• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শাশুড়ি-ননদের দেয়া আগুনে নিহত গৃহবধূ

  পাবনা প্রতিনিধি

১৫ মে ২০১৯, ০৮:৩৯
পাবনা
নিহত সজি খাতুন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

পাবনার সুজানগর উপজেলার তালিমনগর গ্রামে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দেয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ সজি খাতুন (২৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৪ মে) রাতে মারা গেছেন। গত ৫ দিন ধরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ মে) ভোরে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

আমিনপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মঈনুদ্দিন সজির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত সজি খাতুন বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার তালিমনগর গ্রামের প্রবাসী ছুরমান মণ্ডলের স্ত্রী।

থানায় দায়ের করা মামলার বরাত দিয়ে আমিনপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মঈনুদ্দিন আরও জানান, ১২ বছর আগে একই থানার তালিমনগর গ্রামের গেদা মণ্ডলের ছেলে সুরমান আলীর (৩০) সঙ্গে সজি খাতুনের বিয়ে হয়। বছর খানেক আগে সুরমান আলী কাজের সন্ধানে মালয়েশিয়া যান। মালয়েশিয়া থেকে তিনি টাকা পাঠাতেন তার বোন (সজির ননদ) সামেলার নামে। 

সামেলা সুরমানের পাঠানো টাকা থেকে প্রতি মাসে আড়াই থেকে ৩ হাজার করে টাকা দিত সজিকে। এই টাকা দিয়ে তিনি ৬ বছর এবং ৪ বছর বয়সী দুটি শিশু সন্তান নিয়ে জীবন নির্বাহ করতেন। কিন্তু এ টাকায় তার সংসার চলতো না। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ তীব্র হতে থাকে। ২ মাস আগে সজিকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় শাশুড়ি-ননদ, ভাসুরসহ পরিবারের লোকজন।

এ ব্যাপারে আমিনপুর থানায় অভিযোগ দেয়া হলে পুলিশ কয়েকদিন আগে সজিকে ২ সন্তানসহ বাড়িতে তুলে দিয়ে যায়। এতে তার শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। সজির ২ সন্তান এবং সজির আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে এবং পুলিশ ও সজির স্বজনদের খবর দেন।

পরে পুলিশ ও স্বজনরা এসে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাবনা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর বাবা ফজিবর রহমান বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ননদ সামেলা খাতুনকে আটক করে।

আমিনপুর থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম পিপিএম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর কারণে মামলাটিতে একটি ধারা যুক্ত করে তা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

ওডি/এমবি 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড