• মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ফেনীতে স্কুলের পিয়ন হত্যার দায় স্বীকার

  ফেনী প্রতিনিধি ১৩ জুন ২০১৯, ১১:৪৭

আসামি
আটক আসামিরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিয়ন মো. সফি উল্যাহকে (৬০) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মো. ইয়াছিন সাকিব কাজি প্রকাশ সাকিব ও মো. রনি। এ দিকে সোহেলের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। 

বুধবার (১২ জুন) বিকালে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাওহীদুল হকের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় তারা। পরে তাদের আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মাঈন উদ্দিন ভূঁঞা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একাডেমি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে গাজীক্রস রোড থেকে রনি ও সাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বিকালে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাওহীদুল হকের আদালতে হাজির করলে রনি ও সাকিব হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। 

জবানবন্দিতে রনি জানায়, ‘সফি উল্যাহর বাসার পাশে তাদের বাসা। সে তাদের নাতি বলে ডাকত। ৩০ মে বিকালে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে বলেন তিনি বেতন ও বোনাসের টাকা উত্তোলন করেছেন। পরে বিষয়টি সে তার বড় ভাই সোহেলকে জানায়। তখন তারা টাকাগুলো কীভাবে ছিনিয়ে নিতে পারে সেজন্য পরিকল্পনা করে। সে সাকিব ও রনিকে খবর দেয়। 

ইফতারের আধা ঘণ্টা পূর্বে সাকিব তার বাসার সামনে আসে। সাকিবকে বাসার সামনে পাহারায় রেখে রনি তার ভাই সোহেলকে নিয়ে গাজীক্রস রোডের হক ম্যানশনের ভিতরে আমাকে নিয়ে প্রবেশ করে। ঘরে ডুকে বাহিরের লাইটটি সোহেল বন্ধ করে দেয়। একজন বয়স্ক লোক খাটের ওপর শুয়ে ছিল। সোহেল ঢুকে তাকে ঝাপটিয়ে ধরে গামছা দিয়ে পা বেঁধে ফেলে। আমি দুই হাত ও রনি দুই পা বেঁধে ফেলে। আমাদের দেখে চিনে ফেলে সে চিৎকারের চেষ্টা করলে বড় ভাই সোহেল চোখ, মুখ, নাক গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলে। 

ধস্তা-ধস্তির এক পর্যায়ে লোকটি খাট থেকে নিচে পড়ে যায়। এ সময় সোহেল চায়ের চামুছ দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে। লোকটির নড়া-চড়া বন্ধ হয়ে গেলে আলমিরা ভেঙে সোহেল ১ লাখ টাকা ও স্বর্ণ, ১টি ওয়াল্টন মোবাইল সেট নিয়ে ইফতারের ১০-১৫ মিনিট পরে বের হয়ে চলে যায়। 

ঘটনার দুই ঘণ্টা পরে ভাই সোহেল রনিকে দেয়ার জন্য আমাকে ১০ হাজার টাকা দেয় ও আমাকে ৫শ টাকা দেয়। বাকি টাকা পরে দিবে বলে সে চলে যায়। সফি উল্যাহর ব্যবহৃত ওয়াল্টন মোবাইল সেটি সাকিবকে দিয়ে দেয়।’

জবানবন্দিতে সাকিব জানায়, ‘বন্ধু রনি তাকে খবর দিয়ে বাসার পাশে আসতে বলে। সে বলে সফি উল্যাহ বেতন বোনাসের টাকা নিয়ে বাসায় এসেছে। সে ছাড়া ঘরে আর কেউ থাকে না। ৬টার দিকে সে হক ম্যানশনের সামনে আসে। তখন সোহেল আমাকে পাহারাদার রেখে সে ভিতরে প্রবেশ করে। তারা বলে যে টাকা পাব আমরা চারজনে ভাগাভাগি করে নেব। 

ইফতারের ১০-১৫ মিনিট পরে সোহেল ছোট একটি কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে আসে। ২-৩ ঘণ্টা পর সোহেল আমাকে ঘটনাস্থলের পাশে রেল লাইনে ডেকে নিয়ে ১০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনটি দেয়। মোবাইল ফোনটি বাসার পাশে আসিফের নিকট ৫শ টাকা দামে বিক্রি করি। রনি বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ থানার চাঁন মিয়া হাওলাদারের ছেলে। সাকিব একই থানার মো. আব্বাস খানে ছেলে।’

ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, রাব্বি, রনি ও সাকিব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। টাকার লোভে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। রাব্বি ও সাকিব ২০ হাজার টাকা ভাগে পেয়েছে। রনি পেয়েছে ৫শ টাকা। ঘটনার দিন বিকালে রনি পিয়নের বাসার সামনে গাছ থেকে আম পাড়ে। পিয়ন টাকা উত্তোলনের কথা বলতে রনি শুনে। রনি বিষয়টি তার ভাই সোহেলকে জানায়। সোহেল ইয়াবা সেবী। পরে ৪ জন এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাতে শহরের বারাহীপুর গাজীক্রস রোডের হাসান আলী ভূঁঞা বাড়ির পাশে হক ম্যানশন থেকে রাত ১০টার দিকে  সফি উল্যাহর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওডি/এসজেএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"location";s:[0-9]+:"ফেনী".*')) AND id<>68378 ORDER BY id DESC LIMIT 0,5

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড