• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

আশুলিয়ায় বখাটেদের খপ্পরে নারী শ্রমিক : নেপথ্যে মাদক

  সাভার প্রতিনিধি

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:০২
ঢাকা
ছবি : দৈনিক অধিকার

সাভারের আশুলিয়ায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে বখাটেদের উৎপাত। প্রতিদিনই আশুলিয়ার কোথাও না কোথাও প্রকাশ্যে হয়রানির শিকার হচ্ছে নারী শ্রমিকরা। বখাটেদের ভয়ে আর পুলিশি ঝামেলা এড়াতে শত অভিযোগ চাপা দিয়ে রাখেন তারা। আর যারাই অভিযোগ করেন তারাও স্থানীয় রাজনীতিবিদ আর প্রশাসনের সহযোগিতা না পেয়ে ক্লান্ত হয়ে আড়ালে চলে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর এসবের নেপথ্যে রয়েছে মাদক।  

এই অঞ্চলটিতে ছোট-বড় মিলে প্রায় হাজারের মতো শিল্প কারখানা রয়েছে। যেখানে কর্মরত আছে লাখ লাখ নারী শ্রমিক। জীবন ধারণের তাগিদে দিনরাত ছুটে বেড়াতে হয় তাদের। সম্প্রতি এসব ছুটে চলা নারী শ্রমিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই মান সম্মানের ভয়ে নীরব রয়েছেন। আর এক শ্রেণির নেশাগ্রস্ত বখাটেরা তাদের হয়রানি করছে। শিল্পাঞ্চল জামগড়া, জিরাবো, কুরগাও, ভাদাইল, গাজীরচটসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে বাড়ছে এমন অপরাধ। 

সম্প্রতি জিরাবো এলাকার ফাইভ-এফ অ্যাপারেলস কারখানার এক নারী শ্রমিককে হেনস্তা করেন একই এলাকার মাসুম হায়দার। একাধিকবার তার পরিবার ও স্থানীয়দের জানালেও কোনো ফল পাননি ভুক্তভোগী। বরং বখাটেদের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েটিকে খারাপ উল্লেখ্য করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করেন। পরে ওই নারী শ্রমিক প্রথমে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালেও পরে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন। স্থানীয়দের অভিযোগ মাসুম চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হলেও প্রকাশ্যেই নানা অপকর্ম চালায়। মাসুমসহ এমন বখাটেদের কারণে প্রতিনিয়ত চাকরি ছেড়ে এলাকা ছাড়া হচ্ছে অসহায় অনেক পোশাক নারী শ্রমিক। 

ফাইভ-এফ অ্যাপারেলস কারখানার ম্যানেজার আশরাফ হোসেন বলেন, কারখানার সামনের একটি ভাঙরি দোকানে মাদকাসক্ত বখাটেরা অবস্থান নিয়ে সন্ধ্যার পর আড্ডা দেয়। এ পথে নারী শ্রমিকরা চলাচলের সময় বখাটেরা তাদের হেনস্তা করে। বিষয়টি প্রশাসনের নানা দপ্তরকে জানালেও কোনো সমাধান মেলেনি। বরং অভিযোগ করার কারণে কারখানার নিরাপত্তা কর্মীদের মারধর করে। 

বাংলাদেশ গামেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল আলম বলেন, যতই দিন যাচ্ছে ততই আমাদের কাছে এমন অভিযোগ আসা বাড়ছে। এখনই লাগাম না টেনে ধরতে পারলে ভবিষ্যতে ঘটতে পারে নানা অপরাধমূলক ঘটনা।  

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ রিয়াজুল হক দীপু বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনেকেই আবার অভিযোগ দিয়ে আপোষ করে নেয়। যার ফলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা যায় না।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড