• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

লেডি বাইকারের অন্তরালে একজন ইয়াবা কুইন

  আসিফ হাসান কাজল, মাগুরা ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ২১:২৪

মাগুরা
ফারিয়া তাবাসসুম মুক্তি

মাত্র ১৮ বছর বয়সী মেয়েটির পুরো নাম ফারিয়া তাবাসসুম মুক্তি হলেও ফেসবুকে সে "মিউ" নামেই মাগুরা তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশি পরিচিত। মাগুরা জেলার অন্যতম লেডি বাইকার এই তরুণী। একজন ফেসবুক সেলিব্রিটি। যেন রুপালী পর্দার নায়িকাদের মতোই তার জীবনযাপন। 

কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী হিসেবে তিনি বেশি পরিচিত না, পরিচিত যেন কলেজ ক্যাম্পাসের তরুণী মডেল হিসেবে। নতুন নতুন পোশাকে, নতুন হাত ঘড়ি, নিত্যনতুন মোবাইল ব্যবহার করা এসবই যেন তার নেশা।

গত ৭ই নভেম্বর মাগুরা জেলার কলেজ পাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে অর্ধ হাজার ইয়াবা, গাঁজা, ফ্রিজের ভেতর মদ ভর্তি বোতলসহ মা-মেয়েকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় সংবাদ প্রচারের পর থেকেই তরুণীর সম্পর্কে আসতে থাকে নানা অভিযোগ। 

একাধিক তরুণ থেকে যুবক বয়সী ছেলেরাও ইয়াবা সুন্দরী ফারিয়া মিউয়ের মায়ার জালে আটকে কেউ মোটা অঙ্কের অর্থ খুইয়েছেন, কেউ বা নামিদামি ব্রান্ডের মোবাইল, ওয়েস্টার্ন পোশাক উপহার দিয়ে পিছু পিছু ঘুরেছেন,কেউ আবার মন দিয়ে ভালোবেসে হতাশ হয়েছেন।

কে এই মিউ? এর উত্তর খুঁজতে অনুসন্ধানে জানা যায়, মাগুরা কলেজ পাড়ার হোল্ডিং নম্বর ১৪৫ নম্বর বাসাটি তাদের নিজেদের। সে মাগুরা হোসেন শহীদ সরকারি কলেজ উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। পিতার নাম মখলেছুর রহমান। ফারিয়া তাবাসসুম মুক্তি(মিউ) তার পিতার দুইটি পক্ষের মধ্যে প্রথম পক্ষের সন্তান। 

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানায়, স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় সে একবার পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিল তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

মাগুরা সরকারি কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীদের সাথে মিউয়ের ব্যাপারে তারা জানায়, পাঠদান শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি না থাকলেও কলেজে যে দিন সে আসত, সারাদিনই ক্যাম্পাস কমপাউন্ডে আড্ডায় ব্যস্ত থাকত। তার সহপাঠীদের দেওয়া তথ্য মতে বড়লোক ছেলেদেরকে টার্গেট করেই প্রণয় বা প্রেমের সম্পর্কে জড়াত মিউ। এই তথ্যের সত্যতাও মিলেছে শতভাগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকায় বসবাসকারী একজন বলেন, "প্রায় দেড় বছর আগে আমি রিয়েল এস্টেট ম্যানেজার থাকার সুবাদে ফারিয়া তাবাসসুমের সাথে আমার প্রেম হয়। এ সময় মেয়েটির মা আমাদের সম্পর্কের ব্যাপারে তার সম্মতি দেন। এরপর থেকে তার পরিবারের এই সমস্যা সেই সমস্যার কথা বলে আমার কাছ থেকে কমপক্ষে দেড় লক্ষ টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে মেয়েটিকে আমি অনেক ভালোবাসতাম"

মাগুরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ স্নাতক বিভাগের এক ছাত্র জানায় মিউয়ের মোহনীয় আমন্ত্রণের জন্য তাকেও গুণতে হয়েছে মোটা টাকা। এছাড়াও একাধিক তরুণ থেকে শুরু করে যুবকেরা পর্যন্ত তার শুশ্রী চেহারার প্রেমে পড়ে মিউয়ের চাহিদা অনুযায়ী নগদ টাকা, মোবাইলসহ অনেক উপহার দিতে বাধ্য হয়েছেন।

মাদক উদ্ধারের অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশের এ এস আই মোহাম্মদ রেজা জানায়, কলেজ পড়ুয়া মেয়েটির বাসা থেকে শুধু গাঁজা, মদ বা ইয়াবা নয় পাওয়া গিয়েছে একাধিক কনডম!

১৮ বছর বয়সী ব্যাচেলর তরুণী মায়ের সাথে পারিবারিকভাবে থেকেও এমন অপরাধ প্রবণ হয় কি করে? পারিবারিক শিক্ষার অভাব না সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়? এমন একাধিক প্রশ্নে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ অধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ বলেন, ছাত্রছাত্রীদের জন্য আমরা কলেজে, মাদক বিরোধী সমাবেশ, সেমিনারসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মাদকের ভয়াবহতার কথা জানিয়ে আসছি। তবে পারিবারিকভাবে এভাবে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক ও হতাশার। 

এই ব্যাপারে কলেজ প্রশাসনের কী কিছুই করার নেই এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এই ব্যাপারে শিক্ষকদের অবশ্যই ভূমিকা রয়েছে।
 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড