• বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন! 

  শেরপুর প্রতিনিধি

১১ জুন ২০১৯, ২০:৪৩
গৃহবধূকে নির্যাতন
অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন (ছবি- দৈনিক অধিকার)

শেরপুরের নকলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ডলি খানম (২২) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার চোখে মুখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের কারণে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলেও জানা যায়।

সোমবার (১০ জুন) রাতে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। ডলি খানম পৌর শহরের কায়দা এলাকার কৃষক শফিউল্লাহর স্ত্রী। তিনি চন্দ্রকোনা কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা যায়, নকলা পৌর শহরের কায়দা গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে মো. শফিউল্লাহর সঙ্গে একখণ্ড জমি নিয়ে তার সহোদর ভাই আবু সালেহ (৫২), নেছার উদ্দিন (৪৮) ও সলিম উল্লাহর (৪৪) বিরোধ ও দেওয়ানী মোকদ্দমা চলছিল। গত ১০ মে সকালে ওই এলাকার গোরস্থান সংলগ্ন শফিউল্লাহর জমির ইরি-বোরো ধান আবু সালেহ ও তার লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে কাটতে শুরু করে। এ সময় শফিউল্লাহর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ডলি খানম চিৎকার দিয়ে বাঁধা দিতে গেলে আবু সালেহর নির্দেশে তার ছোটভাই সলিমউল্লাহ ও ভাইয়ের বউ লাখী আক্তারসহ অন্যান্যরা তাকে ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে তার চোখে মুখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দিয়ে তাকে টানাহেঁচড়া করে পাশের ক্ষেতের আইলের থাকা গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। পরে পাশের অন্য গাছের সঙ্গে টানা দিয়ে বেঁধে ফেলে তার দুই পা। 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ডলি খানমকে উদ্ধার করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে ঘটনায় জড়িত আবু সালেহ ও তার ছোট ভাইয়ের বউ লাখী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।  

অপরদিকে নির্যাতনে ডলি খানমের রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে ৭ দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ২২ মে পর্যন্ত ৭ দিন চলে তার চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। নির্যাতনের কারণে ডলি খানমের অকাল গর্ভপাত হয়।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ডলি খানমের স্বামী শফিউল্লাহ গত ৩ জুন শেরপুরের আমলী আদালতে আবু সালেহসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরীফুল ইসলাম খান এ ঘটনার তদন্ত করে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জামালপুরের পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন।

শফিউল্লাহ দৈনিক অধিকারকে বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তার বড়ভাই সেনাসদস্য নেছার উদ্দিনের ইন্ধনে তার স্ত্রী লাখী আক্তার ও অপর দুই ভাই আবু সালেহ ও সলিমউল্লাহসহ তাদের ভাড়াটে লোকজন তার স্ত্রী ডলি খানমকে নির্যাতন চালিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দিয়েছে। 

এ দিকে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। 

নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাহনেওয়াজ দৈনিক অধিকারকে বলেন, জমি-জমার বিষয় নিয়ে ভাই-ভাইদের মধ্যে বিরোধ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে দুই পক্ষকেই শান্ত করা হয়েছিল। গৃহবধূকে নির্যাতনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জামালপুর পিবিআইয়ের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রাণী সরকার দৈনিক অধিকারকে বলেন, মামলাটি এখনও হাতে পাইনি। পেলে অবশ্যই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওডি/এসএ 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"location";s:[0-9]+:"নকলা".*')) AND id<>68138 ORDER BY id DESC LIMIT 0,5

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড