• বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

মার্কেট গুঁড়িয়ে দিলেন শিল্পপতি

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

১৩ জুন ২০১৯, ০৪:১৭
মার্কেট
মার্কেট অবৈধভাবে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিলেন শিল্পপতি (ছবি : দৈনিক অধিকার)

কুষ্টিয়ায় নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থিত মার্কেট অবৈধভাবে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এক শিল্পপতি। সোমবার (১১ জুন) বিকালে পৌর এলাকার বটতৈলে কেএনবি এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির সামনের মার্কেটটি হঠাৎ করেই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। 

এ সময় মার্কেট মালিক ও ভাড়াটিয়ারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ব্যক্তি মালিকানা জমির ওপর স্থাপিত দোতলা মার্কেটের ২২টির অধিক পাকা দোকান কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন দোকান মালিক ও ভাড়াটিয়ারা।

তারা জানান, আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় পেশী শক্তি ব্যবহার করে প্রকাশ্যে এমন তাণ্ডব চালালেও কেউ টুঁ-শব্দ করেননি। ঘটনাস্থলে দোকান মালিক ও ভাড়াটিয়াদের আহাজারি কারো মনে নাড়া দেয়নি। 

অভিযোগ উঠেছে সবাইকে ম্যানেজ করেই এমন তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে ওই শিল্পপতি। মার্কেট মালিক পক্ষের অভিযোগ, জমিটি কিনতে নানাভাবে প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন কেএনবি এ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রির মালিক কামরুজ্জামান নাসির। জমি কিনতে না পারায় পেশী শক্তি প্রয়োগ করে মার্কেটটি ভেঙে দিয়েছেন তিনি।

তবে কেএনবি এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির মালিকের দাবি, জেলা পরিষদের কাছ থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে লিজ নিয়েছি। তাছাড়া অন্য সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আর জেলা পরিষদ বলছে ওই জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা করেছে জেলা পরিষদ এবং জমিটি লিজ দেওয়া হয়েছে। তবে উচ্ছেদের বিষয়ে জেলা পরিষদ কিছুই জানে না! এদিকে একমাত্র সম্বল মার্কেটটি গুঁড়িয়ে দেওয়ায় সর্বস্বান্ত মালিক ও দোকানের ভাড়াটিয়ারা বড় অসহায় হয়ে পড়েছে।

নিজের উপার্জিত সমস্ত সম্বলের বিনিময়ে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার বটতৈল মৌজায় ১৯৯৫ সালে প্রায় ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন জনৈক রাকিবুল ইসলাম। ওই সম্পত্তির ওপর নির্মাণ করেন পাকা মার্কেট। তাতে দোকান রয়েছে ২২টি। প্রামাণিক সুপার মার্কেটের ওইসব দোকানে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন সংশ্লিষ্টরা।

কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থিত কেএনবি এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির মালিক কামরুজ্জামান নাসিরের ওই মার্কেটের ওপর নজর পড়ে। নানাভাবে মার্কেটের মালিককে তার কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন নাসির। কিন্তু তাতে সাড়া না দেওয়ায় ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন তিনি। ব্যক্তি মালিকানা হলেও জেলা পরিষদ জমিটি তাদের বলে দাবি করতে থাকেন। এরই মধ্যে জেলা পরিষদ ওই জমির মালিকানা দাবি করে কুষ্টিয়ার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলা চলমান অবস্থায় অবৈধভাবে ওই জায়গা কেএনবি এ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রির মালিক কামরুজ্জামান নাসিরের নামে লিজ প্রদান করে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ। ওই মামলা বিচারাধীন অবস্থাতেই সম্পন্ন বেআইনিভাবে সোমবার (১০ জুন) বিকালে হঠাৎ করেই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় মার্কেটটি। 

মুঠোফোনে এক কর্মকর্তা জানান জেলা পরিষদের ওই সম্পত্তি লিজ দিলেও উচ্ছেদের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। কেএনবি তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জমিটি দখলে নিচ্ছে।

সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আযম জানান, জেলা পরিষদের আয় বৃদ্ধির জন্য সিএস রেকর্ডীয় জমি দখল দিতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বলে জেলা পরিষদের সকল বেদখলিয় জমি পুনরুদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ওই জমিটি কেএনবি এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির নামে লিজ প্রদান করা হলেও উচ্ছেদের সঙ্গে জেলা পরিষদের কোনো সম্পর্ক নেই।  জেলা পরিষদ উচ্ছেদ করলে আমাদের লোক এবং মেশিন যেত। ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখেন আমাদের কোনো লোক অথবা মেশিন সেখানে ছিল না। তারা নিজেরাই দোকান ঘর উচ্ছেদ করেছে।

কুষ্টিয়া জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন জানান, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো অথরিটি আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না। সম্পন্ন বেআইনিভাবে মার্কেটটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। কামরুজ্জামান নাসিরের নামে জেলা পরিষদের দেওয়া ওই লিজে দাগ নাম্বার থাকলেও কোনো খতিয়ান নাম্বার নেই। খতিয়ান নাম্বার না দেওয়ার কারণ ওই খতিয়ান নাম্বারটি ব্যক্তি মালিকানাধীন। 

ওই আইনজীবী বলেন, যেখানে জেলা পরিষদ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছে, সেই মামলায় আদেশ না হওয়া পর্যন্ত জেলা পরিষদ নিজের বলে সম্পত্তি দাবি করতে পারে না এবং কাউকে লিজও দিতে পারবে না। লিজ দিলেও সেটি সম্পন্ন বেআইনি হবে। যারা উচ্ছেদের সঙ্গে জড়িত তারা ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ক্রিমিনাল মামলা করতে পারবেন। মার্কেট ভ্যালু অনুযায়ী তিনি ক্ষতিপূরণ পাবেন। 

কেএনবি এ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান নাসির জানান, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ থেকে আমাদেরকে লিজ দেয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে। এর সঙ্গে কেএনবি এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

দোকান মালিক রাকিবুল ইসলাম জানান, আরএস, সিএএস এমনকি এসএ রেকর্ড অনুযায়ী আমি জমির বৈধ মালিক। কিন্তু সম্পন্ন পেশী শক্তি প্রয়োগ করে মার্কেটটি ভাঙা হলো। কেএনবির নাসির ষড়যন্ত্র করে এটা করেছে। ও এই জমি কিনতে আমাদের অনেক অত্যাচার করেছে। আমি নিয়মিত সরকারকে জমির খাজনা দিয়ে আসছি। 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"location";s:[0-9]+:"কুষ্টিয়া".*')) AND id<>68330 ORDER BY id DESC LIMIT 0,5

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড