্রেজিং করা হয়নি। খালের দুপাশে অনেকাংশ ভরাট হয়ে গেছে। এতে করে দিনদিন খালটি সংকুচিত হওয়ায় বর্ষাকালে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নেমে যেতে পারছে না। এতে বাঁধ উপচে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

এক সময় এই খায়ুকখালী খালটি বাণিজ্যের ধারক-বাহক ছিল। এই খাল দিয়ে মায়ানমার থেকে বৈধ পণ্য আমদানি ও খালাস করা হতো। সেই সঙ্গে সেন্টমার্টিন দ্বীপের বসবাসকারী ও মৎসজীবীরা যাতায়াতও করতেন এ খাল দিয়ে। কিন্তু কালের আবর্তে তা এখন অতীতের গল্প। বাণিজ্যিক খালটির সেই জৌলুস এখন আর নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু খাল দখলকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সরকার দলীয় কিছু দখলদার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় খাল দখলে মেতে উঠেছে। প্রশাসনের নজরদারি এবং অভিযান না থাকায় এই খায়ুকখালী খালটির বর্তমানে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। এভাবে খালটি প্রতিযোগিতামূলকভাবে দখলের পাশাপাশি এটি নাব্যতাও হারিয়েছে। ফলে এই খাল দিয়ে জলযান স্বাভাবিকভাবে চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানান, প্রশাসন খালের দখলমুক্ত করার জন্য ইতিপূর্বে একাধিকবার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তালিকাও করেছিল প্রশাসন। কিন্ত পরবর্তীতে রহস্যজনক কারণে এ উদ্যোগ থমকে যায়। খালখেকোরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ এখন লাল ফিতায় বন্দি।
 
খায়ুকখালী খালের ব্রিজের দক্ষিণে মংগ্রী মার্কেটের মালিক (সম্প্রতি বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন মংগ্রী) ইতিপূর্বে দখলের প্রস্তুতি নিলে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ওরা আবারও খালে জমি দখলে নেয়।

এদিকে প্রশাসনের নাকের ডগায় খায়ুকখালী খালের দখল নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।টেকনাফ পৌরবাসী জনস্বার্থে ঐতিহ্যবাহী খায়ুকখালী খালটি দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। 

খাল দখলের বিষয়ে টেকনাফ সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল মনছুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের অফিসে গিয়ে দেখা করতে বলেন। কথা মতো, সেখানে উপস্থিত হয়ে কয়েকজন সাংবাদিক উক্ত বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে তার কথা বলার নিয়ম নেই।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল হাছান জানান, বৃষ্টি কমলে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে উক্ত খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওডি/এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"location";s:[0-9]+:"টেকনাফ".*')) AND id<>74585 ORDER BY id DESC LIMIT 0,5

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড