• রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

রাস্তায় লাগানো ১১টি সরকারি গাছ কেটে বিক্রি

  শরিয়তপুর প্রতিনিধি ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৩৮

শরিয়তপুর
গাছের কাটা অংশ

ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে বেপারি কান্দি গ্রামের প্রভাবশালী ফাহিম বেপারীর বিরুদ্ধে সখিপুর হতে গৌরাঙ্গ বাজারের রাস্তায় লাগানো ১১টি সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুধু তাই নয়, গাছ কাটায় প্রত্যক্ষ মদদ দিয়েছেন সখিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মানিক সরদার। তারই নির্দেশে গাছ কেটেছেন বলে দাবি করেছেন ফাহিম বেপারী। ১৬ ফেব্রুয়ারী শনিবার ফাহিম বেপারীর লোকজন গাছগুলো কেটে নিয়ে বিক্রি করেছেন।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফাহিম বেপারীর বিরুদ্ধে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের তহশীলদার শাহ আলমকে তদন্ত সাপেক্ষে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের তহশীলদার শাহ আলম সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করার অপরাধে ফাহিম বেপারীর বিরুদ্ধে বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারী) দুপুর সাড়ে ১২টায় সখিপুর থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।

কিন্তু সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কী এক অদৃশ্য কারণে তদন্তে ধোঁয়া তুলে অভিযোগপত্রটি নথিভূক্ত করতে গড়িমসি করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, ফাহিম বেপারী এলাকায় অনেক প্রভাবশালী। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ১১টি সরকারি গাছ কেটে নিয়ে গেছে। এসব গাছের মধ্যে রেন্ট্রি কড়ই, মেহগনী এবং চাম্বুল গাছ রয়েছে।

যার বাজার মূল্য লক্ষাধিক টাকা হবে। সরকারের এসব গাছ কেটে নিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অপরাধীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

এ বিষয়ে ফাহিম বেপারীর সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, এই জায়গা আমাদের, রাস্তাও আমাদের। তাই গাছগুলিও আমাদের। আমি চেয়ারম্যানের কাছে অনুমতি নিয়েই গাছ কেটেছি। চেয়ারম্যান সব জানে। আর তাছাড়া আমার জায়গার গাছ কেটে বিক্রি করলে আপনি বলার কে?

এ ব্যাপারে সখিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মানিক সরদারের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি এখন ব্যাস্ত আছি। পরে কথা বলবো।

সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের তহশীলদার শাহ আলম এর সাথে আলাপ কালে তিনি দৈনিক অধিকারকে বলেন, ইমন স্যারের নির্দেশক্রমে সরকারী গাছ কেঁটে বিক্রি করার অপরাধে ফাহিম বেপারীর বিরুদ্ধে ২০ ফেব্রুয়ারী বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সখিপুর থানায় একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেছি।

এ ব্যাপারে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক দৈনিক অধিকারকে বলেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে ব্যাপারটি মোবাইলে বলেছেন। তারপর সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের তহশীলদার শাহ আলম একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ ব্যাপারে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ দৈনিক অধিকারকে বলেন, আমি ঘটনাটি শোনার পর তাৎক্ষণিক ভাবে সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের তহশীলদার শাহ আলমকে ব্যাপারটি তদন্ত করে ফাহিম বেপারীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড