• সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন

বদলে যাচ্ছে মনপুরার ঢালচর

  ফয়সাল বিন নয়ন, ভোলা ২৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:১৪

মনপুরা ঢালচরের বর্তমান চিত্র
বদলে যাওয়া মনপুরা ঢালচরের বর্তমান চিত্র, (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বদলে যাচ্ছে শত বছরের পুরোনো ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার ঢালচর। দশ কিলোমিটার দীর্ঘ ও চার কিলোমিটার প্রশস্ত এই চরে আশার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। পৈতৃক ভাবে প্রাপ্ত শত শত বিঘা জমি। এক ফসলি জমি, আর মহিষের বাথান, এই নিয়ে এই চরের মানুষের জীবন। 

মনপুরা উপজেলা সদর থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ৩০ মিনিটের দূরত্বের এই চরে এখনও মানুষ বাস করে প্রাচীন যুগের মতই।
 
বিদ্যুৎ নেই, চিকিৎসা নেই, পানিও জলের ব্যবস্থা নেই, স্কুল নেই, যাতায়াতের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। 

চরের চারদিক ঘিরে মেঘনা। দুই দিকে পাহাড়ায় চীনের প্রাচীরের মত দাঁড়িয়ে ঘন সবুজ বন। শত প্রজাতির পাখী, হরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, বানর, কাঠবিড়ালি, শীতে মৌসুমি অতিথি পাখির কলতান। মায়াময় অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই চরকে বদলে দেবার, মানুষের বসবাস আর কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছেন এই এলাকার কৃতি সন্তান সরকারের অতিরিক্ত সচিব নাজিমুদ্দিন চৌধুরী।

এ ব্যাপারে নাজিমুদ্দিন চৌধুরী বলেন, মনপুরার মাটি আর মানুষের কাছে আমি এবং আমার পরিবারের ঋণ রয়েছে। আমাদের পূর্ব পুরুষ এখানে এসে বসবাস শুরু করে। আমার দাদা আবুল ফাতাহ্ চৌধুরী আমার বাবা ও কাকাদের ভোলা এবং বরিশালে পড়ালেখা করান। সেই সূত্রে আমার বাবা বরিশালে ও ভোলাতে বাড়ি করে আমাদের নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। আমার বড় হওয়া, বেড়ে ওঠা। পড়া লেখা বরিশাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

নাজিমুদ্দিন চৌধুরীর বাবা বরসাত উল্লাহ্ চৌধুরী একজন মুক্তিযোদ্ধা। পাকিস্তান আমলে তিনি ছিলেন ওয়াপদার একজন শীর্ষস্থানীয় ঠিকাদার। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তিনি সাতক্ষীরায় একটি কাজের বিল পান, এবং ঐ সমুদয় টাকা এবং তার ব্যবহৃত জীপ নিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গে যান। ঐ টাকার পুরোটাই তিনি তোফায়েল আহমেদর মাধ্যমে সরকারি তহবিলে দান করেন।
 
কি করা যায় এ চরাঞ্চলে:
নাজিমুদ্দিন চৌধুরী বেশ কয়েক বছর আগ থেকে শুরু করেন একটু একটু করে তার স্বপ্নের বীজ বোনা। এখন তিনি তার চূড়ান্ত পর্বে হাত দিয়েছেন। ঋণ নিয়ে তিনি এখানে গড়ে তুলছেন ৪০ একর জায়গায় আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত মৎস্য চাষ প্রকল্প। ৫টা স্কেবেটর দিয়ে মাটি কেটে ইতিমধ্যে তিনি তার প্রজেক্টের কাজ সম্পন্ন করেছেন। 

চলছে সোলার প্যানেল দিয়ে পানি তোলার ব্যবস্থা করা এবং আরও ৩৮ টি সোলার দিয়ে সম্পূর্ণ প্রজেক্টকে আলোকিত করার কাজ। বায়োগ্যাস প্লান্ট বসানোর কাজ আগেই শেষ হয়েছে। 

প্রাথমিক প্রস্তুতিতে ছিল ৪টি পুকুর। যাতে পূর্ব থেকে মাছ চাষের অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়। আছে তার ১শ মহিষ, ১শ গরু, ১শ ছাগল, ১শ ভেড়া, ১শ হাঁস, ১শ মুরগি। এই সবই তার পরিকল্পনার পূর্ব প্রস্তুতি। এখন তার স্বপ্ন ছুয়ে দিচ্ছে এলাকার মানুষকেও।

তার আরও পরিকল্পনা:
অনগ্রসর এই এলাকায় নাজিম উদ্দিন এখানকার মানুষদের সম্পৃক্ত করে ঢালচর উন্নয়ন কমিটি গঠন, শিশুদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা, যাতায়াতের জন্য রাস্তা এবং নদী পারাপার ও মালামাল পরিবহনের জন্য ইতিমধ্যেই তিনি চট্টগ্রাম থেকে জাহাজের একটি রেসকিউ বোট সংগ্রহ করেছেন। 

তিনি বলেন মাটির প্রতি অনুগত হতে না পারলে দেশের প্রতি ভালবাসা জন্মায় না। আমি জানিনা, কতটা কি করতে পারব। আমার যোগ্যতা আর সামর্থ্য দিয়ে আমি আমার এলাকার একটি চরকে মডেল হিসাবে দাঁড় করাতে চেষ্টা করছি। তা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমার মত কেউ তার এলাকায় এগিয়ে আসলে আমার স্বপ্ন চেষ্টা সার্থক হবে।

ঢালচরের মহিষ এবং গবাদি পশুর দুধ ও মাংস এবং এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণের স্থান হতে পারে। উপযুক্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে যে মালদ্বীপ তাদের ছোট ছোট দ্বীপগুলিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটিয়েছে। যেমন সিঙ্গাপুর তাদের বিকাশ ঘটিয়েছে আমাদের দেশেও আছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। শুধু চাই সমন্বিত পরিকল্পনা আর দেশ প্রেম। তাহলেই ভোলার মনপুরা উপজেলার ঢালচরকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- inbox.odhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত