৫ টাকায় শিম বেগুন ও ফুলকপি! 

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:১৬

  বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় শীতকালীন সবজির বাজারে ধস নেমেছে। প্রায় প্রতিদিনই কমছে সবজির দাম। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না কৃষকের। অথচ এসব সবজি কয়েক হাত বদলে সাধারণ মানুষকে কিনতে হচ্ছে তিন গুণ দামে।

শনিবার (৫ জানুয়ারি) বগুড়ার সবচেয়ে বড় সবজি বাজার  মহাস্থান হাট ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। জমিতে চাষ করা টাটকা সবজি বিক্রি করতে এসে অনেকটা বাধ্য হয়ে পানির দরে বিক্রি করে যাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা।

মহাস্থান হাটে সবজি বিক্রি করতে আসা অভিরামপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম ও চকরামচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল খালেক জানান, ফুলকপি ৫ টাকা, শিম, বেগুন ৫ টাকা, কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই দামে সবজি বিক্রি করে হাটে আনতে ভ্যান ভাড়া এবং জমি থেকে ফসল উঠানোর খরচ হচ্ছে না।

মহাস্থান হাট ঘুরে দেখা গেছে বাধা কপি প্রতি পিছ ৪ টাকা, গাজর ১০ টাকা কেজি, টমেটো ৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বরবটি ৫ টাকা, আলু ১৭ টাকা, মুলা ৫টাকা, কাচা মরিচ ১০ টাকা এবং পিয়াজ ১৭ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। কৃষক তাদের সবজির  ন্যায্য দাম না পেলেও খুচরা বাজারে দুই থেকে তিনগুন বেশী দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা সবজি বিক্রেতারা বেশি মূল্যে সবজি বিক্রির কারণ হিসেবে বলেন, পরিবহণ খরচ ছাড়াও পাইকারী হাটে সবজি কিনতে এবং খুচরা বাজারে সবজি বিক্রি করতে দুইবার খাজনা দিতে হয়। এছাড়াও সবজি পচনশীল হওয়ায় তাদের অনেক সবজি ঘাটতি হয়ে থাকে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ  জানিয়েছে, জেলায় পুরো শীত মৌসুমে ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার  সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর  জমিতে সবজি চাষ করায় মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ৩ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি সবজির ফলন হবে।