• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

হারানো ঘর ফিরে পেলেন বৃদ্ধ বাবা-মা

  মেহেরপুর প্রতিনিধি

২৮ মে ২০১৯, ১১:০৮
মেহেরপুর
জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে ওই বাবা-মা জমি ফিরে পেলেন

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে প্রতারণা করে বাবার কাছে থেকে জমি লিখে নিয়ে বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় হাশেম আলী নামের এক ব্যক্তি। অবশেষে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে ওই বাবা-মা জমি ফিরে পেলেন এবং সেই জমিতে সরকারিভাবে ঘর নির্মাণের আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসক।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লোকজন চেষ্টা করেও বাবা-মাকে বাড়িতে তুলে দিতে পারেননি, এমনকি জমিও ফেরত নিয়ে দিতে পারেননি।

জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি সরেজমিনে গিয়ে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ সময় মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার, মহাজনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু, সহকারী কমিশনার মহিদুল ইসলাম, কোমরপুর আইসি ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই দেবাশীষ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন।

জানা গেছে, কোমরপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে হাশেম আলী জমি নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মায়ের সাথে দুর্ব্যবহার করে আসছিল। ছেলের অত্যাচারে বাবা তার নামে এক শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে চেয়েছিল। ওই সুযোগে হাশেম আলী ছলচাতুরী করে বাবা-মায়ের পুরো তিন শতক জমি লিখে নেয়। পরে জমি রেজিস্ট্রি হয়ে যাওয়ার পর বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বাবা-মায়ের ঘর ভেঙে দেয়, সেখানে পাকা বাড়ি করার জন্য। 

এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় মেম্বারসহ এলাকার লোকজন কয়েক দফা মীমাংসা করে হাশেমকে জমি ফেরত দিতে বললেও সে জমি ফেরত না দিয়ে বাবা-মাকে অত্যাচার করত। এমনকি আদালতে একটি মামলাও দায়ের করেন বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে।

এ দিকে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে হাশেমের মা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন।

জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে হাশেম আলীর সাথে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। 

হাশেম আলী জেলা প্রশাসকের কথা মতো আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বাবার নামে দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং বাবা-মায়ের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

হাশেম আলী এ সময় বলেন, আমি ভুল করেছিলাম। বাবার নামে দুই শতক জমি লিখে দেব। বাবা-মায়ের সাথে আর কখনো খারাপ ব্যবহার করব না।

বাবা আবুল কাশেম বলেন, তিন বছর ধরে ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। তার মামলায় আসামিও হয়েছি। আর সহ্য করতে পারছিনা বলে কেঁদে উঠেন।

মহাজনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোমরপুর গ্রামে হাশেম আলীর সাথে তার বাবা মায়ের দ্বন্দ্ব চলছিল। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মীমাংসার জন্য কয়েকবার তাদের সাথে বসেছি। তারপরও কোনো সমাধান হয়নি। পরে আজ জেলা প্রশাসক মহদোয়ের হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের এই দ্বন্দ্ব নিরসন হলো। আজ থেকে তারা একই সাথে বসবাস করবে।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি বলেন, হাশেম আলী প্রতারণা করে তার বাবার সাথে জমি লিখে নিয়ে বাবা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। তার মা আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুজিবনগর ইউএনও, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে মীমাংসা করে দেওয়া হয়। আগামী বৃহস্পতিবার হাশেম আলী তার বাবার নামে দুই শতক জমি লিখে দেবেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে তার ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করে দেব।

ওডি/আরবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড