• শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

পালিয়েছে ভুয়া চক্ষু চিকিৎসক

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি ১৪ মার্চ ২০১৯, ১১:০৪

শরীয়তপুর
ভুয়া চক্ষু চিকিৎসক জাফর আলী

ভুয়া চক্ষু চিকিৎসক জাফর আলীকে ধরতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পাঠিয়েছেন সিভিল সার্জন খলিলুর রহমান। বুধবার (১৩মার্চ) সন্ধ্যায় আংগারিয়া বাজার লতিফ ড্রাগ হাউজে  ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় ভুয়া চিকিৎসক। পরে লতিফ ড্রাগ হাউজে থাকা চেম্বার থেকে তার প্রেসক্রিপশন উদ্ধার করা হয়েছে। 

শরীয়তপুর সিভিল সার্জন মো. খলিলুর রহমান দৈনিক অধিকারকে জানান, তথাকথিত চক্ষু চিকিৎসক জাফর আলী পালিয়ে যায়। তাকে ফোন করে বলা হয়েছে। তার সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে অফিস সময়ে দেখা করার জন্য। ভুয়া হলে সে আর দেখা করবেনা। আমরা নজরদারীতে আছি। আপনারাও খোঁজ রাখবেন। 

উলেখ্য, চশমার পাওয়ার মাপার কাজ শিখে হয়ে গেছেন চক্ষু চিকিৎসক। চেম্বারে রোগী দেখেন ভিজিট নিয়ে। প্রেসক্রিপশন করেন অ্যান্টিবায়োটিক ঔষুধ।

এমন অভিযোগ উঠেছে, মো. জাফর আলীর বিরুদ্ধে । তার ভিজিটিং কার্ডে লেখা রয়েছে, চক্ষু চিকিৎসক। এম.এল.ও.পি অপথালমোলজি (চক্ষু), ট্রেইন্ড রিফ্রেকশন (BICO) এন্ড চক্ষু হাসপাতাল কুমিল্লা। বি.জে.এ.কে.এস কুমিল্লা। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ গভ. রেজি. নং-২৮৯। 

জেলার বিভিন্ন  জায়াগায় মেডিসিনের দোকান ও চশমার দোকান গুলোতে চেম্বার পরিচলনা করেন।   

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চশমার’ ব্যবসায়ী জানান, বেআইনি ভাবে ভিজিটিং কার্ডে চুক্ষু চিকিৎসক লিখেছেন।  ৩শ’ টাকা ফি’ নিয়ে প্রেসক্রিপশন করেন। লিখে দেন বিভিন্ন কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ। ভুল চিকিৎসা দিয়ে মানুষের ক্ষতি করছে। এই সব ভুয়া চিকিৎসকের কারণে ঢাকা থেকে ডিগ্রী প্রাপ্ত ভালো  চোখের ডাক্তার আসেনা। সে ২০০৭ সাল থেকে এই জেলায় চক্ষু চিকিৎসা করেন। তিনি শরীয়তপুর চক্ষু হাসপাতালেরও নিয়মিত ডাক্তার ও মালিক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  স্বনামধন্য ঔষুধ কোম্পানির এক প্রতিনিধি জানান, জাফর আলী সুবিধা নিয়ে প্রেসক্রিপশন করে নিন্ম মানের ঔষুধ। ভালো কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের সাথে তিনি খারাপ ব্যবহার করেন। সে শরীয়তপুর চক্ষু হাসপাতালের মালিক। আমাকে তার হাসপাতালে ঢুকতে নিষেধ করে দিয়েছেন।
          
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দৈনিক অধিকার এর অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুয়া চক্ষু ডাক্তার জাফর আলী’র বাড়ি ফরিদপুরের ভাংগা উপজেলায়। তিনি ডাঙাদরপাড়া গ্রামের শেখ আলাল উদ্দিনের ছেলে।

চেম্বার করেন সদর উপজেলার আংগারিয়া বাজার লতিফ ড্রাগ হাউজ ও পালং বাজার রিপন ব্লক মার্ট এন্ড অপটিকস এ। 

 সদর উপজেলার আংগারিয়া বাজারে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চক্ষু ডাক্তারের কথা জিজ্ঞাসা করতেই  দেখিয়ে দেন লতিফ ড্রাগ হাউজ। ড্রাগ হাউজ জানায়, তিনি রোগী দেখে চলে গেছেন।

পালং বাজারে রিপন ব্লক মার্ট এন্ড অপটিকস গিয়ে চক্ষু ডাক্তারের কথা বলতেই জানান, ডা. জাফর আলী রোগী দেখে চলে গেছেন। এখন ভোজেশ্বর আছেন।
      
এই ভুয়া চক্ষু ডাক্তারের পরিচিত ওবাইদুল দৈনিক অধিকারকে জানান, জাফর আলী জেলার বিভিন্ন ওষুধের দোকানে চেম্বারে বসে রুগী দেখেন। সে এক জায়গায় বেশীক্ষণ থাকে না। দেড় থেকে দুই ঘন্টা পরপর চেম্বার বদলায়। আগে থেকেই ফার্মেসি ওয়ালা প্রচার করে রোগী বুকিং দিয়ে রাখেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চশমার দোকানদার জানান, ভিজিটিং কার্ডে অবৈধ ভাবে চক্ষু চিকিসৎক নাম দিয়ে, এবং ভুয়া কোর্স এর সনদ ব্যবহার করে চিকিৎসার নামে মানুষের সাথে  করে যাচ্ছে প্রতারণা। এই ভুয়া চিকিৎসকের জন্য ঢাকা থেকে ভালো কোন চোখের ডাক্তার আসেনা। কারণ এই ভুয়া ডাক্তার ছোট সময় নিয়ে সাড়া সপ্তাহ রুগী দেখে বেড়ান। ঢাকা থেকে একজন পাশকরা ডাক্তার শরীয়তপুর এসে যদি ৫ হাজার টাকা নিয়ে যেতে না পারেন। তাহলে কেন আসবেন। 

স্বনামধন্য  ঔষুধ কোম্পানির  কর্মরত একজন প্রতিনিধি বলেন, এই ভুয়া চিকিৎসক ভালো কোম্পানির কোন ঔষুধ লিখে না। নিন্ম মানের ঔষুধ কোম্পানির কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে, রোগীদের আজে-বাজে কোম্পানির ঔষুধ লিখে দেন।
            
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কিছু ফার্মেসি ও চশমার দোকান তাদের ব্যবসায়ী স্বার্থে যাচাই বাছাই না করে এসব চিকিৎসক বসান।

এই ভুয়া চক্ষু ডাক্তার ৩০০ টাকা পরামর্শ ফিতে শরীয়তপুর চক্ষু হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখেন।  এছাড়াও ক্যাম্প বসিয়ে চক্ষু হাসপাতাল এর ব্যানারে 'ঢাকা থেকে আগত বিশেষজ্ঞ চক্ষু ডাক্তার রোগী দেখবেন' মর্মে মাইকিং করা হয়। তা শুনে গ্রামের সহজ সরল মানুষ দলে দলে তাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসে।

এ বিষয়ে ভুয়া চক্ষু ডাক্তার জাফর আলীর কাছে চিকিৎসার বৈধতা আছে কিনা? জানতে চাইলে, সে কোন ধরণের বৈধ কাগজ-পত্র দেখাতে পারেনি। সিভিল সার্জনেরও কোন অনুমতিপত্র নেই। 
 
তিনি দৈনিক অধিকার এর কাছে তার চিকিৎসা কে অবৈধ বলে স্বীকার করেছেন। অনুমোদন ছাড়া আর এই কাজ করবে না বলে জানিয়েছেন। তারপরও চালিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম।    
 
বিশেষজ্ঞদের মতে বেসরকারী চিকিৎসাসেবা আইন না থাকায় কোয়াক চিকিৎসকেরা নিজেদের বিভিন্নভাবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের চিকিৎসকেরা প্রাইভেট মেডিক্যাল প্র্যাক্টিশনার্সের মধ্যেও পড়ে না। 
    
এই জাফর আলীর চিকিৎসা নিয়ে চোখ হারাতে বসেছেন, শরীয়তপুর ধানুকা গ্রামের উবাইদুল (৩২)  চিকন্দির সুজন খান (২৮) আঙ্গারিয়া'র টিটু হাওলাদার (৩৮) গোসাইরহাট উপজেলার শামীম তালুকদার তাদের অভিযোগ ভালো হওয়ার বদলে মন্দ হয়েছে। ঢাকায় গিয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে ভালো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বিষয়টি সিভিল সার্জন মো. খলিলুর রহমান দৈনিক অধিকারকে  মুঠোফোনে জানান, এই লোকতো জীবনে আমার সাথে কখনো দেখা করে আনাই। আমি অত্যান্ত স্বচ্ছ কাজ করি। এমবিবিএস’ ডাক্তাররাই তো চোখের রোগী দেখতে পারেনা।  এমবিবিএস পাশ করার পর, আবার একটা চোখের উপর ডিপ্লোমা করতে হয়। তারপর সে রোগী দেখতে পারবে। আপনারা তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিন। তারপর আমি দেখবো।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড