• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সোমেশ্বরী পাড়ি দিতে সীমাহীন ভোগান্তি

  দুর্গাপুর প্রতিনিধি, নেত্রকোণা

২০ জুন ২০১৯, ১০:০৮
নৌাকা
সোমেশ্বরীতে নৌকা পাড় হচ্ছেন জনসাধারণ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

মেঘালয়ের পাহাড়ি সীমান্তবর্তী নানা জাতিগোষ্ঠীর একত্রে বসবাস করেন নেত্রকোণার দূর্গাপুরে। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই উপজেলা। দীর্ঘদিন পরে সড়ক পাকা হলেও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্ভোগের কবলে স্থানীয়সহ দর্শানার্থীরা। আর এ ব্যাপারে কোনো খোঁজখবরই রাখেন না প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্বচ্ছ পানি, চিনামটির পাহাড়, রানিখং মিশন ও টংক স্মৃতিসৌধসহ নানা স্থাপনার সৌন্দর্যে ভরপুর সোমেশ্বরী নদী। সুবিশাল এই নদী বুকে নেই কোনো সেতু তাই নৌকাই যেন পারাপারের একমাত্র ভরসা। 

 

প্রতিদিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৌন্দর্য উপভোগে আসেন হাজারো মানুষ। কিন্তু কিছু সুবিধাভোগীদের কাছে জিম্মি হয়ে দুর্ভোগ সয়েই স্থানীয় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ নদী পার হচ্ছেন। নদীতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ড্রেজারে বালু তোলায় এবড়োথেবড়ো হয়ে পড়েছে নদীর গতিপথ। 

তার পর পারাপারে মাত্র তিনটি নৌকা। ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়েও নৌকা বাড়াননি লিজকারীরা। মানুষসহ সকল যান পার হয় নৌকা করে। তাদের থেকে বাড়তি ভাড়াও আদায় করছে ঘাটে। কিন্তু কে কার আগে নৌকায় উঠবে এগুলোও আবার দেখছে না। ফলে প্রায় সময় নৌকা কাত হয়ে ডুবেও যাচ্ছে। তখন অনেকেই সাঁতরে পার হলেও ভয়ে ভয়ে থাকেন সাঁতার না জানা মানুষেরা। 

এই নদী পাড়ি নিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েন। সময় চলে যাওয়ায় সকল জায়গা দেখতে পারেন না যেমন, তেমনি রাত হয়ে গেলে পড়েন ছিনতাইয়ের কবলে। পাহাড়ি সড়কজুড়ে কোথাও দেখা মেলে না আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর। তবে কোনো ভিআইপি রাজনৈতিক বা সরকারি কেউ ঘুরতে গেলে সকল ধরনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শতভাগ নিরাপত্তা দেন। এমনকি প্রধানরাও সঙ্গে থাকেন। এদিকে জনসাধারণের টাকায় দেশ চললেও তাদের নিরাপত্তা বা দুর্ভোগ নিয়ে ভাবেন না কেউ। এমন করেই বলছিলেন নৌকা পারাপারের সময় ঢাকা থেকে আসা জুবায়েরসহ বেশ কয়জন যাত্রী। 

এদিকে জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ২৭ লাখ টাকা দিয়ে বিরিশিরি শিবগঞ্জ ঘাটটি মো. আব্দুল করিমের নাম দিয়ে ইজারা নিয়েছে। কিন্তু ঘাটে টাকা তুলতে দেখা গেছে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিল ইদ্রিস আলীকে। জানতে চাইলে তিনি বলেন এক সপ্তাহের জন্য ১ লাখ ২৬ হাজার টাকায় তিনি সাবলিজ নেন। তিনি বলেন, কারও কোনো দুর্ভোগ নেই। 

এ দিকে বাড়তি টাকা আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্রিজ করলেও তো আরও বেশি টাকা টোল দিতে হতো। সে তুলনায় কমই রাখা হচ্ছে। 

ওডি/এসজেএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড