• শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ক্রিকেট ব্যাট তৈরির স্বর্গ নেহালপুরের মিস্ত্রীপাড়া

  রূপসা প্রতিনিধি,খুলনা

১৬ মে ২০১৯, ১৩:২৭
খুলনা
কারিগররা ব্যাট তৈরি করছেন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দেশে এ মুহূর্তে সবচাইতে জনপ্রিয় খেলার নাম ক্রিকেট। আন্তর্জাতিক খেলাগুলোতে আমাদের ক্রিকেটাররা অনেক সুনাম বয়ে আনায় এ খেলা এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জেও।

এই খেলাটির মূল উপাদান ব্যাট, স্ট্যাম্প ও বেল। এখন এগুলোই তৈরি হচ্ছে খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের নেহালপুর গ্রামে। ব্যাটসহ অন্যান্য কুটির শিল্পকর্ম তৈরিতে প্রসিদ্ধ হওয়ায় লোকজন গ্রামটিকে মিস্ত্রীপাড়া বলে চেনেন।

এখানকার কারিগরেরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করছেন এসব উপকরণ। তাদের তৈরি ক্রিকেট সামগ্রী এখন শোভা পাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকার স্পোর্টস মার্কেটের অভিজাত বিপণী বিতানগুলোতে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের নেহালপুর এলাকা ঘুরে জানা যায়, এ গ্রামের ৩০ জন যুবক নিজ নিজ বাড়িতে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগেই গড়ে তুলেছেন ক্রিকেট ব্যাট, স্ট্যাম্প ও বেল তৈরির কারখানা।

এসব কারখানায় আমড়া, কদম, ছাতিয়ান গাছের কাঠ দিয়ে গড়ে প্রতিদিন কয়েকশ ক্রিকেট ব্যাট তৈরি করা হচ্ছে।

একইভাবে শিবং মেহগনি গাছের কাঠে ব্যাটের হাতল, স্ট্যাম্প ও বেল তৈরি হচ্ছে। ব্যাট এবং হাতল আলাদাভাবে তৈরি করে জোড়া লাগানো হয়।

এখানকার কারিগররা স্থানীয় বাজার থেকে কাঠ কিনে সমিল থেকে নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী কেটে নেন। এরপর প্রায় এক মাস ধরে কাঠ রোদে শুকাতে হয়। শুকানোর পর বাইশ নামক যন্ত্র দিয়ে কেটে নির্দিষ্ট সাইজ করা হয়।

এরপর ব্যাটের সঙ্গে আলাদাভাবে তৈরিকৃত বাট আঠা দিয়ে জোড়া লাগাতে হয়। বাট লাগানোর পর হাতেই করা হয় ফিনিশিংয়ের কাজ। এরপর পুটিং লাগিয়ে শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষে মসৃণ করতে হয়। পর্যায়ক্রমে ব্যাটের ভেতর পাটে প্রটেকটর, স্টিকার এবং হাতলে গ্রিপার লাগিয়ে তিন ধাপে কাজ শেষে প্লাস্টিকের কাগজে প্যাকেটিং করতে হয়। এভাবেই তৈরি হয় খেলার উপযোগী ব্যাট।

ব্যাট তৈরি সম্পন্ন হলে তা পাইকারি মূল্যে বাজারে বিক্রি করা হয়। প্রতিটি ব্যাটের উৎপাদন ব্যয় হয় ১৪০-২৫০ টাকা। বিক্রি করা হয় ১৭০-২৮০ টাকা। এ ব্যাটগুলো চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব পর্যায়ের সংগঠনের কাছে স্বল্প মূল্যে সরবরাহ করা হয়।

ক্রিকেট ব্যাটের কারখানার মালিক বিল্লাল শেখ দৈনিক অধিকারকে বলেন, প্রথম দিকে আমার বাবার ছাতার বাট তৈরির কারখানা ছিল। পৈত্রিক সূত্রে তিনিও ওই ব্যবসা করতেন। তবে নতুন কিছু করার ভাবনা থেকেই মূলত তিনি ক্রিকেট ব্যাট তৈরির প্রতি আকৃষ্ট হন। দীর্ঘ ১০ বছর যাবত তিনি এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বাইরের দেশগুলো থেকে কম দামে ব্যাট আসার কারণে তাদের তৈরিকৃত ব্যাটের এখন আর তেমন চাহিদা নেই। যার ফলে এ ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পথে।

অপর উদ্যোক্তা সুব্রত রায় বলেন, আমরা সরকারি-বেসরকারি কোনো সহায়তা পাই না। তবে কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি সংস্থা সামান্য ঋণ দিতে শুরু করেছিল। পরে সব ঋণের টাকা উঠিয়ে নিয়ে এখন আর আমাদের লোন দেই না। আর এনজিওগুলো থেকে লোন নিলে তাদের উচ্চ হারে সুদ দিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে সরবরাহ এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এটি একটি বড় শিল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ওডি/এমবি 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড