• শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

পাহাড়ে উৎপাদিত চুইগাছ যাচ্ছে সারাদেশে

  সোহেল রানা, দীঘিনালা প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি

০৫ মার্চ ২০১৯, ১৬:৫০
খাগড়াছড়ি
চুই গাছ প্যাকিং করছে চাষিরা

পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে মসলা জাতীয় উদ্ভিদ চুই গাছ। একসময় এটি বন্য লতা নামে পরিচিতি থাকলেও বর্তমানে এটি মসলার সাথে সুস্বাদু খাবার হিসেবে বেড়েছে এর চাহিদা ও কদর। পাহাড়ের স্থানীয় জুমচাষিরা জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসছেন বাজারে। পাহাড়ের সংগৃহীত চুইগাছ যাচ্ছে সারাদেশে। 

স্থানীয়রা চুইগাছ সম্পর্কে জানা যায়, চুইগাছ মসলা জাতীয় অপ্রচলিত উদ্ভিদ। এটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ। এর কাণ্ড ধূসর এবং পাতা পান পাতার মত সবুজ রঙের। এর কাণ্ডটিই মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চুইগাছ সাধারণত দুই প্রকারের হয়। একটির কাণ্ড আকারে যা আকারে ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার এবং অন্যটির আকার ২.৫ সেন্টিমিটার থেকে ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত মোটা হয়। চুইগাছ সাধারণত ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।

চুই গাছ জমিতে অথবা গাছের গুড়িতে চাষ করা যায়। এটি চাষের জন্য দো-আঁশ ও বেলে দো- আঁশ মাটিতে পানি নিষ্কাশন সুবিধাজনক স্থানে ভালো জন্মায়। তবে পাহাড়ের মাটিও চুই চাষের জন্য উপযোগী। বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে এবং আশ্বিন-কার্তিক মাসে কাটিং পদ্ধতিতে কাণ্ড সরাসরি মাটিতে রোপণ করা হয়। চুই চাষের জন্য আলাদা মাচা তৈরি করতে হয় না। যেকোনো বৃক্ষ জাতীয় গাছ আম, কাঁঠাল, জাম, সুপাারি, নারিকেল ও জিয়ল গাছের গোড়ায় রোপণ করলে এক বছরের মধ্যেই খাওয়ার উপযোগী হয়।

ঔষধিগুণ সম্পন্ন মুখরোচক এ চুই শ্লেষ্মানাশক, গায়ে ব্যথা উপশমে কার্যকর। এটি হজমিকারক হিসেবে বেশ সহায়ক। সাধারণত মাংসের সাথে এ চুইগাছ ব্যবহার করা হয়। 

তবে পাহাড়ে বসবাসরত জুম চাষিরা, জুম চাষের সুবাদে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত এসব চুইগাছ সংগ্রহ করে থাকেন। পরে তা আটি বেঁধে নিয়ে আসেন স্থানীয় বাজারে। 

চুইগাছ বিক্রি করতে আসা দীঘিনালা উপজেলার যতিন ত্রিপুরা জানান, প্রতি বছর জুমের জমি তৈরির সময় চুই পাওয়া যায়। এসব চুই প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত।
স্থানীয় পাইকার ব্যবসায়ী মো. জামাল হোসেন জানান, স্থানীয় বিভিন্ন বাজার থেকে আমরা ৪০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করে থাকি। পরে তা আমরা শহরের অভিজাত হোটেলগুলোতে প্রতি কেজি ২০০/৩০০ টাকা কেজি হারে বিক্রি করা হয়। পাহাড়ের চুইগাছ সমতলে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

দীঘিনালা হটিকালচার সেন্টারের উপসহকারী উদ্যান তত্ত্ব কর্মকর্তা মো. সেলিম জাবেদ জানান, পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া চুইগাছ চাষের উপযোগী। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত চুই সংগ্রহ করে সারা দেশে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। চুইগাছ তামাকের বিকল্প হিসেবে এখানে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। এতে কৃষকদের লোকসানের হওয়ার আশংকা নাই।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড