• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিস্তীর্ণ বনে পাহারাদারদের সঙ্গী মায়া হরিণ!

  গোপাল চন্দ্র দে, ভোলা

০৩ জুলাই ২০১৯, ২০:৪১
মায়া হরিণ রিউ
মানুষের বন্ধু মায়া হরিণ রিউ ( ছবি : দৈনিক অধিকার)

হরিণ বলতেই আমরা এমন একটি সুন্দর প্রাণীকে চিনি, যে কিনা মানুষ দেখলে দৌড়ে পালায়। তবে চর নিজামের মায়া হরিণ রিউ অন্যরকম। সে বনের প্রহরীদের ভয় পায় না বরং চর নিজামের হাজার হাজার একর জমি পাহারায় দিন রাত সঙ্গী হয় বন প্রহরীদের। এলাকার মানুষেরও বন্ধু সে। এলাকায় হরিণটির জনপ্রিয়তা অনেক। 

বঙ্গপোসাগরের মোহনায় ভোলার মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চর নিজাম। অনেকে কালকিনির চরও বলে। এখানে ৫ হাজার ২৩৮ দশমিক ৭৩ একর বনভূমিতে রয়েছে তিন শতাধিক হরিণ। 

এর মধ্যে মায়া হরিণ রিউ অন্য হরিণদের থেকে ভিন্ন। রিউর স্বভাব, যে কাউকেই ওর প্রতি আকর্ষিত করা। হরণিটি মানুষের রাগ-অভিমান, ভালোবাসা বোঝে। এখানকার মানুষ রিউর বন্ধু। রিউ নাম ধরে হরিণটিকে ডাকলেই ছুটে আসে। সে মানুষের আবেগ বোঝে, যখন কেউ রাগ করে তখন সে চলে যায় আবার যখন কেউ ভালোবেসে ডাকে তখন সে তার কাছে যায়। 

খাবার সংগ্রহে রিউকে কষ্ট করতে হয় না, পাহারা শেষে রিউ যখন বসতবাড়ির পাশে ঘুরে, চরের মানুষই তখন ভালোবেসে তাকে খাবার দেয়। যেন এক অনন্য বন্ধুত্ব এখানার মানুষ ও রিউর মধ্যে। তাই রিউকে দেখতে প্রতিদিন ভোলার অন্যান্য উপজেলা শহরগুলো থেকেও চর নিজামে ছুটছে অনেকে।

বন বিভাগের চর নিজাম (কালকিনি) বিট কর্মকর্তা মো. এস এম আমির হোসেন জানান, দু বছর আগে পানিতে ভেসে চর নিজামে আসে মায়া হরিণটি। পানিতে ভেসে আসার জন্য অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে। বন বিভাগ তার চিকিৎসা করিয়ে বনে অবমুক্ত করে।  কিন্তু সে বনে না থেকে বন বিভাগের বিট অফিসের সামনে চলে আসতো বার বার, যেখানে তার চিকিৎসা করা হয়েছিল। তাকে যতবারই বনে ছেড়ে আসা হয়েছিল সে ততবারই চলে আসে বিট অফিসের সামনে। সেই থেকে এখানেই রয়ে গেছে। 

হরিণটি নিজ থেকেই নিয়োগকৃত বন প্রহরী! সে রোজ বন প্রহরীদের সঙ্গে বন পাহারা দেয় আবার পাহারা শেষে চলে আসে। আমরা ভালোবেসে হরিণটির নাম দিই রিউ। ওই নাম ধরে ডাকলেই সে চলে আসে। এলাকার মানুষ হরিণটিকে অনেক ভালোবাসে। 

স্থানীয়রা জানান, হরিণটির যখন ক্ষুধা লাগে, যদি কেউ তখন তাকে খাবার না দেয় তাহলে লোকজনের বাড়ির রান্না ঘরে ঢুকে বসে থাকে। ভাত দিলে খেয়ে আবার চলে যায়। হরিণটি মানুষের রাগ-অভিমান বুঝতে পারে। আমরা সবাই হরিণটিকে অনেক ভালোবাসি। রিউকে কেউ রাগ করে কথা বললে সে চলে যায়। আবার কেউ ভালোবেসে ডাকলে তার কাছে চলে আসে। ওর পাহারা শেষে যখন খাবারের জন্য বাড়ির পাশে ঘুরে তখন ওকে খাবার দিই।

স্থানীয়রা বলেন, আমাদের চরের বনে অনেক হরিণ আছে তবে রিউ অন্যদের থেকে ভিন্ন। ওর স্বভাব যে কাউকেই ওর প্রতি আকর্ষিত করবে। রিউকে দেখতে এখন ভোলার বিভন্ন স্থান থেকেও পর্যটকরা আসছেন।

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড