• সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

এক বাড়িতেই ২৬ জন ভিক্ষুকের বসবাস

  বরগুনা প্রতিনিধি

২২ মে ২০১৯, ০৩:০৪
ভিক্ষুক
ভিক্ষুক ( ছবি : দৈনিক অধিকার )

অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি এক বাড়িতেই ২৬ জন ভিক্ষুকের বসবাস। বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের খোলপটুয়া গ্রামের লওয়াই বাড়ি। ভিক্ষুক বাড়ি নামেই এই বাড়ি পরিচিত। 

মঙ্গলবার (২১ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই বাড়িতে মোট ১৪টি পরিবারের বসবাস করে। তারা হলেন, গনিই লওয়াই, মোশ্বেদা, তাজেনুর, কুলসুম, ফাতেমা, হনুফা, ছকিনা, মালেকা, রিজিয়া, খোদেজা, ময়না, হালিমা, খোকন, রাবেয়া। এসব পরিবারেই কেউ না কেউ পেশা হিসেবে ভিক্ষাবৃত্তিকেই বেছে নিয়েছেন। তবে এই বাড়িতে পুরুষ ভিক্ষুককের চেয়ে নারী ভিক্ষুকই বেশি। বাড়ির বেশির ভাগ পুরুষ শারীরিক পরিশ্রমে অক্ষম এবং নারীদের জন্য নেই পযাপ্ত কর্মক্ষেত্র। তাই জীবনের তাগিদে বাড়ির সব নারীকেই বেছে নিতে হয়েছে ভিক্ষাবৃত্তি।

এই বাড়িতে মাতৃস্নেহ ছাড়াই বেড়ে উঠছে বাড়ির ছোট ছোট শিশুরা এবং তারা বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার সুযোগ থেকে। লওয়াই বাড়ির ভিক্ষুক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় প্রভাব পড়ছে তাদের উপার্জনে। একজন সাধারণ ভিক্ষুকের থেকে তাদের উপার্জন অনেক কম এবং ক্রমশ দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বহন।

খোলপটুয়া গ্রামের লওয়াই বাড়ির ভিক্ষাবৃত্তি পেশায় থাকা আ. গনি লওয়াই জানান, ‘মোর বাপে হেই কোলে থাহা অবস্থায় মরছে। মায় তিন ভাই বোনরে কি খাওয়াইয়া মানু হরবে। হের লইগ্যা মায় ছোট থেকেই মোরে কোলে কোলে লইয়া ভিক্ষা হরছে। হ্যার পর মায়ও মরছে। এহন মুই কি খামু। হের লইগ্যা মুইও ছোডকাল থেইক্যা ভিক্ষা হরি। মোর একটা পা দিয়া হাটতেও পারি না। মোগো বাড়ির ভিক্ষুকদের কেউ ভালো চোহে দ্যাহে না। বয়স্ক ভাতা ছাড়া মোরা কিছুই পাই না। 

সক্ষম নারী ভিক্ষুকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুধুমাত্র কর্মসংস্থানের অভাবেই ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নিয়েছেন তারা। তারাও চায় সম্মানজনক পেশায় যুক্ত হতে। স্বপ্ন দেখে তাদের সন্তানেরা বেড়ে উঠবে অন্য সব সাধারণ শিশুদের মতো।

বামনা উপজেলা সমাজ সেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে মোট ২৪১ জন ভিক্ষুক রয়েছে। এর মধ্যে বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে ৬৮ জন, বামনা সদর ইউনিয়নে ৪৮ জন, রামনা ইউনিয়নে ৫৭ জন ও ডৌয়াতলা ইউনিয়নে রয়েছে ৬৮ জন ভিক্ষুক। 

বামনা উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মিজান সালাহ উদ্দিন বলেন, সারাদেশে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ বর্তমান সরকার হাতে নিয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছি। সে অনুসারে এখানে তালিকাও করা হয়েছে। সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলে আমরা এ উপজেলার ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবো। 

বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, এটা আসলেই অবিশ্বাস্য বিষয়। এক বাড়িতে ২৬ জনই ভিক্ষাবৃত্তি পেশার এই প্রথম শুনলাম। তবে তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওডি/এসএএফ 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড