• শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন

মৌলভীবাজার-৩: আ.লীগ চায় ধরে রাখতে, বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার

  মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ২১:১৫

ভোট
মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

মৌলভীবাজার-৩ আসন জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। এই আসনে সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম.সাইফুর রহমান, কেন্দ্রীয় আ.লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক হুইপ বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মরহুম সৈয়দ মহসিন আলীর মতো জনপ্রিয় নেতারা নির্বাচিত হয়েছেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বড় দুই দলের কে হচ্ছেন এই আসনের প্রার্থী এ নিয়ে আলোচনা চলছে উভয় দলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে। আবার জোট মহাজোটের শরীক দলের প্রার্থীরাও মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন। ইতোমধ্যে হাফ ডজনের ওপর নেতা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন। 

ক্ষমতাসীন দল আ.লীগে মনোনয়নের দৌড়ে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন ও জেলা আ.লীগের সভাপতি নেছার আহমদ। বিএনপির গ্রুপিং দ্বন্দ্বে তিন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন- জেলা বিএনপি সভাপতি এম নাছের রহমান, জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফয়জুল করিম ময়ূন। এর মধ্যে বিএনপি জোটের শরিক খেলাফত মজলিস জোটের পক্ষে প্রার্থী হিসেবে আহমদ বেলালের নাম ঘোষণা করেছে। সেই আলোকে চলছে প্রচার প্রচারণাও। আর মহাজোটের শরিক জেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি সৈয়দ শাহাব উদ্দিন আহমদ মহাজোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং রাজনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-৩ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯১ হাজার ১ শত ৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ও মহিলা ভোটার প্রায় সমান সমান। 

স্বাধীনতার পর এই আসনে গত দশটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ.লীগ ৫ বার, বিএনপি ৪ বার আর জাতীয় পার্টি ১বার নির্বাচিত হয়েছে। এর মধ্যে আ.লীগ থেকে মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান ২ বার, মরহুম সৈয়দ মহসীন আলী ২ বার ও তৈয়োবুর রহিম ১ বার নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি থেকে মরহুম এম.সাইফুর রহমান ৪ বার নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে ১ বার জাতীয় পাটির প্রার্থী এই আসনে নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এম নাসের রহমান ১ বার আর আ.লীগ প্রার্থী সৈয়দা সায়রা মহসীন ১ বার নির্বাচিত হন।

দলীয় সূত্রে জানা যায় আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়নের আশায় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন কয়েকজন নেতা । এদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন সরকারের রুটিন মাফিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুবাদে জনগনের কাছে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জনসংযোগ করছেন। উনার প্রয়াত স্বামী সৈয়দ মহসিন আলীর অসম্পূর্ণ কাজ সমাপ্ত করা জন্য আবারও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তিনি। এ দিকে ছাত্ররাজনীতি করে উঠে আসা জেলা আ.লীগের সভাপতি নেছার আহমদ ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত চষে বেরাচ্ছেন। রাজনীতির মাঠে এগিয়ে থাকা নেছার আহমদ দলীয় প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার সাথে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রচার-পত্র বিলিসহ গণসংযোগ করছেন তিনি। এলাকায় সৎ ব্যক্তি হিসেবে সুনাম রয়েছে নেছার আহমদের।

বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আ.লীগের সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন বলেন, যদি দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দেন তবে আমি এ আসনে নির্বাচন করবো। নির্বাচন করার মত আমার প্রস্তুতি আছে। সদর ও রাজনগর উপজেলায় আমার স্বামী প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। এলাকায় মানুষের কল্যাণের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছি আমি আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আবারও মনোনয়ন দিবেন।

মনোনয়ন ব্যাপারে জেলা আ.লীগের সভাপতি নেছার আহমদ বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসনে আ.লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করার জন্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী।  আমি আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দেবেন। তিনি আরও বলেন, আমি ১৯৬৮ সালে ছাত্রলীগের প্রাথমিক সদস্য হই। এরপর থেকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। এখন জেলা আ.লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। নিষ্ঠা ও সততায় দলের কাজ করে আসছি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনগণ, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমি আশাবাদী নেত্রী আমার সারা জীবনের কাজের মূল্যায়ন করবেন। আর নেত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে এলাকার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করব।

অপরদিকে বিএনপি মৌলভীবাজার-৩ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে দলীয় কোন্দল। বিএনপি আমলের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম.সাইফুর রহমানের নির্বাচনী এলাকা এটি। ইতোমধ্যে দলের জেলা সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম.নাসের রহমান, জেলার সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, জেলা কমিটির সহসভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রবাসী মুহিদুর রহমান দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিন যাবত মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত। দলীয় কর্মসূচিতেও বহাল রয়েছে সেই বিভক্তি। জেলা সভাপতি এম.নাসের রহমান এক গ্রুপের নেতৃত্বে আর অপর গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। নানা কোন্দলের পরও প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের পুত্র নাসের রহমান দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা। 

এ ব্যাপারে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম.নাসের রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসলে আমি নির্বাচন করব। আমি আশাবাদী দলীয় মনোনয়ন আমাকেই দেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে নেত্রীকে জেলে রেখে আমরা নির্বাচনে যাব না। আরেকটি বিষয় আমি এ এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ছিলাম। আমি এবং আমার পিতা সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান এ এলাকার উন্নয়নে কী কী কাজ করেছি তা এলাকার মানুষ জানে। আর পরবর্তী সময়ে যারা এমপি হয়েছেন তারা কী করেছেন তাও জনগণ জানে। এলাকার মানুষকে  আমার ব্যাপারে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার মতো কিছু নেই। মানুষ জানে এলাকার উন্নয়নের জন্য আমি কী করতে পারি। বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে গত ১২ বছরে এলাকার মানুষ যে প্রকৃত উন্নয়ন ও সংস্কার থেকে বঞ্চিত হয়েছে সেই কাজগুলো করব।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, বিএনপির প্রধান দাবি বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে আমরা নির্বাচনে যাব না। আমরা আশা করি খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। আর আমার দল বিএনপি যদি নির্বাচনে যায় তবে মৌলভীবাজার-৩ আসনে আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। কারণ তৃণমুল থেকে রাজনীতি করে এসেছি। সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের নির্বাচিত ভিপি, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আর এখন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। বর্তমান সরকারের নানা প্রতিবন্ধকতার পরও মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের ফলে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। তবে সর্বোপরি দল যাকে মনোনয়ন দেবে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এ আসনটি পুনরুদ্ধারে কাজ করে যাব।

অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফয়জুল করিম ময়ূন জানান, আগামী নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইব। দল মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচন করব। আমি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, সদর পৌরসভার মেয়র ছিলাম। সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন করেছি। জনগণের কাজ করেছি।

অতীতের নির্বাচনে এই আসনে দলীয় প্রতিকের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ জয়ের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে । এবারের নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল ।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড