• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নলকূপের পানিতেই রোগ মুক্তি!

  ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

০৯ জুলাই ২০১৯, ২২:১৩
ঝিনাইদহ
ওই নলকূপের পানি নিতে আসা নারীরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

নিয়ত করে নলকূপের পানি পান করলেই মিলছে রোগমুক্তি। সারছে ক্যান্সার, প্যারালাইসিস, গ্যাস্ট্রিক, আমাশয়সহ নানা ধরনের জটিল রোগ। ঘটনাটি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর গ্রামের মাঠের একটি নলকূপকে ঘিরে।

এমন গুজবে বিভিন্ন দুর-দূরান্ত থেকে পানি নিতে ভিড় করছে হাজার হাজার মানুষ। কেউ পানি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে কেউবা দাঁড়িয়ে থাকছে আর চেয়ারম্যানের সমর্থকরা পানি নিতে সকলকে সহযোগিতা করছে। নারীসহ সব বয়সের মানুষের মাথায় পানি ঢেলে গোসল করিয়ে দিচ্ছে রোগমুক্তির জন্য। নলকূপ স্থাপনের পর থেকে ভিড় কিছুটা থাকলেও গেল ১০-১২ দিন এই ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে।

গেল রমজান মাসে মধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বাজার গোপালপুর গ্রামের মাঠের পাশের মেহগুনি বাগানের ভিতরে এলজিএসপির একটি নলকূপ স্থাপন করা হয়, যার গভীরতা ১৮০ ফিট।

যে নলকূপের পানি পান করলে রোগমুক্তি হচ্ছে (ছবি : দৈনিক অধিকার)

গেল রমজান মাসে এখানে শুকুর পালনকারীরা এসে অবস্থান নেয়। সে সময় শুকুর সেখানে থাকে চায় না। পরে তারা রাতের বেলায় দেখে একজন পাঞ্জাবী পরা ব্যক্তি ওই নলকূপের পানি খাচ্ছে। পরে সেই ব্যক্তি ওদের বলে ওই কলের পানি খাও ও ওদের দাও। সেই থেকেই এই কলের পানি খেলে রোগ মুক্তি হয় গুজব ছড়িয়ে যায় ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলায়।

এ গুজব আস্তে আস্তে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক আসতে থাকে ওই নলকূপের পানি সংগ্রহ করার জন্য। সকাল থেকে গভীর রাতেও সেখানে লোকজন আসছে। যারা এ পানি নিতে আসছে তাদের বেশির ভাগ মানুষই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পর্যায়ের। শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ আসছে খুবই কম।

তবে এ পানি পান করে কারও রোগমুক্তি হয়েছে কি না, তার কোনো প্রমাণ মেলেনি। অন্ধ বিশ্বাসে সবাই বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি ভাড়া করে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে বোতল, গামলা, কলসসহ বিভিন্ন পাত্র নিয়ে এসে পানি নিয়ে চলে যাচ্ছে।

আবার অনেকে অন্ধ বিশ্বাসে বলছে তারা পানি খেয়ে নানা রোগ ভাল হয়ে গেছে। কেউ বলছে আমার প্যারালাইসিস ভাল হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাজারগোপালপুর গ্রামে গৃহবধূ সাথী জানান, তার শরীরে এ্যাজমা হয়েছিল। এই কলের পানি খেয়ে এখন শরীরটা ভাল।

স্থানীয় মধুহাটি ইউপি চেয়ারম্যান ফারুখ হোসেন জুয়েল জানান, আমার দীর্ঘ দিনের কাশি। এর জন্য আমি ভারত পর্যন্ত গিয়েছি। কোন কাজ হয়নি। তবে এই কলের পানি খেয়ে আমার সেই কাশি ভাল হয়েছে। আমার মায়ের অসুখও ভাল হয়েছে।

তবে এই কলে পানি নিতে আসা অনেক নারী জানান, আমরা পানি নিতে এসেছি। তবে উপর থেকে যখন নল দিয়ে গায়ে পানি ঢেলে দিচ্ছে তখন খুবই বিরক্ত লাগছে। একটা অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় প্রচুর পরিমাণে যুবক ছেলেরা ভিড় করছে যা আমাদের ভয়কে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পানি নিতে আসা নারীদের জনসম্মুখে গোসল করানো হচ্ছে (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থ দৈনিক অধিকারকে জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে এটি সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। নলকূপের পানি খেলে কোন রোগ সারে না। তবে জীবনের বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ পানি পানের দরকার। আমি সকলকে পরামর্শ দিব নলকূপের পানি খেলে রোগ ভালো হবে এমন ভ্রান্ত ধারনায় কান না দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

জেলা শহরের এক ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে এই ভ্রান্ত ধারনা থেকে সকলের সচেতন থাকতে হবে। কলের পানি খেলে রোগ মুক্তি হবে এমন ভণ্ডামির বিরুদ্ধে প্রশাসনের উচিত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেন কেউ হয়রানীর শিকার না হয়।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী ইসলাম জানান, মানুষ এখনও গুজবে কান দেয়। আমি নলকূপের স্থল পরিদর্শন করেছি। এটি নিতান্তই অবাস্তব। আমরা ফিল্ড পর্যবেক্ষণে আছি।

তবে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, জেলায় কোন ধরনের গুজবে সাড়া দেওয়া হবে না। নলকূপের পানিতে রোগ মুক্তি হচ্ছে এটা ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই না। আর পানি নিতে আসা মহিলাদের গায়ে পানি ঢেলে দেওয়া হচ্ছে আমি দেখেছি। এটা চরম অন্যায়।

তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যানকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে রাতের মধ্যেই এটি বন্ধ করে দিতে। তা না হলে সকালেই প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যানসহ জড়িত সকলের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ওডি/এমবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড