ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় যুবকের আত্মহত্যা

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৪৫

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রাজীব আহম্মেদ (১৭) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে প্রথমে বিষপান করে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে; পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। 

আর সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। রাজীব আহম্মেদ দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ান পুর ইউনিয়নের ইব্রাহীম পুর গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে। 

এদিকে রাজীবের আত্মহত্যার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজের ফেসবুকে পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, ভাই-ভাবিসহ সকলের কাছে বিদায় জানিয়ে একটি পোস্ট করে রাজীব। রাজীবের সেই পোস্টটি তার বড় ভাই দেখা মাত্র বাড়িতে ফোন করে। কিন্তু তার আগেই বিষ পান করে রাজীব। রাতেই রাজীবের মরদেহ তার নিজ বাড়িতে আনা হয়েছে।

অপরদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সুকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘যুবকের আত্মহত্যার বিষয়টি শুনছি। বিস্তারিত শুনে সাংবাদিকদের পরে বিস্তারিত অভিহিত করব।’

নিহত রাজীর মৃত্যুর আগে তার ভাষায় ফেসবুকে সেই পোস্টটি সম্পূর্ণ তুলে ধরা হলো :- 

‘এটা আমার লাইফের শেষ স্ট্যাটাস। এটা জানি কথা গুলো শোনার পর অনেকে মানতে পারবে না, আবার অনেকের কাছে ভালো লাগবে শুনে। কিন্তু এটাই হয়ে গেছে সময়ের কাছে বাস্তবতার কাছে। আমি হেরে গেলাম খুব ইচ্ছে ছিল আর দশ জনের মতো স্বাভাবিক ভাবে জীবন চলানোর কিন্তু পারলাম না, ডিসিশনটা আমি খুব সহজ ভাবে নেই নাই।

আমাকে বাধ্য হয়ে নিতে হইছে। ডিপ্রেশন আমাকে শেষ করে দিছে। মেন্টালি ফিজিক্যালি কোনোভাবেই আমি ভালো নেই।

fb post

স্বপ্ন ছিল অনেক, কিন্তু সেটা পূরণ করতে পারলাম না, তার আগেই চলে যেতে হলো আমাকে মাফ করে দিবেন সবাই, বড় ভাই-ভাবি, মেজো ভাই, ফ্রেন্ডস কারো সাথে যদি কখনো অন্যায় করে থাকি তাহলে ক্ষমা করে দিয়েন সবাই, আর ফ্যামিলির কথা কি বলব; যদিও সবাই ভুলে যাবে কিন্তু ফ্যামিলি কখনো ভুলবে না। বাবা-মা, ভাই সবাই আমাকে মাফ করে দিয়ো ভালো থেকো তোমরা সব সময়।

আরও পড়ুন :- বাড়ি-বাড়ি হামলা চালাচ্ছে লঙ্কানরা, পালাচ্ছে শতশত মুসলিম

দোস্ত তোরাই আমার লাইফে একটা বেস্ট পার্সোন ছিলি। সব সময় আমাকে সাপোর্ট করতি ভালো উপদেশ দিতি কিন্তু আমি শুনি নাই আজকে যদি তোর কথাগুলো শুনতাম তাহলে আর এই দিন দেখতে হতো না। ভালো থাকিস সব সময় নিজের খেয়াল রাখিস আর আমাকে মাফ করে দিস দোস্ত। ভালো থেকো প্রিয় মা-বাবা। ভালো থেকো প্রিয় মানুষ। ক্ষমা করে দিও আমায়...!!

সব শেষ একটা কথা বলে যাই আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, ভালো থাকবেন সবাই আল্লাহ হাফেজ।’

ওডি/কেএইচআর