• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সাক্ষ্য দিতে এসে আদালতে জ্ঞান হারালেন নুসরাতের মা

  ফেনী প্রতিনিধি

১০ জুলাই ২০১৯, ২২:০০
আদালত
জ্ঞান হারান নুসরাতের মা শিরিন আক্তার ( ছবি : দৈনিক অধিকার)

আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আইনজীবীদের জেরায় জ্ঞান হারিয়েছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। 

বুধবার (১০ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে ফেনী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ও মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু জানান, বুধবার মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী, নুসরাতের মা শিরিনা আক্তারের সাক্ষ্য ও জেরার দিন ধার্য ছিল। এ দিন বেলা সোয়া ১১টায় তিনি সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন। সাড়ে ১২টার দিকে তার সাক্ষ্য শেষ হলে তাকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু, কামরুল হাসান, মাহফুজুল হক, ফরিদ উদ্দিন খান নয়ন, নুরুল ইসলাম ও আহসান কবির বেঙ্গলসহ কয়েকজন আইনজীবী। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত একটানা জেরা চলছিল।

জেরায় আইজীবীরা তাকে বলেন, আপনার মেয়ে পড়াশোনা বাদ দিয়ে প্রেম করত, অন্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করত। এ কারণে তাকে শাসন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আপনি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং সরাসরি না বলে জবাব দেন। এই সময় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো কামরুন নাহার মনি ও উম্মে সুলতানা পপিকে উদ্দেশ্য করে নুসরাতের মা বলেন, তোমাদের আমি নুসরাতের মতোই মনে করতাম। এরপরও তোমরা আমার নুসরাতকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে মারলে। এর এক পর্যায়ে মেয়ের শোকে আদালতে অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যান তিনি।

অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ছেলে নোমান ও বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজুসহ সেখানে থাকা কয়েকজন স্বজন তাকে কোলে করে নিচে নিয়ে আসেন এবং সোনাগাজী থানা পুলিশ ও কোর্ট পুলিশের সহযোগিতায় আইনজীবীর গাড়িযোগে ফেনী সদরের রাজাঝীর দিঘীর পাড়ের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিনি (শিরিন আক্তার) অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। উত্তেজিত হয়ে পড়ার কারণে এমনটা হতে পারে। তবে হাসপাতালে আনার কিছু সময় পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, উনি আগে থেকেই কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই বিচারক তাকে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড় না করিয়ে নিজের কাছাকাছি একটি স্থানে বসান এবং অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। কিন্তু আসামি পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কয়েকজনের কিছু প্রশ্নে তিনি উত্তেজিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তিনি আরও জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় এই মামলার ১৪ নম্বর সাক্ষী শেখ আব্দুল হালিম মামুন, ১৫ নম্বর সাক্ষী মো. আবু ইউসুফের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য রাখা হয়েছে।

এ দিকে খবর পেয়ে নুসরাতের মাকে দেখতে হাসপাতালে যান ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তিনি এখন সুস্থ আছেন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও ডায়াবেটিকস সুগার নিল হওয়ায় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান।

ওডি/এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড