• শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মরা গরুর গোস্ত বিক্রির সময় ধরা, মুচলেকায় ছাড়া পেল ব্যবসায়ী

  নাজির আহমেদ আল-আমিন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১৮:৩৬
মরা গরুর

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মরা গরুর গোস্ত বিক্রির অভিযোগ র‍্যাবের হাতে আটক হওয়া সোহেল নামে এক যুবক মুচলেকায় ছাড়া পেয়েছে।

আজ (বুধবার) সকালে ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর গাছতলাঘাট বাজারের ভৈরব গোস্ত হাউজে এ ঘটনা ঘটেছে। আটকের ঘন্টাখানেক পর অভিযুক্ত সোহেলকে উপজেলার কান্দিপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আতাউর রহমানের মাধ্যমে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় ক্যাম্প থেকে।

স্থানীয়রা জানান, ভৈরব গোস্ত হাউজের মালিক খোকন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে শহরের গাছতলা ঘাট বাজারে মরা গরু ও চোরাইকৃত গরুর গোস্ত বিক্রি করলেও থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। ১৭এপ্রিল বুধবার সকালে র‍্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা গোস্ত কিনতে এসে মরা গরুর গোস্ত বিক্রির সন্দেহে ভৈরব গোস্ত হাউজের কর্মচারী সোহেলকে আটক করে নিয়ে যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ঘটনার খবর পেয়ে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত গোস্তের দোকানটি বন্ধ। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সকাল আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে র‍্যাব সদস্যরা ভৈরব গোস্ত হাউজের কর্মচারীকে আটক করে নিয়ে যায়। মালিকসহ অন্য কর্মচারীরা কৌশলে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আরও জানান, অভিযুক্ত খোকন মিয়া গরু চোর চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে। ফেরিঘাট বাজারে আগে সে মাংসের ব্যবসা করতো। গত দুইবছর ধরে গাছতলাঘাট বাজারে এসে ব্যবসা শুরু করেন। আনুমানিক তিন/চারমাস আগে গাছতলা ঘাটে মরা গরুর গোস্ত বিক্রি করায় সাধারণ ক্রেতা ও স্থানীয়রা খোকন মিয়াকে আটক করেন। আটকের পর স্থানীয় যুবক ও এক প্রভাবশালী নেতাকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে শেল্টার দেয়ার কারণে এসব অপকর্ম করেও সে বীরদর্পে ব্যবসা করে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, গাছতলা বাজারের ৮/১০টি মাংসের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ভৈরব গোস্ত হাউসসহ আরও কয়েকটি গোস্তের দোকান এসব অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ভৈরব গোস্ত হাউজের মালিক খোকন মিয়া জানান, তার কর্মচারী সোহেল ও ছেলে রুবেল দোকানে ছিলো। এসময় র‍্যাব সদস্যরা মাংস কিনতে আসলে কর্মচারী সোহেলের সাথে তর্কবিতর্ক হয়। এঘটনায় তার কর্মচারীকে র‍্যাব ধরে নিয়ে যায়। ঘন্টাখানেক পর তার কর্মচারীকে র‍্যাব ছেড়ে দিয়েছে বলে জানান। তার দোকানে মরা গরু ও চোরাইকৃত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসাতে হয়ত এসব অভিযোগ কেউ কেউ সামনে আনছে।

এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আতাউর রহমান জানান, তিনি ৮বছর আগে অবসর নেন। এঘটনায় আটককৃত ব্যক্তিকে মুচলেকার মাধ্যমে তিনি ছাড়িয়ে নেন বলে স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে ঘটনার পর র‍্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্পের ডিএডি মো: ইকবাল হোসেনের সাথে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ভৈরব গোস্ত হাউজের নাম বলেন এবং একজন আটকের কথা স্বীকার করেন।

ভৈরব পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাছিমা বেগম জানান, ভৈরবে স্লট হাউস নাথাকায় যত্রতত্রভাবে গরু জবাই করে বিক্রি করছে। প্রাণী সম্পদ অফিস পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানালে তিনি সীল দিয়ে ক্লিয়ারেন্স দিবেন। তারপরও মাংস সতেজ ও ভালো কিনা সপ্তাহে দুইদিন বাজার তদারকি করেন তিনি।

ভৈরব উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান তরফদার বলেন, বিভিন্ন সময় মাংস বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। মাংস অব্যবস্থাপনার অভিযোগে র‍্যাব একজনকে আটক করেছে বলে শুনেছেন। তিনি বলেন, ভৈরবে কোন স্লটার হাউজ নেই। তারপরও উপজেলা প্রশাসনকে নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানান তিনি।

এ বিষয়ে পরে বক্তব্য নিতে র‍্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট মো: ফাহিম ফয়সালের মুঠোফোন নাম্বারে বারবার কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড