• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন

তাঁত শিল্পের দুর্দিন

  উল্লাপাড়া প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:১২

দৈনিক অধিকার
তাঁত

দফায় দফায় রং, সুতা ও অন্যান্য সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি এবং বাজারে ভারতীয় শাড়ির সহজলভ্যতার কারণে উল্লাপাড়ায় চরম সংকটের মুখে পড়েছে তাঁত শিল্প। দেশি শাড়ির যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় ইতোমধ্যে অনেক তাঁত মালিক তাদের কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেকে ঋণের দায়ে জর্জড়িত হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বেকার হয়ে পড়া তাঁত শ্রমিকেরা। পেশা পরিবর্তন করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পোশাক শিল্প কারখানায় কাজ করছেন। 

উল্লাপাড়া উপজেলার ইসলামপুর, বালসাবাড়ি, দাঁদপুর, পাইকপাড়া, নতুন বাবলাপাড়া, মধুপুর, পাঁচিলা, গোপিনাথপুর, কোনাবাড়ি, নতুন চাঁদপুর, নতুন দাঁদপুর ও মরিচা গ্রামে ২ লক্ষাধিক তাঁত রয়েছে। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছে প্রায় ৩ লাখ পরিবার। কিন্তু তাঁত শিল্পে ধস নামায় এসব পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্দিন।

উল্লাপাড়ার বালসাবাড়ি গ্রামের তাঁত মালিক ফজলুল হক জানান, পূর্বপুরুষ হতে তারা তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িত। তাদের আয় রোজগারের প্রধান উৎস তাঁতে বুনানো শাড়ি, লুঙ্গী ও গামছা। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বার বার রং, সুতা এবং কাপড় তৈরির অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। ভারতীয় শাড়িতে সয়লাব হয়ে পড়েছে কাপড়ের বাজার। ফলে ন্যায্য মূল্যে তাদের উৎপাদিত কাপড় বিক্রি হচ্ছে না। আর এতে অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। সরকারি সহায়তাও পাচ্ছে না তাঁত মালিকেরা। আর এসব কারণে তিনি তার ৩০টি তাঁত বন্ধ করে দিয়েছেন। 

ফজলুল হকের মতো তাঁত শিল্পের এমন করুন অবস্থার কথা জানালেন নতুন দাঁদপুর গ্রামের বদর উদ্দিন, আলাউদ্দিন, নতুন বাবলাপাড়ার তোফাজ্জাল হোসেন, মনিরুল ইসলাম, দাঁদপুরের শান্তাপ আলীসহ আরও অনেক তাঁত মালিক। 

এ দিকে বাজারে নিজেদের তাঁতে উৎপাদিত কাপড় উপযুক্ত মূল্যে বিক্রি না হওয়ায় মোটা অঙ্কের ঋণের দায়ে ইসলামপুর এলাকার আহম্মদ আলী, আব্দুর রাজ্জাক, ঠান্ডু মিয়া, জামাল মিয়া ও মোশারফ হোসেনসহ অনেক তাঁত মালিক তাদের কারখানা বন্ধ করে দিয়ে ঘর বাড়ি ফেলে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানান স্থানীয়রা। এ অবস্থায় বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার তাঁত শ্রমিক। 

তাঁত কারখানায় সুতা কেটে সরবরাহকারী নতুন বাবলাপাড়ার মদিনা বেগম জানান, ববিনে সুতা তুলে তাঁতের কারখানায় সরবরাহ করে সংসার চালাতেন তিনি। এখন অনেক তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার ববিনে তোলা সুতা আর তেমন সরবরাহ করতে পারছেন না। ফলে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে তার পরিবার। 

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড উল্লাপাড়া উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত লিয়াজোঁ অফিসার মো. খালেকুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বর্তমানে এখানকার তাঁত শিল্পের সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, কাপড়ের বাজারে তাঁতীদের তৈরি কাপড়ের কদর প্রকৃতই কমে গেছে। ফলে উৎপাদিত কাপড় বিক্রি করতে পারছেন না তাঁত মালিকেরা। উপজেলার তাঁত পল্লীতে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। 

তাঁতীদের সরকারি সুবিধা না পাওয়ার ব্যাপারে  লিয়াজোঁ অফিসার বলেন, প্রকৃতপক্ষে এই কথাটি সত্য নয়। তাঁত বোর্ড তাঁত মালিকদের ঋণ দেবার ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক। কিন্তু ঋণ নিয়ে মালিকগণ সময় মতো তা পরিশোধ না করায় বিপদে পড়ছে তাঁত বোর্ডের অফিস। উল্লাপাড়ার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৫শ তাঁতীর নিকট তাঁত বোর্ড ৮০ লাখ টাকারও বেশি পাবে। মানবিক কারণে কর্তৃপক্ষ এসব ঋণ খেলাপি তাঁত মালিকদের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলাও দিতে পারছে না। 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড