• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কোটি টাকার খাল খননে হরিলুটের অভিযোগ

  কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ

১৯ জুন ২০১৯, ১০:৫৯
নওগাঁ
মঙ্গল খাল

নওগাঁর ধামইরহাটে চলতি অর্থ বছরে এলজিইডির আওতায় এক কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মঙ্গল খাল পুনঃখননের নামে টাকা হরিলুটের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাল খননে সরকারি নিয়ম অনুসারে প্রশস্ত ও গভীরতা না করায় বর্ষা মৌসুমে খালের পানি উপচে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ডুবে যাবে।

অন্যদিকে খরা মৌসুমে পানি থাকবে না। এতে এলাকাবাসীদের কোন কাজেই আসবে না বলে জানিয়েছেন খাল এলাকার বাসিন্দারা। খালটি সঠিক নিয়মে খনন ও অনিয়ম কারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সমিতির এক অংশ সদস্য ও খাল পাড়ের বাসিন্দা। 

জানা গেছে, নওগাঁর ধামইরহাটের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে মঙ্গলখালটি। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য একটু পানিতেই ফসলি জমি ও বাড়ি-ঘর ডুবে যেত। জনসাধারণকে এই সমস্যার থেকে বাঁচাতে চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে ‘টেকসই ক্ষুদ্রকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় উপজেলার ঘুকসির মোড় থেকে ধামইরহাট কলেজের মোড় পর্যন্ত এক কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ কিলোমিটারের মধ্যে ৪ কিলোমিটার মঙ্গলখাল পুনঃখননের প্রকল্প শুরু করা হয়। 

খনন কাজটি শুরু করে ধামইরহাট মঙ্গলখাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড। নাম মাত্র ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করে ইতোমধ্যে খনন কাজ সম্পন্ন দেখিয়েছেন সমিতির সভাপতি নূরুজ্জামান ও দীর্ঘ ৯ বছর থেকে উপজেলায় এলজিইডি প্রকৌশলী আলী হোসেন। দুই জনের যোগসাজশে বাকি টাকা হরিলুট করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ও খালের পাশে থাকা লোকজন।

ধামইরহাট মঙ্গলখাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য আবু তালেব জানান, সমিতির ৫৬২ জন সদস্যের মধ্যে অধিকাংশ সদস্যদের মতামত না নিয়েই ও এজিএম না করেই সমিতি সভাপতি নূরুজ্জামান ও স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সিডিউল মোতাবেক কাজ করা হয়নি। 

খালের পাশের জমি থাকা জনসাধারণদের জানানো নিয়ম থাকলেও তা না জানিয়ে উপজেলায় ২০১১ সালের ১০ জানুয়ারি যোগদানকারী উপজেলায় এলজিইডি প্রকৌশলী আলী হোসেনের যোগসাজশে বাকি টাকা হরিলুট করা হয়েছে।

সমিতি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হেলাল হোসেন জানান, খালের ১০ ফিট থেকে ১৫ ফিট প্রশস্ত খনন করা ও ৩ ফিট থেকে ৫ ফিট গভীরতা করার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। শুধু ৫ ফিট থেকে ১০ ফিট প্রশস্ত খনন ও ১ ফিট থেকে ২ ফিট গভীরতা করে খাল খননের ফিনিশিং দেয়া হয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে খালের পানি উপচে ফসলি জমির ফসল নষ্ট হবে। পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে যাবে।

মঙ্গলখালের পাশে দক্ষিণ চকযদু গ্রামের মুনছুর হোসেনসহ স্থানীয়রা জানান, মাটি কাটা মেশিন দিয়ে শুধুমাত্র খালের ঘাস চেঁচে দিয়ে গেছে। যার ফলে খালের পাড়ে অধিকাংশ এলাকায় মাটি নেই। অনেক জায়গার মাটি ইতোমধ্যে বৃষ্টির পানিতে খালের মধ্যে ধসে গেছে। 

ধামইরহাট উপজেলার ব্রিজ এলাকার মেসবাইল আলম জানান, খালের তিন ফিট গভীরতা করার নিময় থাকলেও তা না করায় খরা মৌসুমে পানি থাকবে না। এতে এলাকাবাসীদের কোনো কাজেই আসবে না। এদিকে সমিতির লোকজন ও সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে মাত্র ১৫ লাখ টাকা খরচ করে খননকাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সমিতির সভাপতি ও কার্যকারী কমিটির লোকজনের বাড়ি মঙ্গলখালের আশেপাশে নয়। এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোক ও কিছু সরকারি কর্মকর্তা যোগসাজশে মঙ্গলখালের আশেপাশে সদস্যদের কমিটিতে না নিয়েই নামমাত্র কাজ করে খনন সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। 

ইতোমধ্যে দুই দফায় ৪০ লাখ টাকা নিয়েছেন সমিতির লোকজন। বাকি ৬৭ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত এই অনিয়মকারী ও হরিলুটকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সমিতির অভিযোগকারী সদস্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে বর্তমান সমিতির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন ইউসুফ জানান, নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে এই খনন করা হয়েছে।

বর্তমান সভাপতি নুরুজ্জামান হোসেন জানান, কাজের কোনো অনিয়ম করা হয়নি। এই খাল খনন করায় ধামইরহাট উপজেলাবাসী খুশি হয়েছেন। 

২০১১ সাল থেকে ধামইরহাটে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ধামইরহাট উপজেলা প্রকৌশলী আলী হোসেন হরিলুটের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ইতোমধ্যে কাজ শেষ হয়েছে। দুই দফায় ৪০ লাখ টাকা সমিতিতে দেওয়া হয়েছে। খাল খনন সুষ্ঠু হয়েছে কি না চূড়ান্ত মাপ-জোক শেষে পর্যায়ক্রমে বিল দেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম উদ্দিন মিয়া জানান, সমিতির সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। যার কারণেই এসব অনিয়মের অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘ ৯ বছর থেকে একই উপজেলায় কীভাবে রয়েছেন তার সঠিক কারণ জানা নেই।

ওডি/আরবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড