• শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

গণশিক্ষা কেন্দ্রে নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহের প্রমাণ মিলেছে

  লালমনিরহাট প্রতিনিধি ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩৫

গণশিক্ষা কেন্দ্র
রান্না ঘরে চলছে গণশিক্ষা কেন্দ্রের কাজ (ছবি- দৈনিক অধিকার)

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গণশিক্ষা কেন্দ্র গুলোতে নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহের অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। যে কারণে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে মানসম্মত উপকরণ সরবরাহের সংশ্লিষ্ট এনজিওকে নিদের্শ দিয়েছেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (উশিব্যু)। 

মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) উশিব্যু হাতীবান্ধার প্রোগ্রাম অফিসার রাশেদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

উশিব্যুর প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহমান এ নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে উশিব্যুকে জানানোর জন্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সাইদুর রহমানকে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় মৌলিক সাক্ষরতা (গণশিক্ষা) প্রকল্প নামে একটি কর্মসুচি চালু করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। ওই প্রকল্পের আওতায় হাতীবান্ধায় তিনশ শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় আরশিনগর বাংলাদেশ নামক একটি স্থানীয় এনজিও। শুরুতেই এনজিওটির বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। পরে শিক্ষা উপকরণ বাবদ ওই এনজিওটির নামে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসলেও নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহ করে বাকি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। 

সরেজমিনে হাতীবান্ধা উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, তিনশ কেন্দ্রের মধ্যে বেশি ভাগ কেন্দ্রের কোনো অস্তিত্ব নেই। এ ছাড়া এমন কিছু কেন্দ্র আছে যা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তালিকায় সিঙ্গিমারী আলিমের ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক্লিনিকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে দুইটি কেন্দ্র থাকলেও ওই নামে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। দুই একটি কেন্দ্র খুজে পাওয়া গেলেও তার পাশে রয়েছে রান্না ঘর ও গরুর ঘর।

এদিকে আরশিনগর বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক বাদশা আলম এনজিওর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ্য করে বলেন, শিক্ষক নিয়োগে এনজিওর কোনো হাত ছিল না। স্থানীয় প্রশাসন আমাকে সহযোগিতা করছে না এবং স্থানীয় কিছু সমস্যার কারণে আমি সঠিক ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারছি না। 

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের পরিচালক আব্দুর রহমান জানান, আমরা প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছি। মান সম্মত উপকরণ সরবরাহের নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। তা সরবরাহ না করলেওই এনজিওর বিরুদ্ধে প্রয়োজনে মামলা দায়ের করা হবে। 

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিন জানান, মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এনজিও আরশিনগর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মানসম্মত উপকরণ সরবরাহের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ওই এনজিওকে  পাঁচ দিন সময় দিয়েছে। 
 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড