• শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

গাছের সঙ্গে বেঁধে শিশু নির্যাতন করায় ইউপি সদস্য গ্রেফতার

  ঝালকাঠি প্রতিনিধি

১১ জুন ২০১৯, ১৫:১২
ঝালকাঠি
ছবি : দৈনিক অধিকার

ঝালকাঠির নলছিটিতে কবুতর চুরির অভিযোগে দুই শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে এক শিশুর মাথার চুল কেটে দিয়ে অমানবিক আচরণ করা হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক রবিবার বিকালে উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটায়। 

নির্যাতন ও চুল কাটার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের শিকার সজিব হোসেন খান বাকেরগঞ্জের তবিরকাঠি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং রিফাত হোসেন জয় একই গ্রামের আবদুল কুদ্দুস হাওলাদারের ছেলে। তারা দুজনেই স্থানীয় জেড এ ভূট্টো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। 

এ ঘটনায় জয়ের বাবা বাদী হয়ে সোমবার (১০ জুন) রাতে নলছিটি থানায় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ কনস্টেবল শাহ আলমসহ আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। 

পুলিশ রাতেই ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুরে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল অভিযোগ কেন্দ্র কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. শাহ আলমের বাড়িতে শনিবার রাতে কবুতর চুরি হয়। রবিবার সকালে পার্শ্ববর্তী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার তবিরকাঠি গ্রামের মো. সজিব হোসেন খান (১৪) ও রিফাত হোসেন জয় (১৪) নামে দুই শিশুকে আটক করে শাহ আলম ও তার ছেলেরা। পরে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের নয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বিচার বসিয়ে নির্যাতনের নির্দেশ দেয়। 

শাহ আলম ব্লেড দিয়ে জয় নামে এক শিশুর মাথার মাঝখান থেকে চুল কেটে দেয়। তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। পুরো ঘটনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন স্থানীয় লোকজন। চুল কাটা ও গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের চিত্র ভিডিও করে এবং ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। 

নির্যাতনের শিকার জয় জানায়, তাদের রাত থেকে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। এ সময়ে তাদের কোনো কিছু খেতে দেয়া হয়নি। দফায় দফায় মারধর করা হয়েছে। বিকালে সালিশের কথা বলে গাছের সাথে বেঁধে মেরেছে। পরে শাহ আলম পুলিশ ব্লেড দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে।

জয়ের বাবা আবদুল কুদ্দুস বলেন, আমার ছেলের নামে কবুতর চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করে চুল কেটে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমি জরিমানার টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে এনেছি। তারা আমার ছেলের ন্যাড়া মাথার ছবি ফেসবুকে দিয়েছে। অনেকে কল দিয়ে ঘটনা জানতে চায়। লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছি না। আমরা গরিব বলে কি এ অমানবিকতার বিচার হবে না?

সিদ্ধাকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলে দুটি আমাদের গ্রামে এসে কবুতর চুরি করেছে। এর আগেও তারা কয়েকজনের বাসা থেকে কবুতর নিয়ে গেছে। আমি তাদের আটক করিনি কিংবা মারধর করিনি। আমি ঘটনাটি শুনেছি মাত্র। এলাকার প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সিদ্ধকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জেসমিন ওয়াবেদ বলেন,আমার একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে বরিশালে ব্যস্ত ছিলাম। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অল্প বিস্তর শুনেছি।

নলছিটি থানার ওসি মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, নির্যাতনকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নির্যাতনের শিকার জয়ের বাবা মামলা দায়ের করলে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। 

ওডি/আরবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড