• মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

শেরপুরের ‘রং মহল’কে গোল্ডেন হেরিটেজ হিসেবে রাখার দাবি

  শাকিল মুরাদ, শেরপুর ১৭ মার্চ ২০১৯, ১১:১০

শেরপুর
শেরপুরের রং মহল

অপূর্ব কারুকার্যখচিত সবগুলো ভবন। উত্তর-দক্ষিণে প্রলম্বিত রং মহলের তিন অংশ। প্রথম অংশে জমিদারদের খাস দরবার কক্ষ ও জলসা ঘর। দ্বিতীয় অংশে জমিদারদের খাস কামরা। তৃতীয় অংশে নায়েব-ম্যানেজারের কাচারি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। রং মহলের প্রবেশ পথের দরজা দুটি। ডানদিকের দরজা বরাবর টানা লম্বা করিডোর। করিডোর ও ভিতরের অর্ধেক দেয়াল জুড়ে বিরাজ করছে রঙিন চিনাপাথরের ফ্রেসকো ও ফুল লতাপাতার আঁকা টালি বসানো। কবির ভাষায়’ আজি হতে শতবর্ষ পরে কে মোর কবিতাখানির মতো শতবর্ষ পরও সেগুলোর ঔজ্জ্বল্য আজও চির যৌবন, চির উজ্জল। বাড়িটির মালিক ছিলেন জমিদার সত্যেন্দ্র মোহন চৌধুরী ও জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরী। এর স্থাপত্যশৈলীর সাথে গ্রিক স্থাপত্যের মিল রয়েছে। যা একে অন্যান্য জমিদার বাড়ি থেকে আলাদা করেছে। চমৎকার নকশা করা স্তম্ভগুলো মুগ্ধ করবে যে কোন দর্শনার্থীকে। জমিদার বাড়ির ঠিক দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত রং মহল। চমৎকার বাড়িটি দেখলেই বোঝা যায় জমিদার কেমন সংস্কৃতি প্রিয় ছিলেন! নাচ গানসহ অন্যান্য সকল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এখানেই হত। রং মহলের ডানদিক ঘেঁষে শান বাঁধানো পুকুর। জলে জলসা ঘর প্রতিবিম্বিত হয়। সেই আমলে রং মহলের দীর্ঘ করিডোর ধরে প্রতিটি কক্ষে ঢোকার দরজার পাশে ছিল পিতল ও পাথরের নানা ধরনের মূর্তি আর বিরাট আকারের ফুলদানি। 

শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন তিনআনী জমিদারদের রং মহল এটি। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে পোনে তিনআনী জমিদার কিশোরী মোহন চৌধুরীর আমলে রং মহল, শীষ মহলসহ নানা সৌধ নির্মাণ করা হয়। এসব স্থাপনাকে গোল্ডেন হেরিটেজ হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ। শেরপুরের জমিদারদের মধ্যে পোনে তিনআনী জমিদার পরিবার শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা ছিলেন। ছিল তাদের জয় কিশোর লাইব্রেরি ভবন, কূল দেবতা অন্নপূর্ণা-গোপীনাথের অপরূপ সুন্দর মন্দির যার মাঝে রয়েছে প্রাচ্য, পাশ্চাত্য ও মুসলিম স্থাপত্যরীতির অপূর্ব সুসমন্বয়। লাইব্রেরিতে ছিল পাঁচ সহস্রাধিক বই। অধিকাংশই বিজ্ঞান বিষয়ক। পরের আধুনিক ইতিহাসে জমিদার বাড়িটিকে কৃষি প্রশিক্ষণালয়ে রূপান্তরিত করা হলে লাইব্রেরি ভবনটি ভেঙে সেখানে টিনশেডের শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ করা হয়। রং মহলটি এক সময় কৃষি প্রশিক্ষণালয়ের প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহার হলেও এখন তা আর ব্যবহার হচ্ছে না। কেননা জমিদারি বিলাসিতার রং মহলের দিন ফুরিয়ে গেছে। তবে ভবনটি এতোই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে যে, সামান্য বৃষ্টিতেই এর ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। স্থানে স্থানে সুড়কির গাঁথুনি নড়বড়ে। পলেস্তারা খুলে পড়ে যখন তখন। 

মানবাধিকারকর্মী শামীম হোসেন বলেন, প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর আগেও এই রং মহল ভবনে অধ্যক্ষ ও অন্যান্য বিভাগের অফিস কক্ষ ছিল। কিন্তু ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি পড়ায় এবং নতুন প্রশাসনিক ভবন তৈরি হওয়ায় রং মহল ভবন থেকে সকল অফিস স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে রং মহলটি গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরো জানান, প্রাচীন ইতিহাস সমৃদ্ধ শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী রং মহল ও শীষ মহলটি হেরিটেজের আওতায় এনে তা রক্ষা করা প্রয়োজন। তা না হলে ইতিপূর্বে শহরের ঐতিহ্যবাহী নয়আনী জমিদারের কাঠের তৈরি নাট মন্দিরের মতো এটিও হারিয়ে যেতে পারে।

ঐতিহ্যবাহী এককালের দৃষ্টিনন্দন রং মহল, শীষ মহল ও অন্যান্য স্থাপত্যগুলোর প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করে এগুলোকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করার প্রস্তাব ও দাবি স্থানীয়দের।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড