• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বাড়িঘর

  নওগাঁ প্রতিনিধি

১৮ মে ২০১৯, ১৫:৪৪
মধুপুর উচ্চ বিদ্যালয়
কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড রাণীনগরের মধুপুর উচ্চ বিদ্যালয় (ছবি : দৈনিক অধিকার)

নওগাঁর রাণীনগরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে প্রায় ৫ শতাধিক কাঁচা-পাকা ঘর-বাড়ি ও একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শুক্রবার (১৭ মে) বিকালে এই অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড়। এই ঝড়ে শুধু ঘর-বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও। এছাড়াও ভারী বৃষ্টিপাতে ক্ষতি হয়েছে মাঠের পাকা ধানসহ অন্যান্য ফসলের। 

ঝড়ে রাস্তার গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় রাস্তায় যানবাহন যাতায়াত করতে না পারায় কয়েক ঘণ্টার জন্য তীব্র যানজট তৈরি হয় উপজেলার বিভিন্ন সড়কে। আবার ঝড়ের পর থেকে উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে। শনিবার (১৮ মে) দুপুর পর্যন্ত উপজেলার ৩০শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে জানা গেছে। অপরদিকে উপজেলার কৃষি জমিতে প্রায় ৭০শতাংশ ইরি-রোবো ধান কাটা হয়েছে। বাকি রয়েছে ৩০ শতাংশ। ঝড়ের কারণে মাঠের ধান হেলে পড়ে গেছে। 

জানা গেছে, শুক্রবার বিকালে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে একডালা, কালীগ্রাম, পারইল, গোনা ও মিরাট ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড়ে বাড়ি-ঘর ও বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে কালীগ্রাম ইউনিয়নের মধুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদানের পাঁচটি কক্ষের টিনের ছাউনি ঝড়ে উড়ে গেছে। এতে করে ওই প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত পাঠদানের কক্ষগুলো দ্রুত সংস্কার না করলে শতাধিক শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে পাঠ গ্রহণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  

মধুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর বলেন, আমার বিদ্যালয়ে শ্রেণি কক্ষের সঙ্কট দীর্ঘদিনের। তাই বাধ্য হয়েই পরিত্যক্ত টিনের কক্ষগুলো কোনো মতে সংস্কার করে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু শুক্রবারের কালবৈশাখী ঝড়ে সেই কক্ষগুলোর উপর গাছ ভেঙে পড়ায় ও ঝড়ে কক্ষের টিন উড়ে যাওয়ায় সেই সব কক্ষ দ্রুত সংস্কার করা না হলে শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে পাঠ গ্রহণ করতে হবে। তাই আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

রাণীনগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম সাইদী সবুজ খান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও বিদ্যুতের পোল হেলে গেছে আবার কোথাও বিদ্যুতের তারের উপর গাছ ভেঙে পড়ায় তার ছিঁড়ে গেছে। আমরা শনিবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার প্রায় ৩০শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রদান করতে পেরেছি। পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করতে আরও বেশ কিছু সময় লাগবে। 

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়নগুলো পরিদর্শন করেছি। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা তৈরি করেছি। আমরা এই তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেবো। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থ পেলে তা আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রদান করবো। 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড