• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

জিয়ার পরিচয় তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী : রেলমন্ত্রী||কলকাতায় চিকিৎসা করাতে যাওয়া ২ বাংলাদেশিকে পিষে মারল জাগুয়ার||ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের ফরম বিক্রি শুরু ||ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রস্তাব নাকচ করে দিল মার্কিন সাংসদ||ভারতকে অবিলম্বে কাশ্মীরের কারফিউ তুলতে বলেছে ওআইসি||‘তদন্ত করতে হবে কেন এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে’||ইউক্রেনের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ জনের প্রাণহানি||‘অগ্নিকাণ্ডে কেউ চাপা পড়েছে কিনা তল্লাশি চলছে’ ||মুক্তিপ্রাপ্ত ইরানের সুপার ট্যাঙ্কারটি আটকে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট জারি||অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  
eid

সাতক্ষীরায় মাল্টা চাষে সফল হলেন চাষী আক্তারুজ্জামান

  ফারুক হোসেন রাজ, কলারোয়া, সাতক্ষীরা

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৩
সাতক্ষীরা
চাষী আক্তারুজ্জামান

বেকারত্বের অবসান ঘটাতে মাল্টা বাগান করে সাফল্যজনক লাভের সম্ভাবনা দেখছেন সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের চাষী আক্তারুজ্জামান (৩৪)। 

ইংরেজি ১৯৮৪ সালে হেলাতলা (মুসলীম) মধ্যবিত্ত কৃষক  পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন আক্তারুজ্জামান (৩৪)। তার পিতার নাম মৃত হাজী ফকীর আহম্মেদ মোড়ল। ২০০০ সালে  (এস এস এসি) উত্তীর্ণ হওয়ার পরে পরিবারের দায়িত্ব এসে যায়। ভাগ্যে জোটেনি লেখাপড়া , শুরু করেন কৃষি কাজ । 

পর পর দুই বার বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে শুরু করেন কাঠের ব্যবসা । এরপর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ২০০৮ সালে সর্বপ্রথম তিনি বাউকুল চাষে ১৪ জানুয়ারি ২০১৩ সালে গ্রামীণফোন, উপজেলা কৃষি অফিস  থেকে ১ম স্থান অধিকার করে ব্যাপক সফলতা পান যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও ভাবে প্রকাশিত হয়। 

চাষী আক্তারুজ্জামান "দৈনিক অধিকার নিউজকে" জানান, প্রথমে মূলত শখের বশে মাল্টা বাগান করেছি দেশের উন্নয়ন, বিদেশি ফল পরিত্যাগ ও ফরমালিন মুক্ত ফল উপহার দেওয়ার জন্য  । ২০১৬ সালে বরিশালের নাজিরপুরে মাল্টার বাগান দেখে ইচ্ছা হয় মাল্টা চাষের। ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর কাঠ ব্যবসার সব টাকা দিয়ে বারী-১ জাতের ১ হাজার ৫টি মাল্টার চারা ৬ বিঘা জমিতে রোপন করি। মাত্র ৩ বছরের ব্যবধানে আশঙ্কা জনক ফুল ধরা শুরু করেছে এবং ফলের ধরনও সাফল্যজনক । প্রতিটি মাল্টা গাছে আশা করা যায়  ১০০-১১০টি করে মাল্টা পাওয়া যাবে। প্রতিটি মাল্টার ওজন ২৫০-৩৩০গ্রাম হয়।
সম্পূর্ণ প্রদর্শণী প্লটাকারে জৈব সার ব্যবহার করে রাসায়নিক উপাদানমুক্ত এ মাল্টা খেতেও বেশ সুস্বাদু । বাংলা মাঘ মাসের প্রথম দিকে গাছে ফুল ধরে ।৭/৮ মাস পরিপক্ব হতে গাছে মাল্টা থাকবে এবং এই ৮ মাসে প্রতিটি গাছ থেকে প্রায় ৩০-৩৫ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে। গত তিন বছরে বারি মাল্টা-১  গাছের কলমের  চারা ও ফল বিক্রি করে তুলনামূলক বাৎসরিক লাভ থাকে। 

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে মাল্টা চাষে সফলতা পেয়েছি। সে জন্য চাষের পাশাপাশি নিজেই কলম তৈরি করি  যা এ বছর থেকেই লক্ষাধিক চাষযোগ্য বারি-১ মাল্টা চারা উৎপাদন করা হয়েছে। আরও কয়েক একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করার ইচ্ছা রয়েছে। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া ও সংসার চলছে উৎপাদিত মাল্টা ও মাল্টার চারা  বিক্রি করে। 

এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মহাসীন আলী জানান, কলারোয়া উপজেলাতে ২০১৬সালের ১৬ ডিসেম্বর  সর্বপ্রথম ৪৫০ টি মাল্টা পরবর্তী একই বছর মোট ১০০৫টি চারা ক্রমন্বয়ে চাষ ও নিজের নার্সারিতে কলমের বারি-১ চারা বিক্রি শুরু করে কৃষক আক্তারুজ্জামান । 

আক্তারুজ্জামান  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১৪-১৫ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেছেন । সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে মাল্টা গাছ অনেক দিন বাঁচে এবং ফল পাওয়া যায়। সাধারণত মাঘ-ফাল্গুনে – ফুল আসতে শুরু করে। আমাদের দেশের আবহাওয়াতে এটি চাষ উপযোগী। এ ব্যাপারে কলারোয়া কৃষি সম্প্রসারন অফিস বেকার যুবকদের আত্ম কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে মাল্টা চাষে উৎসাহিত করছে এবং এ লক্ষ্যে কিছু চাষী বাছাই করা হয়েছে। তাদেরকে প্রশিক্ষণসহ সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করা হবে। 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড