• সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন

লেখাপড়া করে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায় হৃদয়

  ফেরদৌস আলম, কুড়িগ্রাম ৩১ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৫৬

কুড়িগ্রাম
হৃদয় চন্দ্র সরকার

দুর্ঘটনায় হাত হারালেও মনোবল হারায়নি হৃদয়। পড়ালেখা শিখে মানুষ হতে চায় সে। হাসি ফোটাতে চায় দিনমজুর অসুস্থ বাবার মুখে। স্বপ্নের সে রোদ্দুরের মিষ্টি ছোঁয়া আদৌ কি লাগবে তার গায়ে। নাকি অধরাই থেকে যাবে সারাজীবন। এই ভাবনায় দিন কাটে তার।

ডান হাত নেই, কাজও নেই। তাই অন্যের করুণায় জোটে অন্নজল। কিনতে হয় বাবা ও নিজের জন্য ওষুধ-পথ্য। সে অর্থ সংগ্রহে তাকে বেরুতে হয় সকাল সকাল। করুণা প্রাপ্তি ও ভিক্ষাবৃত্তি নিজের জন্য অসম্মানজনক, মানহানিকর। তাই লজ্জাবনত মাথায় অন্যের সামনে হাত বাড়ায় নিরুপায় হৃদয়।

হৃদয়োর চলতে শুরু করা স্বাভাবিক জীবনের পথের বাঁকে হঠাৎই দুর্ঘটনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্ধকার গুহায় পতিত হয়ে স্বপ্ন মৃত্যুর কাহিনী।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের সাতানা গ্রামের ভূমিহীন দিনমজুর অসুস্থ বাবা রবীন চন্দ্র সরকারের ছোট ছেলে হৃদয় চন্দ্র সরকার।

মা কনা রানী ৫ বছর আগে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে, রেখে গেছেন তাকেসহ পিঠেপিঠি জন্ম নেয়া বোন রত্না, স্বপ্না রানী, ভাই দিনেশ চন্দ্রকে।

বড় বোন রত্নাকে বিয়ে দিতে বেচতে হয়েছে ভিটেমাটি। বাবা অসুস্থ, তাই বড় ভাই দীনেশকে অন্যের দোকানে কাজ নিতে হয়। সেও কাজ করে কাঠমিস্ত্রীর সহযোগী হিসেবে। এ আয়ে খাতা-কলম কিনে পড়ালেখা করে ছোট বোন স্বপ্না ও সে।

স্কুলের ফাকে কাজে যেতে হয় তাই প্রায় সময় সমন্বয় হয় না মিস্ত্রির সাথে তার। ফলে মাঝে মাঝে কাজ জুটলেও বেশিরভাগ সময় বেকার বসে থাকতে হয়। স্কুল বন্ধ পেলে সব ঠিকঠাক চলে। এই তার কাজ ও পড়ালেখার রুটিন। 

৮ মাস আগে স্কুল খোলা থাকলেও রুটিন ভেঙে এসএসসি ফরম পূরণের টাকা সংগ্রহে কাজে যেতে হয় হৃদয়কে। মিস্ত্রি ঘরের উপরে উঠে ঢেউটিন লাগাচ্ছিল। সে নিচে থেকে মিস্ত্রির আদেশ-নির্দেশ মেনে তাকে সরবরাহ করত ঢেউটিনসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদী। সবকিছুই চলছিল ঠিকঠাক। হঠাৎই মিস্ত্রির হাত ফসকে একটা ঢেউটিন ছলকে নিচে পড়ে যায়। এ সময় হৃদয় কোনোমতে নিজেকে বাঁচালেও ঢেউটিনের ধারালো অংশ দিয়ে কেটে যায় তার ডান হাত। ফিনকি দিয়ে বের হয় রক্ত। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে। যখন জ্ঞান ফেরে তখন সে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে। সেখানে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলেও ডান হাত কনুইয়ের উপর পর্যন্ত কেটে বাদ দিতে হয়। ভাগ্য বিপর্যয়ে হৃদয়কে বরণ করে নিতে হয় পঙ্গুত্ব।

কর্মহীন হয়ে পড়ে সে। যে হাত অ, আ, ক, খ লিখে অভ্যস্ত সে হাত কেটে ফেলায় বন্ধ হয়ে যায় লেখালেখি। শুরু হয় অন্য হাতের চেষ্টা। কয়েকদিনে কিছুটা রপ্ত করে এস.এস.সি ফরম ফিলাপ। চলে অসুস্থ শরীরে রাত জেগে পড়া আর লেখা। যাতে পরীক্ষার হলে ৩ ঘণ্টা সে লিখতে পারে। এভাবে পরীক্ষা দিয়ে এবারে কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগ থেকে সে পেয়েছে জিপিএ-২.৬১।

অন্যের সহযোগিতায় ভর্তি হয়েছে কলেজে। কিন্তু সঙ্গতি কোথায় স্বপ্ন পূরণে পড়ালেখার চালাবার। দুর্ঘটনার পর শরীরটাও সায় দেয় না আগের মতো। প্রায়ই যেতে হয় ডাক্তারের কাছে। তাই ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছে সে। তবে এ জীবন নয় পড়ালেখা শিখে মানুষ হতে চায় সে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে হয়তো সে স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নেবে তার। যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৮১০১৯৩১৭ নম্বরে।
 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড