• সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

শেরপুর-১ আসনে ভোটের মাঠে আলোচিত সানসিলা

  শেরপুর প্রতিনিধি ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১৫

ডা. প্রিয়াংকা
ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যান্য জেলার মতো শেরপুর-১ (সদর) আসনে ২২ বছর পর ভোটের দিন ব্যালট পেপারে ধানের শীষের প্রতীক দেখতে যাচ্ছে ভোটাররা। এ আসনে এবার প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলীর কন্যা ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। হযরত আলীর মনোনয়নপত্রটি ঋণ খেলাপির জন্য বাতিল হওয়ার পর বিকল্প প্রার্থী হিসেবে তার কন্যা এখন বিএনপি’র মনোনীত প্রর্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে। হযরত আলী বর্তমানে প্রায় ডজন খানিক মামলার আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ফলে সানসিলা জেবরিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তার বাবা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি শহর-গ্রামে বিশেষ করে চরাঞ্চলে বেশ আলোচনায় উঠে এসেছে।

এ আসনে সানসিলা জেবরিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে হেভিওয়েট প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টানা ৪ বারের এমপি জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিক। হুইপ আতিকের তৃণমূল পর্যন্ত ব্যাপক পরিচিত এবং বিগত দিনের নানা উন্নয়নমূলক কাজ করায় বাড়তি জনপ্রিয়তা নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন। ফলে টানা ৪ বারের এমপি নৌকা প্রতীকের এ হেভিওয়েট প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেমে বয়সে তরুণ ও রাজনীতিতেও সবেমাত্র হাতে খড়ি ধানের শীষের এ নতুন প্রার্থী হিসেবে এলাকায় তার বাবার মক্তির জন্য একটি করে ভোট প্রার্থনা করা সাধারণ ভোটারদের মন আকৃষ্ট করতে শুরু করেছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের দলের পূর্নাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় দলের ভিতর চাপা কোন্দল বিরাজ করলেও দীর্ঘ দিন পর এবার ধানের শীষের প্রতীক পাওয়ার আশায় বিগত দিনের সকল বিভেদ ভুলে উজ্জিবিত হয়ে উঠছে বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গদলের নেতাকর্মীরা। 

সদরের একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে বেশীর ভাগ ইউনিয়ন চরাঞ্চলের গ্রাম নিয়ে গঠিত। এসব চরাঞ্চলের মধ্যে ৪ টি ইউনিয়ন পূর্বাঞ্চল এবং ৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে পশ্চিমাঞ্চল খ্যাত দুটি অঞ্চল দীর্ঘদিন থেকে ভাগ হয়ে আছে এ আসনের ভোটারদের কাছে। এ আসনে বিগত প্রায় ২২ বছর যাবত পূর্বাঞ্চলের নেতার হাতে এমপি পদ থাকায় পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ ভোটাররা স্বপ্ন দেখে আসছিলেন পশ্চিমাঞ্চলের যে কোন দল বা মতের এমপি চাই। ইতিঃপূর্বে পূর্বাঞ্চলে একক প্রার্থী এবং পশ্চিমাঞ্চলে একাধিক প্রার্থী থাকায় পূর্বাঞ্চলের নেতা এমপি হয়েছেন। ফলে পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ এমপি হারিয়েছে। এবারই দীর্ঘদিন পর সে সুযোগটা পেয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ ভোটাররা। কিন্তু এতেও শংকা রয়েছে। কারণ নৌকা প্রতীকের হুইপ আতিকের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে একেবারেই নতুন মুখকে সাধারণ ভোটাররা কিভাবে গ্রহণ করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। 

ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি কম থাকলেও ইতিঃপূর্বে তার বাবার সহযোগিতায় এলাকায় বেশ কয়েকটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের নেতৃত্ব দিয়েছেন ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকার। এ সময় চরাঞ্চলের দু:স্থ মানুষের সঙ্গে কিছুটা হলেও সখ্যতা গড়ে উঠে প্রিয়াংকার। বিশেষ করে ডা. প্রিয়াংকা জন্ম তারিখ হিসেবে কেবলমাত্র ২৫ বছরে পা দিয়েছে। সে হিসেবে এ আসনের নতুন ভোটার এবং তরুণ সমাজের ভোটারদের বেশ আকৃষ্ট করেছে আগামী দিনের সংসদ সদস্য হিসেবে। ডা. প্রিয়াংকার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল ধানের শীষের মনোনয়ন। তার ওপর এ আসনের বিএনপি তথা ধানের শীষের ভোটার এবং সাধারণ ভোটাররা দীর্ঘ ২২ বছর পর ভোটের দিন ধানের শীষ প্রতীক দেখতে পাবে।

জানা গেছে, শেরপুরের এ আসনে সাধরণ ভোটাররা বিএনপি’র ধানের শীষের প্রতীক দেখে না প্রায় ২২ বছর ধরে। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে মো. নজরুল ইসলাম ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিল। এরপর একই বছর ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র নজরুল ইসলাম পুনরাই প্রার্থী হলেও নির্বাচিত হতে পারেনি। এরপর ২০০১ ও ২০০৮ সালে পরপর দুই বার এ আসেন বিএনপি তথা ৪ দলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে দাড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন যুদ্ধাপরাধি মামলায় মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মো. কামারুজ্জামান। তবে তিনি নির্বাচিত হতে পারেনি। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করার কারণে ওই বারও ধানের শীষের প্রতীক শূন্য ছিল এ আসটিতে। 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড