• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কোটি টাকার সেতুতে ওঠার সড়ক নেই!

  নাগরপুর প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল

১৯ জুন ২০১৯, ১৭:২৮
নোয়াই নদী
নোয়াই নদীর ওপর নির্মিত সেতু (ছবি : দৈনিক অধিকার)

টাঙ্গাইলের নাগরপুর সদর ইউনিয়নের আলোকদিয়া সড়কের নোয়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হলেও নেই সংযোগ সড়ক। সড়ক হবে কি না তাও জানেন না এলাকাবাসী। সেতুর দুইপাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এতে সেতুর আশপাশের ছয় গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ শেষ নেই। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত এই সেতু জনগণের কোনো কাজেই লাগছে না। 

নাগরপুরে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ হলেও দুই বছরেও নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক। এতে জনমনে ক্ষোভের পাশাপাশি বেড়েছে ভোগান্তি। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, মামলা জটিলতার কারণে সেতুর মূল অংশ নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়নি। 

নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলোকদিয়া সড়কের নোয়াই নদীর ওপর নির্মাণ করা হয় এ সেতুটি। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় দুই কোটি ৯৭ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৩ টাকা ব্যয়ে ৭২.৬ মিটার দীর্ঘ এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট। সেই সঙ্গে ২০১৭ সালের ৯ আগস্ট সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক করতে পারেনি মেসার্স দাস ট্রেডার্স নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি।

সেতুর সংযোগ সড়ক থেকে বাইরে গিয়ে সেতু নির্মাণ এবং সরকারিভাবে জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই এলাকাবাসীর জমির ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে মামলায় জড়িয়ে পড়ে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মাধ্যক্ষ আরিফুজ্জামান সোহেল জানান, জমির মালিকরা মামলা করায় সেতুর মূল অংশের কাজ শেষ করে সংযোগ সড়কের বরাদ্দ বাতিল করে কর্তৃপক্ষের কাছে সেতুটি হস্তান্তর করেছি। সেই থেকে এভাবেই পড়ে রয়েছে সেতুটি। এমনকি বর্ষা মৌসুমের আগে সংযোগ সড়ক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অপর দিকে এই সেতুর সংযোগ সড়কের অভাবে নোয়াই নদীর আশপাশের ছয়টি গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, উপজেলা শহরে যাতায়াতকারী ও বিভিন্ন এলাকার মানুষদের চলাচলে ব্যাপক অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তো ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। এখন পায়ে হাঁটার জন্য যে সড়ক আছে তখন তাও থাকে না। নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হয়। আর বৃষ্টি থাকলে তো কোনো কথায় নেই। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলম মিয়া জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এই অবস্থার মধ্যে আছি। আমাদের চলাচলে অনেক অসুবিধা হচ্ছে। এই সেতুর অভাবে উপজেলা শহর থেকে অনেক মালামাল আনতে পারি না। কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারে না। আমাদের পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হয়। আমাদের ছেলে-মেয়েরা চরম কষ্টের মধ্যে স্কুলে যাচ্ছে। 

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. শাহিনুর আলম জানান, সেতুর মূল অংশের কাজ শেষ হয়েছে। তবে আইনগত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করতে পারেনি। সংযোগ সড়কের কাজটি নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করছি চলতি অর্থ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করে জনগণের চলাচলের উপযোগী করা হবে। 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড