• শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বাবা পাগল, মা থেকেও নেই; জিপিএ-৫ পেয়েও বিষাদে শারমিন

  মো. রেজোয়ান ইসলাম, নীলফামারী:

১৬ মে ২০২৪, ১৬:০২
বাবা পাগল, মা থেকেও নেই; জিপিএ-৫ পেয়েও বিষাদে শারমিন

বাবা মানসিক প্রতিবন্ধী আর মা থেকেও নেই। বয়োবৃদ্ধ দাদী আর অভাবী চাচার সংসারে বেড়ে উঠা অন্যদিকে নিজের টিউশনির টাকা পড়াশোনায় যোগান দিয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসি-২০২৪ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ায় খুশি হয়েছেন শারমিন আক্তার মনির পরিবারসহ স্কুলের শিক্ষক ও প্রতিবেশীরা। কিন্তু আগামী দিনের উচ্চ শিক্ষার খরচের চিন্তায় সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হচ্ছে শারমিন আক্তার মনির। শারমিন আক্তার মনি ডিমলা উপজেলার ডালিয়া এলাকার মো. বদরুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় গয়াবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।

অদম্য মেধাবী শারমিন আক্তার মনির বাবা মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় ৫ বছর আগে স্বামী সন্তানকে ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে তার মা মোছা. ময়না বেগম। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বদরুলের নিজের বসতবাড়ি না থাকায় চাচার বাড়ীতে দারিদ্র্যের কষাঘাতে বেড়ে ওঠে শারমিন। ছোট পানের দোকান আর বড় সংসারে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শয্যাশায়ী মা আর সন্তানের খরচ বহন করতে যখন হিমশিম খাচ্ছে নাজমুল আলম তখন শারমিনের উচ্চ শিক্ষা যেনো অনেকটাই অধরা।

শারমিন আক্তার মনি বলেন, বাবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়ে সেই টাকা স্কুলের খরচ ও যৎসামান্য দাদীর খরচে যোগান দেওয়ার চেষ্টা করতাম। আমার দাদী ও চাচা অর্থকষ্টের মধ্যেও আমাকে পড়াশোনার খরচ দেওয়ার চেষ্টা করতো। টাকার অভাবে কি কলেজে ভর্তি হতে পারবো না? আমার স্বপ্ন কি "স্বপ্নই" থেকে যাবে? গরিব হয়ে জন্মেছি বলেই হয়তো টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে! আজ পর্যন্ত প্রাইভেট বা কোচিং কাকে বলে আমি জানি না। সহপাঠী ও বড় ভাই-বোনদের বই আর হাতে লেখা নোট ছিল আমার একমাত্র ভরসা। বাবা মানসিক প্রতিবন্ধী। মা থেকেও নেই। ছোট চাচা আর দাদী লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছে। এছাড়া সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের বই পড়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে গেলেও উচ্চশিক্ষা লাভে অর্থের যোগান কোথা থেকে আসবে? কীভাবে আসবে? তাহলে আমি কি ডাক্তার হতে পারবো না? অনেকটাই আবেগপ্রবণ হয়ে এসব কথা বলে অদম্য এই মেধাবী।

এ প্রসঙ্গে শারমিনের চাচা নাজমুল ইসলাম জানান, ৭ জনের সংসারে ছোট পানের দোকানের আয় দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। কিন্তু ভাতিজির কলেজে পড়ালেখার খরচ কোথায় পাব? দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে কোনোরকম বেঁচে আছি খেয়ে না খেয়ে। আমারও ছেলে-সন্তান আছে তারাও লেখাপড়া করে।

শারমিনের প্রতিবেশী সোহেল জানান, মেধাবী ছাত্রী হওয়ার কারণে পড়াশোনার ব্যাপারে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা অনেক সহযোগিতা করেছেন। সেজন্য এসএসসিতে ভালো ফলাফলও করেছে। কিন্তু ভালো কলেজে ভর্তি করতে ও কলেজের পড়ালেখা চালাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। এতো টাকা জোগাড় করা তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

গয়াবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ফরহাদ হোসেন জানান, দারিদ্রতা কখনো মেধাকে দমিয়ে রাখতে পারে না। যার উদাহরণ আমাদের মেধাবী ছাত্রী শারমিন আক্তার মনি। সে আমাদের কলেজে ভর্তি হলে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শারমিন আক্তার মনি সে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে ভালো রেজাল্ট করায় আমরা গর্বিত। প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবানরা নজর দিলে ভালো কলেজে পড়াশোনা আটকাবে না।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড